নিউজটি শেয়ার করুন

ঈদ বাজারে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি: ব্যবসায়ীদের মাঝে আনন্দের হাসি

মো: মহিন উদ্দীন: আর কয়েকদিন পরে ঈদ! শেষমেশের কেনাকাটায় শপিংমলে ভিড় করছেন ক্রেতা সাধারণ। নিজেদের পছন্দের কাপড় কিনতে গিয়ে একেবারে ভুলে গেছেন করোনার কথা।

আর তেমনই চিত্র চোখে পড়ে আজ মঙ্গলবার (১১ মে) দুপুর একটা থেকে বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত নগরীর রিয়াজউদ্দীন বাজার, তামাকুন্ডি লেইন, জলসা মার্কেট, জহুর হর্কার মার্কেট, টেরী বাজারে। প্রতিটি দোকানে স্বাস্থ্য বিধি উপেক্ষিত। তবে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে বেশ খুশি কঠোর লকডাউনে দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ রাখায় ক্ষুব্দ ব্যবসায়ীরা। এবার খুশির হাসি ফোটে উঠেছে ব্যবসায়ীদের মুখে। একই হাসির ঝলক ক্রেতাদের মুখে।

তবে মার্কেটে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মাকিং করা হলেও কে শুনে কার কথা এমন অবস্থা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মাঝে। মার্কেট-শপিংমলে শিশুদের না নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দরা। 

কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করেই গত রবিবার (২৫ এপ্রিল) দোকানপাট খোলে নগরীর ব্যস্ততম ও জনবহুল মার্কেট হিসেবে খ্যাত টেরিবাজার, রিয়াজউদ্দিন বাজার ও তামাকুমন্ডি লেইনসহ সকল মার্কেট। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দরা। তারপরও কেউ মানছেন না।

য়ারপোর্ট থেকে আসা দু বন্ধু তুষার ও সাকিল সিপ্লাসকে বলেন, আমাদের এলাকায় দোকানপাট ও শপিংমল থাকলেও তেমন কাপড় চোপড় নে। নিজেদের পছন্দ মত কাপড় সাশ্রয়ী মুল্যে কিনতে পারব। তার জন্য আমরা দু বন্ধু হর্কার মার্কেটে চলে আসছি। কাপড় চোপড়ের দাম তেমন বাড়তি ও না আবার তেমন কমও না। আমরা দু বন্ধু ঈদের শপিং করেছি।

বহদ্দারহাট থেকে ১৬ বছরের কিশোর নাছির তার ছোট ভা ও মাকে নিয়ে রিয়াজউদ্দীন বাজার, তামাকুন্ডি লেইন, জলসা মার্কেট ও জহুর হর্কার মার্কেট ঘুরে ঈদের শপিং করেছে। দুই ভাই মুখে মাস্ক পরে আছে, হাতে আছে শপিং ব্যাগ। বেশ ভাল লাগছে দুই ভাইয়ের কাছে।

রিয়াজউদ্দিন বাজার তামাকুন্ডি লেন মোবাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও তামাকুন্ডি লেন বণিক সমিতির যুগ্ন সম্পাদক আরিফুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইতেকাফে আছেন বলে জানান আমিন স্টোরের একজন যুবক।

টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মান্নান বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে ক্রেতা বিক্রেতা সবাইকে অনুরোধ করছি।’ তারপরও কেউ শুনছেন না। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে।

রিয়াজ উদ্দীন বাজার বনিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মো: মাহাবুল আলমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি করোনার কারণে নিজের দোকান ও সমিতির অফিসে আসছেন না বলে জানান একজন কর্মচারী।

জুবলী রোডের দায়িত্বরত সহকারী উপ-পরিদর্শক (ট্রাফিক) মো: আলমগীর সিপ্লাসকে বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার একটু জ্যাম আছে। কারণ সরকারের কঠোর লকডাউনের জন্য দুরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ। তা দুরের লোকজন বাড়িতে যেতে পারছে না। তার জন্য সবা এখন কেনাকাটা করতে ছুটে যাচ্ছে।

ওয়াসার মোডে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট তৌফিক সিপ্লাসকে বলেন, মানুষ করোনার ভয়াবহতা একেবারে ভু্লে গেছে। প্রচন্ড যানজট সৃষ্টি হয়েছে পুরো নগর জুড়ে। তারপরও আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি সকলে নির্বিঘ্নে সড়কে চলাচল করতে পারে। করোনার মাঝেও মানুষ ছুটছে মার্কেটে।