নিউজটি শেয়ার করুন

আপাতত টিকা নিচ্ছেন না খালেদা জিয়া

সিপ্লাস ডেস্ক: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে আপাতত করোনাভাইরাসের টিকা নিচ্ছেন না বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি নেত্রীর এক স্বজন বলেন, ‘খালেদা জিয়া টিকা নেননি। করোনাভাইরাসের কারণে তিনি গুলশানের নিজ বাসভবন ফিরোজায় অবস্থান করছেন। তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি সমন্বয় করেন লন্ডনে অবস্থানরত তার পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এলে টিকা দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করবেন তার চিকিৎসকরা। তবে স্বজনদের অনেকেই টিকা নিয়েছেন।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে চোখ ও দাঁতের সমস্যা, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসার পর তার টিকা নেওয়া উচিত।’

গত ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভার্চুয়ালি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ওইদিন ২১ জনকে করোনার টিকা দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা করোনার টিকা গ্রহণের বিষয়ে সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসসহ জটিল রোগে ভোগা রোগীরা টিকাদানের বাইরে থাকবেন। তবে শুধু যদি আর্থ্রাইটিসজনিত সমস্যা থাকে, সেক্ষেত্রে হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

বিএনপির নেতাকর্মীরা টিকা নেবেন কি-না জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, দলের নেতাকর্মীরা করোনার টিকা নেবেন। নেতাকর্মীরা নিজ নিজ সুবিধা অনুযায়ী চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা নেবেন।’

তিনি বলেন, আমি করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আমি টিকা নিয়েছি।’

‘বিএনপির নেতাকর্মীরা টিকা নেবেন কি-না’ সম্প্রতি সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘বিএনপির কেউ টিকা নেবেন না, এটা কখনো বলা হয়নি। এটা তো কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। জনগণের টাকায় কেনা ভ্যাকসিন সবাই নেবে। যে সরকারই থাকত তারা এই পদক্ষেপই নিত। তাই দলের নেতারা নিজ নিজ সুবিধা অনুযায়ী টিকা নেবেন।

‘করোনার টিকা নেবেন কি-না?’ জানতে চাওয়া হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এখনো টিকা নেইনি। তবে টিকা নেবো।’

এদিকে দলের যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের নেতা ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর খোরশেদ আলম করোনার টিকা নিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবেদিন ফারুক শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে করোনা টিকা নেন। এ সময় তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমাও টিকা নেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে কারাদ- হওয়ার পর থেকে কারাগারে ছিলেন খালেদা জিয়া। শারীরিক জটিলতার কারণে দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি থাকা অবস্থায়ই খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। এরপর গত বছরের ২৫ মার্চ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয় সরকার। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে মুক্তির মেয়াদ শেষ হলে আবারও দ্বিতীয় দফায় মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বৃদ্ধি করে সরকার। আগামী ২৫ মার্চ তার দ্বিতীয় দফা মুক্তির সময়সীমা শেষ হবে।