নিউজটি শেয়ার করুন

করোনা: অলসতায় মৃত্যুঝুঁকি বেশি

সিপ্লাস ডেস্ক: ছোঁয়াচে করোনাভাইরাসে যত মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের মধ্যে শুয়ে-বসে দিনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়ে দেন- এমন মানুষের মৃত্যুহার বেশি। বিশেষ করে শরীরচর্চায় অনভ্যস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে করোনার গুরুতর উপসর্গ বেশি, মৃত্যুর ঘটনাও বেশি।

করোনায় আক্রান্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষের ওপর চালানো জরিপে উঠে এসেছে এ তথ্য। গবেষণাটি প্রকাশ হয়েছে ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিনে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া স্যান ডিয়েগোসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা যৌথভাবে গবেষণাটি করেছেন।

এতে বলা হয়, মহামারির কমপক্ষে দুই বছর আগে থেকে শারীরিকভাবে খুব একটা সক্রিয় না থাকা করোনা রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে বেশি। এমনকি আইসিইউতে থাকা বেশির ভাগ রোগীর ইতিহাসও বলছে, এমন রোগীদের বেশির ভাগই জীবিত ফিরছেন না।

নতুন এ গবেষণায় করোনায় মৃত্যুঝুঁকির তালিকায় প্রবীণ জনগোষ্ঠী ও অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা ব্যক্তিদের পরই তৃতীয় শীর্ষে রয়েছেন কর্মক্ষম অলস ব্যক্তিরা। এমনকি ধূমপান, স্থূলতা ও উচ্চ রক্তচাপের চেয়েও করোনায় মৃত্যুঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।

করোনাভাইরাসে গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুঝুঁকির বড় কারণ হিসেবে অধিক বয়স, ডায়াবেটিস-হৃদরোগ-ক্যানসারের মতো অসুখ থাকা, স্থূলতা ইত্যাদি তালিকাভুক্ত। এমনকি নারীর তুলনায় পুরুষের মধ্যে করোনায় মৃত্যুহার বেশি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু শারীরিক সক্রিয়তার অভাব এত দিন এ তালিকায় ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে করোনা পজিটিভ ৪৮ হাজার ৪৪০ রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি করা হয়েছে। তুলনা করে দেখা হয়েছে গুরুতর উপসর্গে ভোগা, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, আইসিইউতে চিকিৎসা নেয়া এবং মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য।

এই রোগীদের গড় বয়স ছিল ৪৭ বছর এবং প্রতি পাঁচজনে তিনজন ছিলেন নারী। তাদের উচ্চতা ও ওজনের আনুপাতিক হার বা বিএমআইয়ের গড় ছিল ৩১, অর্থাৎ স্থূলতায় ভুগছিলেন তারা।

বিভিন্ন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি থাকা করোনা রোগীদের অর্ধেকেরই ডায়াবেটিস, ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণ, হৃদরোগ, কিডনির রোগ বা ক্যানসারের মতো গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতা ছিল না। ২০ শতাংশ রোগীর একটি এবং ৩০ শতাংশের বেশি রোগী দুই বা ততোধিক স্বাস্থ্য জটিলতা ছিল।

সব রোগীই ২০১৮ সালের মার্চ থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত কোনো না কোনো সময়ে শরীরচর্চা করেছেন।

এদের মধ্যে ১৫ শতাংশ রোগী পুরোপুরি অলস বা নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। অর্থাৎ সপ্তাহে শূন্য থেকে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট শারীরিক শ্রমের পেছনে ব্যয় করতেন তারা। ৭৮ শতাংশ রোগী শারীরিকভাবে কিছুটা সক্রিয় ছিলেন। সপ্তাহে ১১ থেকে ১৪৯ মিনিট কোনো না কোনো কাজ করে ঘাম ঝরিয়েছেন তারা। আর সুস্বাস্থ্যের নির্দেশনা মেনে নিয়ম করে প্রতি সপ্তাহে দেড় শ মিনিটের বেশি ব্যয়াম করতেন ৭ শতাংশ রোগী।

জাতি, বয়স ও স্বাস্থ্য জটিলতার পর, শারীরিকভাবে সক্রিয়দের তুলনায় নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির হার দ্বিগুণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে। এ ছাড়া অলস ব্যক্তিদের আইসিইউতে ভর্তির হারও ৭৩ শতাংশ বেশি এবং করোনা সংক্রমণে মৃত্যুহারও আড়াই গুণ বেশি।

মাঝেমধ্যে শরীরচর্চা করা করোনা রোগীদের মধ্যে নিয়মিতদের তুলনায় হাসপাতালে ভর্তির হার ২০ শতাংশ বেশি, আইসিইউতে ভর্তির হার ১০ শতাংশ বেশি এবং মৃত্যুঝুঁকি ৩২ শতাংশ বেশি।

পরিসাংখ্যিক তথ্যের দিক থেকে এ গবেষণাকে বেশ জোরদার বলছেন স্বাস্থ্যবিদরা।