নিউজটি শেয়ার করুন

করোনার এই দু:সময়েও মেডিকেল পণ্য খালাসে কাষ্টমসের হয়রানি!

সিপ্লাস প্রতিবেদক : করোনার এই দু:সময়ে অনেক ধনী লোক বিভিন্ন হাসপাতালে মেডিকেল ইকুইপমেন্ট যেমন- অটো অক্সিজেন বোতল, ভেন্টিলেটর, হাই ফ্লো ক্যানোলা, মাকস, বিভিন্ন রোগ নির্ণায়ক যন্ত্রপাতি দান করার জন্য বিমানে কিংবা নৌপথে আমদানী করছেন। কিন্তু কাস্টমসের এক শ্রেনীর কর্মকর্তার কারণে অহেতুক মাল খালাসে বিলম্ব করছে। এই করোনা মহামারীতেও এই ধরণের অভিজ্ঞতা আমদানীকারকদেরও হতবাক করেছে।

তারা বলছেন, হয়রানির কারণে করোনা মোকাবেলায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল পণ্য নির্দিষ্ট সময়ে সরবরাহ করতে না পারায় চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে।

জনস্বার্থে এমন হয়রানি বন্ধ করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি মাহবুবুল আলম।

আমদানিকারকরা সিপ্লাসকে জানান, জাহাজ ও বিমানে আসছে বিভিন্ন মেডিকেল পণ্য। কিন্তু এসব পণ্য খালাসে কাস্টমসের হয়রানি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। যা আগেও ছিল, এখনো আছে। বিশেষ করে শুল্ক ও গোয়েন্দা বিভাগ বিভিন্ন এক্সামিন ও যাচাই বাছাইয়ের নামে কালক্ষেপন করে থাকে। যে কারণে নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে কমিটমেন্ট রক্ষা করা যাচ্ছে না। যেহেতু মেডিকেল পণ্য রোগীর সাথে সম্পর্কিত। তাই যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় রোগীদের চিকিৎসা ব্যবহত হচ্ছে।  চাহিদা আর সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে নিরুপায় হয়ে অনেকে অতিরিক্ত টাকায় পণ্য খালাস করছে।

চিটাগাং চেম্বার প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস দেশের প্রধান রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দ্রুত পণ্য খালাস করতে হলে শতভাগ সততা নিয়ে দ্রুততার সঙ্গে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। আবার হয়রানি এড়িয়ে দ্রুত পণ্য খালাস করতে হলে খুশি রাখতে হয় তাদের। করোনা পরিস্থিতিতে বিভিন্ন পণ্য খালাসে হয়রানির বন্ধের জন্য আমরা কাস্টমসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে চিঠি দিয়েছি। এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি নানা অজুহাতে অনেকে মেডিকেল পণ্যের দাম বেশি আদায় করছে। এ ধরনের মানসিকতা পরিহারের জন্য আমদানিকারকদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

আমদানিকারকদের প্রতিনিধি হিসেবে কাস্টম হাউসে কাজ করা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বাচ্চু বলেন,  এ ব্যাপারে কারো কোন ধরনের অভিযোগ আমরা পাইনি। তারপরও পণ্য খালাসে হয়রানি বন্ধে সজাগ থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার ফখরুল আলমের মতামত জানতে চাইলে তিনি সিপ্লাসকে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ মিথ্যা। কাস্টমসের সব জায়গায় আমার মোবাইল নাম্বার লাগিয়ে রেখেছি। যে কোন ব্যাপারে আমার সাথে সবার সরাসরি কথা বলার সুযোগ রয়েছে। কারা কোথায় হয়রানির শিকার আমাকে বলেন। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।