নিউজটি শেয়ার করুন

ঈদগাঁহ ভোমরিয়াঘোনা রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তার যোগসাজশে বনভূমি ধ্বংসের মহোৎসব!

সেলিম উদ্দীন, কক্সবাজার: কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ঈদগাঁহ ভোমরিযা ঘোনা রেঞ্জের আওতাভূক্ত বনবিভাগের জায়গায় অঘোষিত জমিদারী চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তাদ্বয়ের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে উক্ত কর্মকর্তাদ্বয় নানা কায়দায় বনজ সম্পদ উজাড় করে বনবিভাগের জায়গা প্লট আকারে বিক্রি করে ভূমি খেকোদের কাছ থেকে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে এলাকায় প্রচার আছে। তবে বিগত মাস দুয়েক পূর্ব থেকে করোনার কারণে দেশ জুড়ে সরকার লকডাউন জারি করলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রম ভাটা পড়ে। এ সুযোগে লকডাউন যেন তাদের সামনে আশীর্বাদ হয়ে উঠে। উর্ধতন কর্মকর্তাদের সীমিত পরিসরে দায়ীত্ব পালনের কারণে তাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে সংরক্ষিত বনের গাছ উজাড় ও প্লট আকারে বনের জায়গা বিক্রির প্রতিযোগিতা শুরু করে দেয় ভোমরিয়াঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান ও বিট কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন। তারা সরকারি বনজ সম্পদ রক্ষকের দায়ীত্বে থাকলেও রাতারাতি অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়ে বনজ সম্পদ ধৃবংসে প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে। এর অংশ হিসেবে অতি সম্প্রতি ভোমরিয়াঘোনা রেঞ্জের অধীন ঈদগাঁহ-ঈদগড় সড়কের পার্শ্বস্হ মোক্তারের দোকান সংলগ্ন হাজীর বাগান নামে পরিচিত বনের পুরো গাছ বাগান রাতারাতি শতাধিক শ্রমিক দিয়ে উজাড় করে একই এলাকার জানে আলম নামের এক লোকের মধ্যস্থতায় রামু উপজেলার আরিফ নামের এক যুবককে কয়েক একর বনের জায়গা লাখ টাকার বিনিময়ে বাউকুল চাষ করতে তার হাতে তুলে দেয়। ইতিমধ্যে উক্ত আরিফ পুরো বন এলাকা নেড়া করে তাতে প্রাথমিকভাবে কিছু কুল চারা রোপনও করে ফেলে। এ সংবাদ বিভিন্ন মাধ্যমে পদস্থ কর্মকর্তারা অবগত হলে তাদের চোখকে ফাঁকি দিতে অভিযানের নামে লোক দেখানো আইওয়াশ করে দায় সারে। অথচ সরেজমিনে দেখা যায়,ওই বন এলাকায় কুল চারা রোপন চলছে। এ বনের জায়গার পরিমাণ আনুমানিক ৫ থেকে ১০ একর হতে পারে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। উক্ত আরিফের সাথে সরাসরি কথা হলে তিনি জানান, বন বিভাগের সাথে বোঝাপড়া করে জায়গাটি বাওকুল চাষের জন্য নিয়েছেন। তার এ বাগানের নেপথ্যে একজন সংসদ সদস্য ও এক সাবেক ফুটবলারের আশীর্বাদ রয়েছে। যা বিভাগীয় বন কর্মকর্তাও অবগত বলে দাবি করেন তিনি।

ভোমরিয়া ঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের মোবাইলে টানা তিন দিন কল দিয়েও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি তার ইমুতে ঐ জায়গার ছবি এবং ভিডিও পাঠালেও তিনি কোন সাড়া দেননি।

অপরদিকে বিট কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জায়গাটি কৃষি প্লটের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে দাবি করেন। তবে স্থানীয় রেঞ্জ বা বিট কর্মকর্তা এভাবে বনের জায়গা বরাদ্দ দিতে পারেন কিনা জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। বরং প্রতিবেদককে একান্তে দেখা করার অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য, রেঞ্জ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বনজ সম্পদ রক্ষার পরিবর্তে তা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভুমিদস্যু ও বনখেকোদের হাতে তুলে দিয়ে ঐ টাকা সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন মহিলাদের সাথে অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছেন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। এ সংক্রান্ত অসংখ্য ছবি,ভিডিও ও অডিও রেকর্ড ইতিমধ্যে প্রতিবেদকের হস্তগত হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী মূল্যবান এ বনজ সম্পদ রক্ষায় সরেজমিনে তদন্ত করে তা উদ্বারে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।