নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করলো টকিং কার প্রোটন এক্স৭০

সিপ্লাস প্রতিবেদক: একবার চিন্তা করে দেখুন আপনি যেভাবে বলছেন সেইভাবেই কাজ করছে আপনার গাড়ি। চালকের সিটে বসে আপনি মুখে নির্দেশনা দিলেই সয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাচ্ছে গাড়ির কাঁচ। বৃষ্টি এলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করা শুরু কবে গাড়ির উইপার্স। অন্ধকার নেমে এলেই নিজ থেকে জ্বলে উঠবে গাড়ির হেডলাইট।

এরকম অত্যাধুনিক আরো নানা প্রযুক্তি নিয়ে এবার বাংলাদেশেও যাত্রা শুরু করলো প্রোটনের লেটেস্ট জেনারেশন এসইউভি (SUV) কার প্রোটন এক্স৭০ (X70)।

স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যালস বা এসইউভি ক্যাটাগরির প্রোটন এই গাড়িতে রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোগ। যা গাড়িপ্রেমীদের দেবে নতুন ধরনের ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা। ইতিমধ্যে গাড়িটি টকিং গাড়ি হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। মালয়েশিয়ার অন্যতম গাড়ির ব্রান্ড প্রোটনের এই এক্স৭০ (X70) কার বাংলাদেশে সংযোজন করছে একমাত্র এসেম্বলকারী প্রতিষ্ঠান পিএইচপি অটোমোবাইলস। যেখানে তাদের ঢাকা ও চট্টগ্রামের শোরুমগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে এই টকিং গাড়িটি।

২১ জুন রবিবার, শো রুম গুলোতে প্রোটন এক্স৭০ (X70) এই কারটির আনুষ্ঠানিক ভাবে উন্মোচন করা হয়। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে এবার এই উন্মোচন অনুষ্ঠান করা হয় অনলাইনের মাধ্যমে।

এ গাড়িতে রয়েছে দেড় লিটারের টার্বো ইঞ্জিন, ম্যানুয়েল মোডসহ সেভেন-স্পিড ডুয়েল ক্লাচ ট্রান্সমিশন, প্যানারমিক সানরোফ, ৩৬০ ক্যামেরা অ্যান্ড পার্কিং সেন্সর, অটো ডুয়েল জোন এয়ার-কন্ডিশনিং, ছয়টি এয়ারব্যাগ, টায়ার প্রেসার মনিটরিং সিস্টেম ও এয়ার পিউরিফায়ার সিস্টেম।

এছাড়া গাড়িটির এডভান্স ড্রাইভার এসিস্ট্যান্ট সিস্টেম গাড়িটিকে দুর্ঘটনার সতর্কতা ও লেন ছাড়ার সতর্কতাও দেবে। প্রোটন এক্স৭০ (X70) মডেলের ব্র্যান্ড নিউ ২০২০ মডেলের এ গাড়িটি কিনলে ৫ বছরের ওয়ারেন্টি ও ফ্রি সার্ভিস মিলবে।

এছাড়া ৫ বছরের ‘বাই ব্যাক অফার’ ও ‘রিপ্লেস কার’ সুবিধাও আছে।

পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশে সর্বপ্রথম নতুন গাড়ি আমরাই তৈরি শুরু করেছি আপনাদের দোয়ায়। এটা আমাদের গর্ব, অহংকার। আমাদের স্লোগান-‘আমাদের রাস্তায় আমাদের গাড়ি, থাকবে সবার বাড়ি বাড়ি।’

পিএইচপি ফ্যামিলির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন বলেন, নতুন এই গাড়িটি বাংলাদেশে গাড়ির বাজারে এবং কার প্রেমিদের চাহিদায় পরিবর্তন ও নতুনত্ব আনবে । বিশ্বের সব আধুনিক প্রযুক্তি গাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। পরিবেশ দূষণ কীভাবে কমানো যায় সেই ব্যবস্থাও এখানে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভয়েস কমান্ড দিয়ে গাড়িটি পরিচালনা করা যায় বলে এটাকে টকিং গাড়ি বলা হয়। গাড়ি চালানোর সময় হাত ব্যবহার করতে অনেক সময় সমস্যা হয়। সেক্ষেত্রে মুখে কমান্ড করে গাড়ি পরিচালনা করাটা বিস্ময়কর ব্যাপার। আমার মনে হয় বাংলাদেশে এটি প্রথম, যা প্রোটন মডেলে রাখা হয়েছে। আমরা আমাদের সন্তানদের সবসময় ভালো ও নিরাপদ জিনিস দিয়ে থাকি। এটা সন্তানদের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ।

পিএইচপি অটোমোবাইল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আকতার পারভেজ বলেন, যে কেউ চাইলেই আমাদের শো রুমে এসে টেস্ট ড্রাইভের স্বাদ নিতে পারেন প্রোটন এক্স৭০’র (X70)। ঢাকার তেজগাঁও লিংক রোড, কাকরাইল, চট্টগ্রাম ও সিলেটে পিএইচপি অটোমোবাইলের শোরুম থেকে গাড়িটি নেওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।

গাড়ির মূল্য সম্পর্কে তিনি বলেন; তিনটি ক্যাটাগরিতে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রোটন এক্স৭০ (স্ট্যান্ডার্ট) ৩৭ লাখ ৯৮ হাজার ৮০০ টাকা, প্রোটন এক্স৭০ (এক্সিকিউটিভ) ৩৯ লাখ ৯৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং প্রোটন এক্স৭০ (প্রিমিয়াম) ৪১ লাখ ৯৮ হাজার ৮০০ টাকা। তবে গাড়ির গুণগতমান ও প্রযুক্তি তুলনায় এ মূল্য অনেক সূলভ।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞানীরা এখন চেষ্টা চালাচ্ছেন কিভাবে মানুষের জীবন যাত্রাকে আরো আধুনিক, পরিবেশ বান্ধব ও প্রযুক্তি ভিত্তিক করা যায়। সেই জায়গায় বাংলাদেশে প্রোটন এক্স৭০ (X70) বাংলাদেশকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন গাড়িপ্রেমিরা।