নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামবাসীকে করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ওয়ার্কাস পার্টি’র সাত দফা দাবি

সিপ্লাস প্রতিবেদক:  বন্দর নগরী চট্টগ্রামে করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর দাবি করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি চট্টগ্রাম জেলা শাখা। করোনার সংক্রমণ থেকে চট্টগ্রামবাসীকে রক্ষা করতে ৭দফা দাবি পেশ করেছে ওয়ার্কাস পার্টি।

সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু হানিফ ও সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌহান এক বিবৃতিতে বলেন, করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার সুযোগের অপ্রতুলতা এবং ফল পেতে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে আক্রান্তদের চিকিৎসা। এখন পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সে হিসেবে হাসপাতালগুলোতে বিদ্যমান শয্যা সংখ্যা খুবই কম।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো ‍বিবৃতিতে বলা হয়, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাংলাদেশের সবগুলো জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে অনেক আগেই। এরমধ্যে বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত বন্দর নগরী চট্টগ্রামে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দেশের জেলাগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

কোটি মানুষের আবাস চট্টগ্রাম জেলায় শুরু থেকে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি প্রকট। মাত্র ১০টি আইসিইউ শয্যা আর ৩৫০টি বেড নিয়ে চলছে পুরো জেলার করোনাভাইরাস রোগীদের সেবা কার্যক্রম। পাশাপাশি শনাক্তকরণ পরীক্ষার সুযোগের অপ্রতুলতা এবং ফল পেতে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে আক্রান্তদের চিকিৎসা।

এখন পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সে হিসেবে হাসপাতালগুলোতে বিদ্যমান শয্যা সংখ্যা খুবই কম। পাশাপাশি শুরু থেকেই বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন এমন সন্দেহে অন্য রোগের রোগীদেরও ভর্তি করানো হচ্ছে না।

এমন প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামে পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকটের চেহারা জনগণের সামনে উন্মুক্ত হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। কাঙ্কিত সেবা না পেয়ে এবং সেবা পেতে বিলম্ব হওয়ায় মৃত্যুর ঘটনা প্রতিদিনই বাড়ছে।

এমন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি চট্টগ্রাম জেলা শাখা।

ক্রমবর্ধমান এই মহামারির সংক্রমণ থেকে চট্টগ্রামবাসীকে রক্ষা করতে হলে অনতিবিলম্বে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরী।

১.নগরীতে শনাক্ত ও সংক্রমণ ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলো চিহ্নিতকরণ ও জোন হিসেবে ভাগ করতে হবে। ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় প্রতিটি জোনে এক বা একাধিক নমুনা সংগ্রহ বুথ স্থাপন করতে হবে।

২. দ্রুততম সময়ে শনাক্তকরণ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে হবে। জোনভিত্তিক আইসোলেশন সেন্টার চালু করে উপসর্গ আছে এমন ব্যক্তিদের শুরু থেকেই আইসোলেশন কেন্দ্রগুলোতে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে। ৩.পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চালুর অপেক্ষায় থাকা আটটি আইসিইউ অবিলম্বে চালু করতে হবে। একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় কোন ধরণের রোগী কোন হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন সেটি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করতে হবে চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে।

৪.কিডনি, ডায়বেটিস ও হৃদরোগসহ অন্যান্য রোগে আগে থেকে আক্রান্ত রোগীদের ডায়ালাইসিস ও হৃদরোগের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব এরকম হাসপাতালে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। সেক্ষেত্রে এধরণের রোগীদের জন্য চট্টগ্রামে একমাত্র ভরসাস্থল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

৫.করোনাভাইরাস একটি নতুন ভাইরাস। শুরু থেকে এই রোগের চিকিৎসায় ফ্রন্টফাইটার হিসেবে চট্টগ্রামের চিকিৎসকরা লড়ে যাচ্ছেন। তাঁদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রি ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ভাবেই ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়া যাবে না।

৬.পাশাপাশি বেরসকারি হাসপাতালগুলোতে বিদ্যমান আইসিইউর মধ্যে কতটি সাধারণ রোগীদের জন্য এবং কতটি কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য ব্যবহার করা হবে তা নির্দিষ্ট করে নিজ নিজ হাসপাতালের ভিতর আলাদা ইউনিট দ্রুত স্থাপন করে সেবা দান শুরু করতে হবে।

৭.ক্রমবর্ধমান রোগীর সংখ্যার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জন্য শয্যা বৃদ্ধি, আইসিইউ সংখ্যা বৃদ্ধি এবং চট্টগ্রামের সব সরকারি- বেসরকারি চিকিৎসকদের নিয়ে কিভাবে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ করা যায় তা বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ অনুসারে অতিসত্ত্বর ঠিক করতে হবে।

বিৃতিতে বলা হয়,  শুধুমাত্র সমন্বিত উদ্যোগের ফলেই চট্টগ্রামে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মৃত্যুর মিছিল আরো দীর্ঘ হবে। ইতিমধ্যে আমরা চিকিৎসক, অধ্যাপক, পুলিশ, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ীসহ চট্টগ্রাম জেলার অনেক মেধাবী সন্তানকে হারিয়েছি। মৃত্যুর এই মিছিল চলতে থাকলে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরবর্তী সময়ে এই মানবিক বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের উঠে দাঁড়ানো কঠিন হবে। যার প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিসহ সর্বক্ষেত্রে পড়তে পারে। জনগণের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে তাই সকলের সমন্বয়ে এসব ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।