cplusbd

নিউজটি শেয়ার করুন

স্বাধীনতার পর মাত্র দু’জন চিকিৎসকের নিবন্ধন বাতিল করেছে বিএমডিসি

রাইফা হত্যা : ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিলেও জানে না বিএমডিসি!

2018-07-12 07:28:31
1st Image

আর ডি রুবেল: চট্টগ্রামে সাংবাদিক কন্যা রাফিদা খান রাইফা’র চিকিৎসায় অবহেলার ফলে মৃত্যুর কারণে দায়ী ম্যাক্স হাসপাতালের তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)কে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও তা জানে না বিএমডিসি। তারা বলছে, এ ব্যাপারে তারা এখনো কোন অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলেই তারা তদন্ত করতে পারবে।
তদন্ত কমিটি'র প্রতিবেদনে শিশু রাইফার মৃত্যুর জন্য চিকিৎসায় অবহেলাকেই দায়ী করা হয়েছে৷ আর এজন্য ম্যাক্স হাসপাতালের তিন জন চিকিৎসক ডা. বিধান রায় চৌধুরী, ডা. দেবাশীষ সেন গুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে৷ আর তারই প্রেক্ষিতে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিএমডিসিকে ওই তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন৷ গত ১ জুলাই রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সংক্রান্ত এক সভায় ম্যাক্স হাসপাতালের লাইসেন্স নিয়ে অনিয়ম আগামী ১৫ দিনের মধ্য দূর করারও নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী৷ ভুল চিকিৎসার অভিযোগ নিয়ে যে-কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন নম্বর সম্বলিত একটি সাইন বোর্ড সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে স্থাপনের জন্যও সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷ কিন্তু তিন চিকৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশের বিষয়টি বিএমডিসি জানে না!
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএমডিসির রেজিস্ট্রার ডা. মো. জাহেদুল হক বসুনিয়া সিপ্লাসকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো নির্দেশ আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে এখনো পাইনি৷ এছাড়া চট্টগ্রামের ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনরাও আমাদের এখানে কোন অভিযোগ করেনি। আমরা ওই তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার কথা এখনো ভাবছি না বা এ নিয়ে আমরা কোনো কাজও করছি না।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ করলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিই৷ তবে আমরা সাধারণত নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে কোনো ঘটনা তদন্ত করি না৷ তবে আমরা উদ্যোগ নিয়ে কোনো ঘটনার তদন্ত করলে তাতে কোনো বাধা নেই৷ অভিযোগ পেলে আমাদের একটি শৃঙ্খলা কমিটি আছে, তারা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করেন৷
গত এক বছরে বিএমডিসিতে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কয়টি অভিযোগ পড়েছে জানতে চাইলে বিএমডিসি’র তথ্য কর্মকর্তা আনোয়ার উল্লাহ সিপ্লাসকে বলেন, এক বছরের তথ্য এখন আমার কাছে নেই। তবে গত ৬ মাসে মোট ৪০টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে নিষ্পতি হয়েছে ৫টির। বাকিগুলো এখনো তদন্ত চলছে।
তিনি বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের কাছে অভিযোগ আসে ভুয়া ডাক্তার, রেজিস্ট্রেশনবিহীন হাসপাতাল এসবের বিরুদ্ধে। ভুল চিকিৎসা বা চিকিৎসায় অবহেলা এ ধরণের অভিযোগ খুব কম। যদিও বা আসে তাহলে অভিযুক্ত ডাক্তার ও ভুক্তভোগী রোগী নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে নেয়। ফলে ভুক্তভোগী রোগী নিজের করা অভিযোগ বিএমডিসি থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। তখন আর বিএমডিসি’র কিছু করার থাকে না।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলা বা ভুলের অভিযোগ থাকলেও সুষ্ঠুভাবে তদন্ত না করার কারণে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পায় না বিএমডিসি। ফলে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। স্বাধীনতার পর থেকে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলা ও ভুলের কত অভিযোগ জমা পড়েছে, সেই হিসাবও প্রতিষ্ঠানটির নেই। নানা অভিযোগের হিসাব রাখা হচ্ছে ২০০৪ সাল থেকে। যেগুলো আছে সেগুলোর মধ্যে কতটি অভিযোগ চিকিৎসায় ভুল বা অবহেলার, তার পৃথক কোন হিসাব নেই।
সূত্র জানায়, চিকিৎসকদের পেশা চর্চার অনুমতি দেয় বিএমডিসি। অসদাচরণ, অবহেলা বা ভুলের কারণে রোগীর ক্ষতি হলে সেই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে, এমনকি নিবন্ধন বাতিল করতে পারে বিএমডিসি। তবে স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র দুজন চিকিৎসকের নিবন্ধন বাতিল করেছে এই প্রতিষ্ঠান। প্রথমটি কুমিল্লার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায়। দ্বিতীয় ঘটনায় নিবন্ধন বাতিলের সঙ্গে চিকিৎসার সম্পর্ক ছিল না।