নিউজটি শেয়ার করুন

ঈদগাঁহতে ট্রাফিক পুলিশ নামে আছে, কাজে নাই

সেলিম উদ্দীন, কক্সবাজার: কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁঁহ বাসস্ট্যান্ডস্থ আরকান সড়ক ও বাজারে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ জনবল সংকটে ভুগছে দীর্ঘদিন থেকে। মাত্র ৩ জন জন পুলিশ নিয়ে চলছে ঈদগাঁঁহ ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম। সেখানও নিয়মিত ডিউটি করে না টিআই। ফলে সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে শৃঙ্খলা ফিরে আনা সম্ভব হচ্ছে না। যানবাহনের আধিক্য প্রকট হয়ে উঠছে ঈদগাঁহ বাসষ্ট্যান্ডে।

এ পরিস্থিতি সামাল দিতে কক্সবাজার জেলা পুলিশ প্রশাসন ঈদগাঁহতে ট্রাফিক পুলিশের আলাদা ক্যাম্প করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু প্রথমদিকে মাত্র ৪ জন সদস্য নিয়োগ দিলেও বর্তমানে দায়িত্বে আছে ৩ জন। তৎমধ্যেও ১ জন টিআই নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে না বলে খোঁজ খবর এবং সরেজমিনে দেখা গেছে। নিত্যদিনের যানজটের দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না ঈদগাঁহবাসীর ।

জানা যায়, ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যাত্রীদের যাতায়াত ও সড়কে যানবাহনের সংখ্যা অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ায় ঈদগাঁহ বাসষ্ট্যান্ডে যানজটের কবলে পড়ে দূর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারণ পথচারী, কর্মস্থল মূখী পেশাজীবীরা। শ্রমিক নেতাদের মতে, ঈদগাঁহ বাসষ্ট্যাণ্ডের উত্তর পাশের নতুন মসজিদ হতে দক্ষিণে গরু বাজার পর্যন্ত সকাল-বিকাল ডিউটির জন্য ৮ জন ট্রাফিক পুলিশ প্রয়োজন। কিন্তু পুলিশ রয়েছে মাত্র ৩ জন। ফলে কম সংখ্যক জনবল নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ট্রাফিক ক্যাম্প ঈদগাঁহ। তারপরও জনবলের অভাবে সব বাসস্ট্যান্ড, বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয় না। এর মধ্যে কেউ অসুস্থ বা ছুটি নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়ানক হয়ে ওঠে। ঈদগাঁহ ট্রাফিক পুলিশের ক্যাম্প স্থায়ীভাবে স্থাপিত হলে জনবলের ঘাটতি থাকবে না। একই সঙ্গে সড়কে ট্রাফিক পুলিশের সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।

ফলে যানজট নিরসনসহ সড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। জনসংখ্যা ও যানবাহনের তুলনায় ঈদগাঁহ বাসষ্ট্যাণ্ড ও বাজারে প্রশস্ত এবং পর্যাপ্ত সড়ক নেই। মুলত বাসষ্ট্যাণ্ডকে ঘিরে গজে উঠেছে অবৈধ গাড়ী পার্কিং, কাউন্টার, শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়। টুকটাক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাজার গড়ে উঠেছে যত্রতত্র । ফলে বাসষ্ট্যান্ডে মাত্রাতিরিক্ত যানবাহনের নিয়ম বর্হিভূত চলাচলে যানজট পরিস্থিতি দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে। সড়কে যত্রতত্র পার্কিং ও নিত্যদিনের যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ । সঙ্গে যানবাহন চালকরা ট্রাফিক আইন না মেনে চলার কারণেও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। পরিবহন নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায় ঈদগাঁহ প্রায় ২ হাজার ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সাভ্যান ও রিক্সা, মাহিন্দ্রা, সিএনজি চলাচল করে।

এর সঙ্গে প্রতিদিন যোগ হয় গ্রামাঞ্চল থেকে আসা অনেক যানবাহনও। পর্যটন শহর কক্সবাজারের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার বাস, মালবাহী ট্রাক, মাইক্রোবাস প্রাইভেট কারসহ অসংখ্য যানবাহন কক্সবাজার শহরে প্রবেশ করায় যানজটের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্টরা ঈদগাঁহ বাসস্ট্যান্ড যানজটমুক্ত করতে ট্রাফিক পুলিশের জনবল বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। অন্যথায় যানজটের দুর্ভোগ থেকে সহসা নিস্তার মিলবে না। এ সমস্যা সমাধানে স্থানীয় সচেতন সমাজ, জনপ্রতিনিধি ও পরিবহন সেক্টরের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলোকে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসার তাগিদ দেন তারা। ঈদগাঁহ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম জানান, যানজট নিরসন এবং যান চলাচলে শৃঙ্খলায় আনতে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকে সহায়তা দেয়ার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে লোক নিয়োগেরও প্রক্রিয়া চলছে।

ঈদগাঁহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, সড়কের পাশে বসা ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় তা সরানো সম্ভব হচ্ছে না, তবে চেষ্টা অব্যাহত আছে। জানতে চাইলে কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) বাবুল কুমার ভৌমিক বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। জেলা ট্রাফিক পুলিশে ১৫ জন মত সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশন আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং আক্রান্তরা সুস্থ হলে ঈদগাঁহতে পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে।