cplusbd

নিউজটি শেয়ার করুন

সন্দ্বীপে সাত দিনে ৬ চুরি, ১ ডাকাতি: বাদ যায়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

1st Image

সন্দ্বীপ প্রতিনিধি (২০১৯-০৭-১৫ ০৯:২০:২৭)

গত এক সপ্তাহ ধরে সন্দ্বীপে চুরি ডাকাতির হিড়িক চলছে। গত এক সপ্তাহে ৬ টি চুরি ও ১ টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার ভোররাতে কালাপানিয়া ইউনিয়নের দীঘিরকোনা বাজারে দুটি দোকানে চুরি হয়। চোরেরা দোকানের তালা ভেঙ্গে সোহাগ সওদাগরের মুদি দোকান থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা ও নিজাম সওদাগরের হার্ডওয়্যার দোকান থেকে ২ লক্ষ টাকা নিয়ে যায় ।

কালাপানিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আলীমুর রাজী টিটু বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র আবার সক্রিয় হয়ে এই চুরির ঘটনাগুলো শুরু করেছে। গত ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার মগধরা ইউনিয়নের বাংলাবাজার প্রকাশ ছউল্লার হাটের জামাল স্টোর, বাতেন স্টোর ও ভাইভাই স্টোর নামে তিনটি দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা ভাইভাই স্টোরে থাকা হাফেজ শাহাবুদ্দীনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দোকানে থাকা নগদ টাকাসহ প্রায় ৬০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে। ১৩ জুলাই শনিবার রাত আনুমানিক দুইটায় আবারো চুরি হয় পাশ্ববর্তী মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ দুটি দোকানে। চুরি হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটি হল পূর্ব মাইটভাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাউথ সন্দ্বীপ ডিগ্রী কলেজ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানাযায়, শনিবার রাত আনুমানিক দুইটায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেইটের তালা ভেঙ্গে প্রধান শিক্ষকের একটি লেপটপ নিয়ে যায়। এসময় চোর একটি আলমারির দরজা ভাংচুর করে। তবে আলমারি থেকে কিছু নেইনি বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন। একই সময় সাউথ সন্দ্বীপ ডিগ্রী কলেজের তিনটি কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙ্গে চোরদল কলেজে প্রবেশ করে দুইতলার কম্পিউটার ল্যাবের তালা ভাঙ্গার চেষ্টা করে। শব্দ শুনে কলেজের অধ্যক্ষ ও নাইটগার্ড বেড়িয়ে আসলে চোর পালিয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সুরাইয়া বেগম জানান, চোরের তালা ভাঙ্গার শব্দ শুনে আমরা বেরিয়ে আসলে টের পেয়ে চোর পালিয়ে যায়। তবে তারা কিছু চুরি করে নিতে পারেনি। একই রাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটির মাঝামাঝি অবস্থানের কারামতিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন বাজারের একটি ও তার পাশের আরেকটি তেমাথার দোকানের তালা ভেঙ্গে নগদ টাকা ও মালামাল চুরি হয়। চুরির ঘটনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন সন্দ্বীপ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।সন্দ্বীপ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশের ওসি শেখ শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি চুরি ও ডাকাতির ঘটনা শুনে আমি নিজে ওসি (তদন্ত) সহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এই বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে মগধরা ইউনিয়নের ছউল্লার হাটে দোকান ডাকাতির ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, চুরি এবং ডাকাতির ঘটনাগুলোর এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা করেনি ভুক্তভোগীরা। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবী, প্রতিটি ঘটনায় ভুক্তভোগীদের প্রতি মামলা করতে আহবান জানিয়েছেন তারা। উপজেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরীর পদ থাকলেও অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাতে কেউ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। কয়েকদিন আগে সন্দ্বীপের আরো একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চুরি সহ একটি ঘরে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির হঠাৎ অবনতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সন্দ্বীপের বিশিষ্টজনেরা।