নিউজটি শেয়ার করুন

আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর

সিপ্লাস ডেস্ক: পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবেকদর আজ রোববার। পবিত্র কোরআনে শবেকদরের রাতকে মহিমান্বিত বলা হয়েছে। এ রাতের ইবাদতকে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে কদরের রাতে। ‘আল-কদর’ সুরায় বলা হয়েছে, ‘আমি একে নাজিল করেছি শবেকদরে।’
পবিত্র রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের মধ্যে যেকোনো বেজোড় রাত শবেকদর। হজরত উবাদাহ ইবনে সামেদ (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কদরের রাত রয়েছে রমজানের শেষ ১০ রাতের মধ্যে।’
তবে বেশিরভাগ আলেম-ওলামার অভিমত, ২৬ রমজানের দিনগত রাত, অর্থাৎ ২৭ রমজানে পবিত্র শবেকদর।
কদরের রাতকে ক্ষমা লাভের রাত হিসেবেও ঘোষণা করা হয়। সুরা আল-কদরে বলা হয়েছে, এ রাতে জিবরাইল (আ.) আল্লাহর নির্দেশে পৃথিবীতে নেমে আসেন। শান্তির সকল দুয়ার উন্মুক্ত থাকে সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। শেষ আয়াতে বলা হয়, ‘এই নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত থাকে।’
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি মহিমান্বিত রাতে। আর মহিমান্বিত রাত সম্পর্কে তুমি কি জানো? মহিমান্বিত রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।’ (সুরা : কদর, আয়াত : ১-৩)
কদরের রাতে অন্তত যে আমল করা উচিত
বিশেষ করে কদরের রাতে মাগরিব ও এশার নামাজ মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে আদায় করা উচিত। তাহলে হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী শবে কদরের ফজিলত লাভ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি এশা ও ফজর জামাতের সঙ্গে পড়ে, সে যেন সারা রাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৫৬)
শবে কদরে আরো যে আমল করতে পারেন
দুই ব্যক্তি বা পরিবারের মধ্যকার ঝগড়াবিবাদ মিটিয়ে দেওয়া শবে কদরের অন্যতম ইবাদত। উবাদা ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুল (সা.) ‘লাইলাতুল ক্দর’ এর ব্যাপারে খবর দিতে বের হলেন। এ সময় দু্ইজন মুসলমান ঝগড়া করছিলেন। তখন নবী কারিম (সা.) বললেন, ‘আমি আপনাদের ‘লাইলাতুল কদর’ এর ব্যাপারে অবহিত করতে বের হয়েছিলাম। কিন্তু অমুক অমুক ব্যক্তি বিবাদে লিপ্ত হওয়ায় তা (সেই জ্ঞান) উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। আশা করি, উঠিয়ে নেওয়াটা আপনাদের জন্য বেশি ভালো হয়েছে। আপনারা সপ্তম (২৭ তম), নবম (২৯ তম) এবং পঞ্চম (২৫ তম) তারিখে এর সন্ধান করুন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৯)
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম- হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলে দিন, আমি যদি লাইলাতুল কদর কোন রাতে হবে তা জানতে পারি, তাতে আমি কী (দোয়া) পড়বো?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বলবে-
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’
অর্থ : হে আল্লাহ, আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫১৩)
শবেকদর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশবাসী তথা বিশ্বের সব মুসলমানের কল্যাণ কামনা করেছেন।
অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও বিশেষ ইবাদতের মধ্য দিয়ে কদরের রাত অতিবাহিত করবেন। রাজধানীসহ দেশের সর্বত্র মসজিদে মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।