নিউজটি শেয়ার করুন

যশোরে মধ্যরাতে বিএনপি নেতাদের বাড়িতে তাণ্ডব

সিপ্লাস ডেস্ক: যশোর সদর উপজেলা নির্বাচনের তিন দিন আগে গভীর রাতে বিএনপির কার্যালয় ও জেলা নেতাদের বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার শহরের বিভিন্ন স্থানে জেলা বিএনপির সাত নেতার বাড়িতে তাণ্ডব চালায়; পরে লালদিঘির পাড়ে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে তালা লাগিয়ে দেয় বলে নেতাদের অভিযোগ।

আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) অনুষ্ঠেয় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে বিএনপি অভিযোগ করছে। তাবে আওয়ামী লীগ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিকে, এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার পর থেকে ৩টা/সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দুর্বৃত্তরা একাধিক প্রাইভেট কার, ২০টির অধিক মোটরসাইকেল নিয়ে জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের সাত নেতার বাড়ির সামনে গিয়ে ইট-পাটকেল ছুড়ে ভাংচুর ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এই সময় ওই নেতাদের পরিবারের শিশুসহ নারীরা আতংকিত হয়ে পড়েন।

হামলাকারীরা নৌকার পক্ষে শ্লোগানের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনের মাঠে না নামার জন্য হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন খোকন।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নার্গিস বেগম, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদস্য সচিব সাবেরুল হক সাবু, সদস্য মিজানুর রহমান খান, আনিচুর রহমান মুকুল, গোলাম রেজা দুলু ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চুর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দলের নেতারা জানান।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নার্গিস বেগম বিএনপির প্রয়াত নেতা সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের স্ত্রী। তার ছেলে বিএনপি কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও ওই সময় বাড়ি ছিলেন বলে খোকন জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন জানান।

জেলা যুবদলের প্রচার সম্পাদক এসকেন্দার আলী জনির অভিযোগ, রাত ২টার দিকে প্রথমে একটি মোটরসাইকেলে করে দুই জন এসে দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়ায়। ওই সময় তিনি (জনি) উপনির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা থেকে ভোটারের স্লিপ তৈরির কাজ শেষে বের হন। মোটরসাইকেল আরোহীরা তার সামনে এসে দাঁড়িয়ে কোমর থেকে পিস্তল বের করে হুমকি দেয়।

হামলাকারীদের একজন বলে, “তোকে চার খণ্ড করে ফেলব, ভোট করা বের করছি।”

তিনি বলেন, এই সময় আরও ২০টি মোটরসাইকেল ও দুইটি প্রাইভেট কার এসে দাঁড়ায় এবং আরোহীরা নেমে দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে ভাংচুর চালায় এবং ভেতরে কয়েকজনকে মারপিট করে। তারা ভোটার তালিকা ও স্লিপ নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় কার্যালয়ের দুই প্রবেশ পথের দরজায় তালা লাগিয়ে যায়।

হামলাকারীদের চিনেছেন কিনা জানতে চাইলে জনি বলেন, “অধিকাংশই তো মুখ চেনা।”

তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণে তিনি কারও নাম বলতে চাননি।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, এই তাণ্ডবের সময় যশোর কোতয়ালি থানার ওসি ফোন দিয়ে অভিযোগ করা হলেও তিনি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। শুধু বলেন- ‘আমি ফোর্স পাঠাচ্ছি।’

খোকন আরও বলেন, “এই সরকারের আমলে সব নির্বাচনেই এমনটা হচ্ছে। এই নির্বাচনেও তাই হলো। বিএনপি নির্বাচনের মাঠে ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সেই প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করে নির্বাচন ভোটার শূন্য করার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ এই তাণ্ডব  চালিয়েছে। এতে আমরা হতাশ হইনি। ভোটারদের নির্বাচন কেন্দ্রে আনতে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব আমরা।”

বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার।

তিনি বলেন, “আমি ঢাকায় রয়েছি। আমার ধারণা এটা বিএনপির পাতানো খেলা। নির্বাচন আসলেই বিএনপি আগাগোড়া এমন করে। ভোটে পাস করতে পারবে না জেনে তারা এমন করে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করে।”

যশোর কোতয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, “রাতে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ পেয়েই ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।”

কারা এর সঙ্গে জড়িত জানতে চাইলে ওসি বলেন, তারা (বিএনপি) এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার জাতীয় সংসদের যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই কারণে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন হচ্ছে। আগামী ২০ অক্টোবর ভোট গ্রহণ।

বিএনপি মহাসচিবের নিন্দা ও প্রতিবাদ

যশোরে বিএনপি নেতাদের বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।