নিউজটি শেয়ার করুন

খুটাখালীতে পাহড়ে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পরিবার, নেই প্রশাসনের তৎপরতা

সেলিম উদ্দীন,কক্সবাজার: চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বাস করছে শতাধিক পরিবার। চলতি বর্ষা মৌসুমে যেকোনো সময় পাহাড় ধসে ঘটতে পারে বড় ধরণের দূর্ঘটনা।

বৃহষ্পতিবার দুপুরে ইউনিয়নের পিয়াজ্যাকাটা,লম্বাতলি,দরগাহ পাড়া, বাগাইন্ন্যাপাড়া,সেগুন বাগিচা, গর্জনতলী ও পুর্ব নয়াপাড়ার পাহাড়ে গিয়ে এমনতর চিত্র দেখা যায়।

কক্সবাজারে শুরু হয়েছে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ। এনিয়ে প্রশাসন রয়েছে হার্ডলাইনে। কিন্তুু চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীতে এখন অবধি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরিয়ে নেয়ার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নেই কোনো প্রশাসনিক তৎপরতা।

সরেজমিন দেখা যায়, ইউনিয়নের পুর্বপাড়া সড়ক দিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভিতরে গেলে লম্বাতলি,দরগাহপাড়া,পিয়াজ্যাকাটা পাহাড়ের অবস্থান। এই পাহাড়ের প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে গড়ে উঠেছে ভূমিহীন আর হতদরিদ্র মানুষের বসবাস। পাহাড় কেটে সমতল করে মাটির দেয়াল,বাঁশ, টিন দিয়ে এই ঘরগুলো বানানো হয়েছে। পাহাড়ের চূড়ায় খাঁড়াভাবে পাহাড় কেটে বানিয়েছেন অনেক ঘর। সবমিলিয়ে এসব পাহাড়ে প্রায় ৫ শতাধিক ঘর রয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক রয়েছে ঝুঁকিতে। দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। রয়েছে প্রাণহানির আশঙ্কাও।

জানা যায়, পাহাড়ের এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো বসবাস করে আসছে রির্জাভ জায়গায়। বনবিভাগ কয়েক দফে তাদেরকে উচ্ছেদও করেন। এরপর থেকেই উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুরো ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় বসতি স্থাপন করে। ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও নিরুপায় হয়ে তারা এখানে বসবাস করছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়। স্থানীয় যুবক মো হোছন বলেন, ভূমি নেই, জায়গা কেনার টাকাও নেই। তাই ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে বসবাস করছি।

বৃদ্ধ মোহাম্মদ কালাম বলেন, আমরা এখানে ১০ বছর ধরে বসবাস করছি। কি করব, যাওয়ার তো কোনো জায়গা নেই। প্রশাসনের লোকজন খবর নেন না। এখানে কেউ আসেনও না। এবছরও কেউ আসেননি।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, খুটাখালীতে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসের বিষয়টি আমি অবগত নই। এই প্রথম আপনার কাছে শুণলাম। এলাকাটি আমি সরেজমিন পরিদর্শণ করে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো দ্রুত সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।