নিউজটি শেয়ার করুন

সদরঘাটে কিশোর গ্যাং নেতা কায়সারের রাজত্ব: খতিয়ে দেখছে পুলিশ

বিজ্ঞাপন

সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম নগরীর বাণিজ্যিক অঞ্চল সদরঘাটে চলছে জনৈক আবু কায়সারের নানা অপকর্ম। তার বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ঘাট দখল, ভূমিদস্যুতাসহ নানা অভিযোগ।

বিভিন্ন অন্যায় কর্মকান্ড হুমকি ধমকির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে  সদরঘাট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক কাউন্সিলর আবু জাফরের সন্তান মাসুদুর রহমান (জিডি নং৬১৮, তারিখ: ১৩ অক্টোবর ২০২০)

নিজেকে তথাকথিত প্রজন্মলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে আবু কায়সার স্থানীয় টোকাইদের নিয়ে গড়ে তোলা বাহিনীর মাধ্যমে রাতারাতি হয়ে উঠেছে কোটি টাকার মালিক।

অথচ প্রজন্মলীগ নামে আওয়ামী লীগের কোন অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন

স্থানীয় এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা যায়, সদরঘাটে নৌরুটে মাদকের চালান খালাসের পথ তৈরি করেছেন জনৈক আবু কায়সার  সন্দ্বীপহাতিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জলদস্যুতায় রয়েছে তার মদদ। নগরীর সদরঘাট নৌরুট থেকে বিআইডব্লিউটিসি পর্যন্ত সড়কের এক পাশ দখল করে গড়ে তোলেছেন ভাসমান দোকান। এছাড়া তার নেতৃত্বে এলাকায় বিভিন্ন মালামাল টাকাপয়সা ছিনতাই নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। মাঝিরঘাট থেকে চালান হওয়া খালাস হওয়া নৌ জাতীয় দ্রব্য এবং জিনিসপত্র চুরির সাথে জড়িত তার নিয়ন্ত্রিত কিশোর গ্যাং। তারা বিভিন্ন অপকর্মে অপরাধীদের অস্ত্র সরবরাহের কাজেও জড়িত। সদরঘাট লাইটার জেটিতে রয়েছে তার নানা অপরাধমূলক কার্যক্রম। কর্ণফুলীতে মাছ ধরার জাহাজ, লাইটার জাহাজের পণ্য খালাসকারী কেউ তার কাছে নিরাপদ নয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে চাঁদা ও মাসোয়ারা সংগ্রহে তার বাহিনী সবসময় সক্রিয়। সদরঘাটের গুদাম, দোকান ও জমি বেচাকেনার ক্ষেত্রে তার বাহিনী আদায় করে নির্দিষ্ট অংকের কমিশন। তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তেল চোরের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। 

আবু কায়সার ছিল এক সময় খুচরা মুরগী বিক্রেতা। যে কারণে সে এলাকায় মুরগী কায়সার নামে পরিচিত। ইসলামীয়া কলেজের সাবেক ভিপি খলিলুর রহমান নাহিদের সাহায্য সহযোগীতায় তার জাতে উঠা। অথচ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার পর নাহিদের সাথে ঘটিয়েছে ১টি ৫ লাখ ও আরেকটি ১০ লাখ টাকার চেক প্রতারণার ঘটনা। এ ব্যাপারে খলিলুর রহমান নাহিদ তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল ডিমান্ড নোটিশ জারি করেছেন। পাশাপাশি তিনি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন বলে জানিয়েছেন।

আবু কায়সারের এসব নানা অপকর্মের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য এম.এ লতিফ এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের কাছে স্থানীয়রা এসব বিষয় উপস্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে।

সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলুর রহমান ফারুকী এ প্রসঙ্গে জানান, ‘আবু কায়সারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে নানা অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মুঠোফোনে আবু কায়সারের কাছে এ ব্যাপারে মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এলাকায় এসে খবর নিয়ে দেখেন কারা নানা অপকর্মের সাথে জড়িত। আমরা বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছি। খুব সহসাই অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’