cplusbd

নিউজটি শেয়ার করুন

মহেশখালীতে হতে যাচ্ছে বাইপাস সড়ক

1st Image

এ.এম হোবাইব সজীব,মহেশখালী (২০১৯-০২-১১ ১২:২৭:০৬)

বাংলাদেশের ২য় টুঙ্গিপাড়া নামে খ্যাত মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে হতে যাচ্ছে বাইপাস সড়ক। এ বাইপাস সড়ক নির্মাণের সাথে সাথে বর্ষায় এলাকা জলবদ্ধতা কমে যাবে। তা ছাড়া রোধ করা যাবে যানবাহনের যানজট, সড়ক দূর্ঘটনা। পাশাপাশি লোকজন যাতায়ত ও মালামালবাহী যান চলাচলে আর দূর্ভোগে পড়তে হবেনা।

এ সব চিন্তা করে মাতারবাড়ীর ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার মোহাম্মদ উল্লাহ্ মাতারবাড়ীর দক্ষিণ রাজঘাট থেকে শুরু করে ফুলজান মুরা বিল পাড়া হয়ে মগডেইল বাজারের পূর্ব পাশ দিয়ে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের সড়ক পর্যন্ত দীর্ঘ ১ শত ৫০ চেইন বিশিষ্ট একটি সড়ক নির্মাণের কাজে হাত দিয়েছেন।

উক্ত সড়কের পূর্ব পাশে হবে গাইড ওয়ালসহ ছোট-বড় ৪টি কালভার্ট।

এ সড়কটি নির্মাণের জন্য গত ৮ ফের্রুয়ারী এস্কেভেটার গাড়ি দিয়ে মাটি কাটার কাজ শুভ সূচনা করেছেন। সড়কে মাটি ফেলার কাজ শুভ উদ্বোধন করায় এলাকার নারী-পুরুষরা উল্লাসে মেতে উঠেছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানা যায়, মাতারবাড়ী রাজঘাট থেকে সাইরার ডেইল পর্যন্ত বয়ে যাওয়া সড়কটির দু’ পাশে রয়েছে বসতবাড়ি সহ শত শত দোকান। এ সড়কটি হচ্ছে মাতারবাড়ীর প্রধান সড়ক।

বর্তমানে মাতারবাড়ীতে দেশের বৃহত্তম দু’টি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপিত হতে যাচ্ছে। এ ছাড়া একটি গভীর সমুদ্র বন্দর ও হতে যাচ্ছে। জাপানী সংস্থার জাইকা কোম্পানির মাধ্যমে ১৪ শত ১৪ একর অধিগ্রহণকৃত ভূমিতে ২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। এ সব অবকাঠামো নির্মাণের মালামাল উক্ত সড়ক দিয়ে নিতে গাড়ি চালকদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। মালামালবাহী যানবাহনের কারণে স্কুল, মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচল করতে সীমাহিন দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। এমনকি যানবাহনের কারণে এ সড়কে দূর্ঘটনা ও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে পানি নিষ্কাশনের সমস্ত স্লুইচ গেইট কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দেয়ায় গত ২ বছর ধরে পুরো মাতারবাড়ি বর্ষায় ডুবে থাকে। এতে এলজিএসপি আর এর ব্রিক সলিং কাজ, কর্মসৃজনের মাটির কাজ সহ বিভিন্ন ভাবে নির্মাণ করা সড়ক ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায়। বসতবাড়ি ও দোকান ঘরে মজুদ থাকা খাদ্য সামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামাল ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট হয়ে যায় বই, খাতাসহ বিভিন্ন লেখাপড়ার মূল্যবান কাগজপত্র।

এ সব দূর্ভোগ থেকে এলাকাবাসীকে মুক্ত করতে চেয়ারম্যান মাষ্টার মোহাম্মদ উল্লাহ্ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার, এলাকার রাজনীতিবীদ ও সচেতন মহলের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে মাতারবাড়ী দক্ষিণ রাজঘাট থেকে ফুলজান মুরা বিল পাড়া হয়ে মগডেইল বাজারের পূর্ব পাশ দিয়ে কয়লা বিদ্যুৎ পর্যন্ত একটি বাইপাস সড়ক করার প্রস্তাব করলে সকলে উক্ত প্রস্তাবে সাড়া দেয়ায় তিনি নিজে উক্ত বাইপাস সড়কটি নির্মাণের হাত দিয়েছেন।

এ সড়ক নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করতে গত ৮ ফেব্রুয়ারী সকাল থেকে এস্কেভেটার মাটি কাটার কাজ শুভ সূচনা করায় এলাকার নারী-পুরুষরা উল্লাসে মেতে উঠেছে। উক্ত সড়কটির নির্মাণের কাজ দেখতে যাচ্ছেন শত শত নারী-পুরুষ।

এ প্রসংগে একদল সাংবাদিক চেয়ারম্যান মাষ্টার মোহাম্মদ উল্লাহ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমস্ত স্লুইচ গেইট কোল পাওয়ার কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দেয়ায় ২ বছর ধরে মাতারবাড়ি বাসী কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। যার কারণে ৩ হাজার একর জমিতে হাল চাষ ও লবণ উৎপাদন করতে পারেনি এখানকার লোকজন। বহু আবেদন-নিবেদনের পর কোল পাওয়ার কর্তৃক গেল বর্ষার মৌসুমে ছোট ক্যানেল করে যে পাইপ লাইন বসা হয়েছে ঐ পাইপ লাইন দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। তবু ও পাইপ লাইন বসার কারণে বর্তমানে বহু জমিনে হাল চাষ সহ লবণ উৎপাদনে সক্ষম হচ্ছে। কিন্তু কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যবহৃত বর্জ্য ও বালি এবং কাদা মাটির কারণে মাতারবাড়ি কোহলিয়া নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় ঐ পাইপ লাইন এখন কোহলিয়া নদীর তল দেশ থেকে নিচু হওয়ায় পানি পর্যাপ্ত পরিমাণ যাওয়া-আসা করতে পারছে না। ফলে বর্ষা আসার সাথে সাথে আবারো পুরো মাতারবাড়ীতে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। দূর্ভোগে পড়বে এখানকার লোকজন সহ কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ঠিকাদাররাও। এসব চিন্তা ভাবনা করে এলাকাকে জলবদ্ধতা সহ বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্ত করতে এ বাইপাস সড়কটি নির্মাণ করতে যাচ্ছে। এটি হবে বাইপাস সড়ক পাশাপাশি গ্রাম রক্ষা বাঁধ ও বলতে পারেন।

এ সড়কটি নির্মাণের ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন মাটির কাজ, কালভার্ট ও গাইড ওয়াল প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ হবে। আপাতত নিজের উদ্যোগে প্রাথমিকভাবে মাটি কাটার কাজ শুরু করেছি। সরকার এবং কোল পাওয়ার থেকে এ টাকা সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করব।