cplusbd

নিউজটি শেয়ার করুন

মেডিকেল অফিসার মৃত ঘোষণার পর ভূয়া চিকিৎসক জানালেন জীবিত

রাউজানে ভূয়া চিকিৎসককে একলক্ষ টাকা অর্থদন্ড

1st Image

রাউজান প্রতিনিধি (২০১৯-০৭-১৫ ১০:১৯:৪৮)

 

রাউজানে তাপস কুমার চৌধুরী(৪৩) নামে এক ভূয়া চিকিৎসকে এক লক্ষ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। দন্ডপ্রাপ্ত এই ভূয়া চিকিৎসক উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের রাজা রামের বাড়ী মৃত বাবুল চৌধুরীর পুত্র।

১৫ জুলাই সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয় টায় রাউজান উপজেলার পৌরসভার নয় নং ওয়ার্ডের ঢালারমূখ চৌধুরী মার্কেটস্থ নিজ চেম্বার রত্না মেডিকেল হল অভিযান চালিয়ে এই ভূয়া চিকিৎসককে আটক করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এহেছান মুরাদের নেতৃত্বাধীন পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত।

ভ্রাম্যমান আদলতের এই টিমে ছিলেন সুলতালপুর ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক শান্তনু পালিত। অভিযানে তার কাছ হতে একটি চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র উদ্ধার করা হয়। উল্লেখিত চেম্বারের ঠিকানা সম্বলিত এই ব্যবস্থাপত্রে 'চিকিৎসক তাপস কুমার চৌধুরী (এলএমএএফ, বি.এস-সি) উল্লেখ রয়েছে।

ভূয়া চিকিৎসকের স্বীকারোক্তি ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকের পরিচয় দিয়ে তাপস কুমার চৌধুরী দীর্ঘ ১২ বছর ধরে নিজ চেম্বারে সর্বপ্রকারের অপচিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। গত ১০ জুলাই উপজেলার পৌরসভার নয় নং ওয়ার্ডের ঢালারমুখ এলাকার সিদ্দিক চৌধুরী বাড়ির শেখ আহমেদ ১২ বছর বয়সী পুত্র এবং সৃজনী গ্রামার স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র শাহেদুল ইসলাম জ্বরে আক্রান্ত হলে কথিত চিকিৎসক তাপস কুমার চৌধুরীর সরণাপন্ন হন। তার দেওয়া ব্যবস্থাপত্রানুসারে কিশোরকে ঔষধ সেবনের তিনঘন্টা পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

এই বিষয়ে স্থানীয় এক ছাত্রলীগকর্মী সিপ্লাস প্রতিবেদকের সাথে যোগাযোগ করলে সিপ্লাস প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে নেমে পড়েন।

এই বিষয়ে ঐ কিশোরের পিতা শেখ আহমদ সিপ্লাস টিভিকে বলেন, নয় জুলাই রাতে আমার ছেলের জ্বর আসে। ১০ জুলাই সকাল ১০ টার দিকে তাপস ডাক্তারকে বাড়ি নিয়ে আসি। তার ব্যবস্থাপত্রানুসারে ঔষধ খাওয়ার তিন ঘন্টা পরে সে চটপট করতে থাকলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে সনদ দিয়ে দেন। সেখান হতে বাড়ি নিয়ে আসলে তাপস ডাক্তার গিয়ে বলেন ছেলে জীবিত আছেন। সরকারী হাসপাতে চিকিৎসা হয় না। জে.কে হাসপাতালে নিয়ে যান। তার পরামর্শ অনুযায়ী জে.কে. হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ১১ জুলাই সকাল ১০ টায় তাকে জানাজা শেষে ফকিরা বাম কবরস্থানে দাফন করা হয়। এই বিষয়ে অভিযুক্ত কথিত চিকিৎসক বলেন ছেলেটি বাবা তাকে বাড়ি নিয়ে যায় তখন তার ১০৪ ডিগ্রি জ্বর ছিল। আমি তাকে দেখে ব্যবস্থাপত্র দিয়। তার ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অনুমোধন আছে কিনা জানতে চাইলে সে নিরব থাকেন। তিনি দাবী করে সাপে কামড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। সাপে কামড়ে যে তার মৃত্যু হয়েছেন এটা কিভাবে নিশ্চিত হলেন জানতে চাইলে তিনি সঠিক কোন জবাব দিতে পারেন নি।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এহেছান মুরাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভূয়া চিকিৎসক হিসেবে নিশ্চিত হওয়ার পর আটক করেন। এই সময় এই ভূয়া চিকিৎসক হাটহাজারী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাস মেয়াদী প্রশিক্ষণের একটি সনদ ছাড়া আর কোন সনদ দেখাতে সক্ষম হন নি। বিভিন্ন ভূয়া পদবী ব্যবহার করে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার অপরাধে তাকে একলক্ষ টাকা অর্থদন্ড অথবা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।