cplusbd

নিউজটি শেয়ার করুন

থাই কিশোরদের প্রথম ভিডিও ছবি প্রকাশ

1st Image

সিপ্লাস ডেস্ক (২০১৮-০৭-১২ ১২:৩০:৩৯)

হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত ভিডিও ছবিতে প্রথমবারের মতো দেখা পাওয়া গেল গুহা থেকে উদ্ধার পাওয়া থাই কিশোর ফুটবলারদের।
বুধবার প্রকাশ করা এ ভিডিওয় দেখা গেছে, কিশোররা বেডে বসে আছে। তাদের মুখে মাস্ক আর পরনে হাসপাতালের গাউন।

একটি সংবাদ সম্মেলনে ভিডিওটি দেখানো হয়। ৪০ সেকেন্ডের এ ভিডিওতে কিশোরদেরকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কক্ষে পাশাপাশি বিছানায় শুয়ে বা বসে থাকতে দেখা গেছে। তাদের মুখে ছিল হাসি।

কেউ কেউ ক্যামেরা দেখে বিজয় সূচক ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়েছে। কেউ আবার হাতজোড় করে নমস্কারও জানিয়েছে। তবে কাউকে কথা বলতে শোনা যায়নি।

কিশোরদের পরিবারের সদস্যদেরকে কাঁচের দেয়ালের বাইরে থেকে তাদের দেখে হাত নাড়তে দেখা যায়। গুহা থেকে কিশোররা উদ্ধার হওয়ার পর এদিনই বাবা-মায়েরা তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান।

উদ্ধার হওয়া প্রথম ৮ কিশোরের বাবা-মা তাদের সঙ্গে দেখা করতে পেরেছেন। কিন্তু ৭ ফুট দূর থেকে দেখা করতে দেওয়া হয় তাদেরকে। ফলে সন্তানদেরকে বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করার সুযোগ পাননি তারা।

বাবা-মায়েদেরকে পরানো হয়েছিল হাসপাতালের সুরক্ষা গাউন ও মাস্ক। কিশোরদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনো উদ্বেগ থাকায় নিয়ন্ত্রিতভাবে স্বজনদের সঙ্গে তাদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

কিশোরদেরকে ১০ দিন পর্যন্ত হাসপাতালে থাকতে হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক। এরপর শারিরীক শক্তি ফিরে পাওয়ার জন্য বাড়িতেও ৩০ দিন মত বিশ্রামে থাকতে হবে তাদের।

গুহার ভেতর দীর্ঘদিন আটকে থাকা এবং বিপদজনক উদ্ধার অভিযানের ধকল সামলে নিতে ওই ১২ কিশোর ও তাদের কোচকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের খবর প্রকাশ পেয়েছে।

থাই নেভি সিল থেকেও গুহার ভেতরে কিশোরদের উদ্ধার অভিযানের কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। নেভি সিলের কমান্ডার বলেছেন, তাদের শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযানটি কোনো ‘বীরোচিত অর্জন’ নয় বরং প্রত্যেকের সহযোগিতার কারণেই দুরূহ কাজটি সম্পন্ন করা গেছে।

উদ্ধার কাজে সরাসরি অংশ নিয়েছেন এমন কয়েকজন ডুবুরির বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, অন্ধকার, সংকীর্ণ ও পানির ভেতর ডুব দিয়ে পথ অতিক্রমের সময় কিশোররা যাতে আতঙ্কিত না হয় সেজন্য কড়া ডোজের ঘুমের ওষুধ দিয়ে তারপর তাদের বের করে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল।

এরপর প্রত্যেক কিশোরকে তাকে বের করে আনার দায়িত্বে থাকা দুই ডুবুরির একজনের শরীরের সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হয়। এভাবেই তাকে পানির ভেতর ডুব দিয়ে আসা পথে বয়ে আনা হয়। তারপর যে অংশটুকু হেঁটে পার হওয়া গেছে সেই অংশটুকুতে কিশোরদের স্ট্রেচারে করে বয়ে আনা হয়।

যদিও মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা কিশোরদের গুহা থেকে বের করে আনার সময় ঘুমের ওষুধ নয় বরং স্বল্প মাত্রায় নার্ভ শান্ত রাখার ওষুধ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছিলেন।

কিন্তু কিশোরদের বের করে আনার সময় গুহা মুখে ছিলেন এমন কয়েকজন বলেন, ওই সময়ে কিশোরদের সামান্য চেতনাই ছিল।

গত ২৩ জুন ‘ওয়াইল্ড বোয়ার’ নামে ওই কিশোর ফুটবল দলটির ১২ সদস্য ও তাদের কোচ এক কিশোরের জন্মদিন উদযাপন করতে চিয়াং রাই প্রদেশের ওই গুহায় প্রবেশ করে।

দলটি প্রবেশের পর ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে গুহার ভেতর পানি ঢুকে তাদের বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়।

নিখোঁজ হওয়ার ৯ দিন পর দুই ব্রিটিশ ডুবুরি গুহামুখ থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে তাদের সন্ধান পান এবং ১৭ দিন পর গত মঙ্গলবার তাদের সবাইকে গুহা থেকে বের করে আনার কাজ শেষ হয়।

রোববার ও সোমবার চার জন করে এবং মঙ্গলবার চার কিশোর ও তাদের কোচকে গুহা থেকে বের করে আনেন ডুবুরিরা।

কিশোরদেরকে ধকল সামলে ওঠার জন্য আরো কিছু সময় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “তাদেরকে এখন আর বিরক্ত না করে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে দেওয়াটাই সবচেয়ে ভাল হবে।”

কিশোরদের উদ্ধার অভিযানটি সারা বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। স্যোশাল মিডিয়ায় দেখা গেছে আনন্দসূচক ‘ইয়াহু!’ হ্যাসট্যাগের ছড়াছড়ি। উদ্ধারকারীদেরকে সমর্থন দিয়েছে গোটা বিশ্বের অসংখ্য মানুষ।

ঘটনাটি সাড়া জাগিয়েছে রাশিয়ার বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরেও। খেলার চূড়ান্ত পর্যায়ে উঠে আসা ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা থাই কিশোরদের উদ্ধারের খবরকে স্বাগত জানিয়ে টুইটারে তাদের জন্য শুভকামনা করে বার্তা পাঠিয়েছে।