cplusbd

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশন

2018-07-12 06:48:58
1st Image

সিপ্লাস প্রতিবেদক: বাংলাদেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইটি খাতে সিঙ্গাপুর বিনিয়োগে আগ্রহী বলে মন্তব্য করেছেন সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশনের (এসবিএফ) চেয়ারম্যান টিও সিয়ং সেং।

তিনি বলেন, উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণসহ সার্বিক সহযোগিতা করবে সিঙ্গাপুর। এ ছাড়া ব্লু ইকনোমি, পাওয়ার, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সিঙ্গাপুর কাজ করতে বদ্ধ পরিকর। সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনে আগামীতে সহযোগিতা দেবে। আর্থিক খাতে দক্ষিণ এশিয়ায় বিনিয়োগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ পরিকল্পনা রয়েছে সিঙ্গাপুরের।

বন্দরের কারণে চট্টগ্রাম বিনিয়োগের উপযুক্ত স্থান বলেও উল্লেখ করেন টিও সিয়ং সেং।

বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) সিঙ্গাপুরের ২৫ সদস্যের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বোর্ড অব ডাইরেক্টর্স, ব্যবসায়ী নেতা ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম সভাপতিত্ব করেন।

এ সময় বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ইকনোমিক জোনস অথরিটির (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী, চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, তুর্কির অনারারি কনসাল সালাহ্উদ্দীন কাসেম খান, ইতালির অনারারি কনস্যুল মীর্জা সালমান ইস্পাহানী ও উইম্যান চেম্বারের সহ-সভাপতি মুনাল মাহবুব বক্তব্য দেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ বন্দর সম্প্রসারণ বিষয়ে তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন।

চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম চট্টগ্রামকে স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলা, চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা বন্দরের উন্নয়ন এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞ সহায়তা ও বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন।

তিনি চিকিৎসা প্রার্থী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের জন্য চট্টগ্রামে সিঙ্গাপুরের ভিসা সেন্টার ও বিভিন্ন হাসপাতালের বুথ স্থাপনের অনুরোধ জানান।

যোগাযোগের সুবিধার্থে ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিঙ্গাপুর বিমান চলাচল চালু করা, সরকারি পর্যায়ে জনশক্তি রপ্তানিতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন এবং এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করে চেম্বার সভাপতি বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সিঙ্গাপুরের মাধ্যমে অন্যান্য দেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি করতে প্রতিনিধিদলের প্রতি আহ্বান জানান।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবেশদ্বার উল্লেখ করে বলেন, আগামী দিনের ব্যবসা-বাণিজ্য হবে নলেজ বেইজড।

তিনি সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কাজ করার ওপর গুুরুত্বারোপ করেন।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনীতির অব্যাহত অগ্রযাত্রায় চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

তিনি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের ব্যবসাবান্ধব আইন পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রদানসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা, বাংলাদেশ তথা চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের চলমান এবং ভবিষ্যৎ বিভিন্ন প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সৈয়দ জামাল আহমেদ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চেম্বারের পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর, মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন, মো. জহুরুল আলম, মো. রকিবুর রহমান টুটুল, অঞ্জন শেখর দাশ, মো. আবদুল মান্নান সোহেল, বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের সভাপতি মো. শহীদুজ্জামান ও সাবেক সভাপতি মির্জা গোলাম সবুর, জাপানের অনারারি কনস্যুল জেনারেল মো. নুরুল ইসলাম, ইপিবির পরিচালক কংকন চাকমা, চিটাগাং ক্লাব লিমিটেডের চেয়ারম্যান মিয়া মো. আব্দুর রহিম, চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, ওয়াসিউর রহমান চৌধুরী ও মোহাম্মদ মহসিন, বিকেএমইএর সাবেক পরিচালক শওকত ওসমান, উইম্যান চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবিদা মোস্তফা, লুব-রেফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুফ, ব্যবসায়ী নেতা তাহের সোবহান, বিডার উপ-পরিচালক সুমন চৌধুরী প্রমুখ।

সভাশেষে সিঙ্গাপুর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিজনেস ম্যাচিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধি দল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এক্সিবিশন হল, লুব-রেফ ও পিএইচপি গ্রুপ পরিদর্শন করেন।