নিউজটি শেয়ার করুন

কাবুলে স্কুলে বিস্ফোরণে নিহত ৪০

সিপ্লাস ডেস্ক: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি স্কুলে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণে অন্তত ৪০ জন নিহত ও ৫২ জন আহত হয়েছেন।

শনিবারের এ বিস্ফোরণে হতাহতদের অধিকাংশই ছাত্রী বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, হতাহতদের অধিকাংশই সায়েদ উল শুহাদা স্কুলের শিক্ষার্থী, তারা স্কুল থেকে বের হয়ে আসার সময় বিস্ফোরণগুলো ঘটে।

আফগানিস্তানের টোলোনিউজ টেলিভিশন চ্যানেলের ফুটেজে স্কুলটির সামনের রক্তস্নাত রাস্তার মধ্যে বই ও স্কুল ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা গেছে, হতাহতদের উদ্ধারে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হচ্ছেন।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তারিক আরিয়ান নিহতের সংখ্যা অন্তত ২৫ জন বলে জানালেও বিস্ফোরণের কারণ বা লক্ষ্য সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাননি।

এ পর্যন্ত ৪৬ জন আহতকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুলাম দস্তগীর নাজারি জানিয়েছেন।

আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। তারপর থেকে কাবুলজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করে উচ্চ সতর্কাবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।

আফগান কর্মকর্তারা বলছেন, তালেবান সারা দেশজুড়ে হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে।

শেষ খবর পর্যন্ত শনিবারের হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনো গোষ্ঠী। এ হামলার নিন্দা করে তারা এর সঙ্গে জড়িত নয় বলে জানিয়েছেন তালেবান মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ।

রয়টার্স জানিয়েছে, কাবুলের পশ্চিমাংশের শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় হামলাটি হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে এই এলাকাটিতে বার বার হামলা চালিয়েছে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিরা।

স্কুলটি ছেলে ও মেয়েদের একটি যৌথ উচ্চ বিদ্যালয়, এখানে তিনটি শিফটে ক্লাস হয় এবং দ্বিতীয়টি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন আফগানিস্তানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাজিবা আরিয়ান।

আতদের অধিকাংশই ছাত্রী বলে জানিয়েছেন তিনি।

হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফগানিস্তান মিশন টুইটারে বলেছে, “কাবুলের দাস্ত-ই-বারচি এলাকায় ভয়ঙ্কর এ হামলা ঘৃণ্য সন্ত্রাসবাদী কাজ। একটি গার্লস স্কুলের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো হামলাটি আফগানিস্তানের ভবিষ্যতের ওপর আক্রমণের শামিল।”