নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে কিট স্বল্পতায় করোনা পরীক্ষা কমে অর্ধেক

সিপ্লাস প্রতিবেদক: করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিটের স্বল্পতার কারণে চট্টগ্রামে শনিবার পরীক্ষার সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

চট্টগ্রামে যে ছয়টি ল্যাবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা হয়, তার মধ্যে বেসরকারি দুটিতে শনিবার কোনো পরীক্ষাই হয়নি। আর সরকারি চার ল্যাবের মধ্যে দুটিতে পরীক্ষা হয়েছে আগের দিনের এক চতুর্থাংশে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, কিট আনতে রোববার ঢাকায় লোক পাঠানো হয়েছে, এ জটিলতা শিগগিরই ‘কেটে যাবে’।

এর আগে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরুতে মার্চের শেষ দিকে এবং এপ্রিলের মধ্যভাগেও চট্টগ্রামে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা কিটের স্বল্পতা দেখা দেয়।

চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি রোববার জানান, শনিবার চট্টগ্রামের চারটি ল্যাবে ৫৯০টি নমুনা পরীক্ষা করে ৬৪ জনের করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ আসে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে, প্রতিদিন কোভিড-১৯ পরীক্ষা ও শনাক্তের যে সংখ্যা প্রকাশ করা হয় তা আগের ২৪ ঘণ্টায় হওয়া পরীক্ষার ফলাফল।

এর আগে ২৭ জুন প্রকাশিত ফলাফলে আগের দিন ছয়টি ল্যবে ৮৯০টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৫৯ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়।

আর আগে ২৬ জুন ১০৯৩ জনের পরীক্ষার (শনাক্ত ২৪৬ জন), ২৫ জুন ৯৭১ জনের পরীক্ষার (শনাক্ত ২৪১ জন), ২৪ জুন ৯৯১ জনের পরীক্ষার (শনাক্ত ২৮০ জন), ২৩ জুন ৯২৬ জনের পরীক্ষার (শনাক্ত ২১৭ জন) এবং ২২ জুন ১০৪৯ জনের পরীক্ষার (শনাক্ত ১৯২জন) ফলাফল জানানো হয় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে।

রোববার প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, বেসরকারি ইম্পেরিয়াল ও শেভরন হাসপাতালে শনিবার কোনো পরীক্ষাই হয়নি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ল্যাবে ৮২টি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ল্যাবে মাত্র ৩৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। অথচ ২৬ জুনের প্রকাশিত ফলাফল অনুসারে, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় এ দুটি ল্যাবে যথাক্রমে ৩৩৩ ও ১৩১ টি নমুনা পরীক্ষা হয়।

গত ২৫ মার্চ চট্টগ্রামে প্রথম নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়েছিল ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি)। শনিবার সেখানে ২৭৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হলেও রোববার তাদের পরীক্ষা হয়েছে ১০০টির মত।

বিআইটিআইডি ল্যাবের প্রধান ডা. শাকিল আহমেদ বলেন, “আমাদের কাছে আজ অল্প কিছু কিট আছে, একশটির মত হবে। অন্যদিন তিনশ’র মত টেস্ট হলেও আজকে যা আছে তা দিয়েই পরীক্ষা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, “কিটের সংখ্যা কমে এসেছে। ঢাকায় লোক পৌঁছে গেছে। আজই কিট নিয়ে রওনা হবে। সেগুলো এসে গেলে সঙ্কট থাকবে না। তবে শুক্র-শনিবার নমুনা কম পাওয়া যায়, সেজন্যও পরীক্ষার সংখ্যা কমেছে।”

তবে চট্টগ্রামে বারবার করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট সঙ্কট তৈরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এ জেলায় করোনাভাইরাস চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনে থাকা ‘জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির’ আহ্বায়ক ডা. মাহফুজুর রহমান।

তিনি বলেন, “প্রথমত এই কিট সঙ্কট সিন্ডিকেটের সৃষ্টি। নোয়াখালীর সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী বলেছেন দেশে ১০ লাখ কিট আছে, তাহলে সঙ্কট হবে কেন?

“দ্বিতীয়ত চট্টগ্রামে কিট, চিকিৎসা সরঞ্জাম, জনবলসহ সব সঙ্কট মেটাতে হলে জনপ্রতিনিধি, ডাক্তার, স্থানীয় প্রশাসন, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি করতে হবে এবং পৃথক অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। যার ব্যবস্থাপনা এই কমিটি করবে। তাহলে আর সঙ্কট ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি থাকবে না।”

‘জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নাগরিক আন্দোলন’ চট্টগ্রামের সংগঠক শরীফ চৌহান বলেন, “গণমাধ্যমের খবরেই জানা গেছে সিন্ডিকেটের কারণে কিটের সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর বারবার চট্টগ্রামে কেন কিট সংকট হবে? শেষ মুহূর্তে দৌড়ঝাঁপ না করে চাহিদা জেনে আগেই তো কিট সরবরাহ করা সম্ভব।”

রোববার পাওয়া ফলাফলে শনাক্ত ৬৪ জনের মধ্যে নগরীর বাসিন্দা ৪৩ জন এবং বিভিন্ন উপজেলার ২১ জন।

এ নিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭৬৮৯ জনে। যার মধ্যে শেষ আট দিনে শনাক্ত হয়েছেন ১৫৯৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে মারা গেছেন আরও চারজন। তাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৯ জন হয়েছে।

এই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৫ জন, সে হিসেবে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেন ৯২৫ জন।