সন্দ্বীপের হাট বাজারে ইলিশের মহোৎসব

নিউজটি শেয়ার করুন

0Shares
0 0

বর্ষাকাল বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের মৌসুম হিসেবে পরিচিত। তবে এবছর শীতকালে ইলিশের মিছিল নেমেছে সাগরে। বঙ্গোপসাগর, মেঘনার মোহনা ও সন্দ্বীপ চ্যানেল নদীতে ঘন কুয়াশা মাখা শীতে ধরা পড়েছে রুপালী ইলিশের ঝাক। শীতকালীন অন্যান্য মাছের সাথে সমানতালে বাজার সরগরম রেখেছে অসময়ের এই রুপালী ইলিশ। স্থানীয়দের ভাষায় এটি অদিনের(অসময়ের) ইলিশ হিসাবে পরিচিত। তবে এগুলোর স্বাদ এবং ঘ্রাণ মৌসুমের ইলিশের মতো অটুট। সরকার বর্ষা মৌসুমে ডিম ছাড়ার সময় মাছ ধরা বন্ধ রাখায় নদীতে ইলিশের প্রজনন বেড়েছে। অন্যদিকে জাটকা নিধন বন্ধ করায় মাছগুলো আকারে বেশ বড় হচ্ছে। মূলত এই দুই পদক্ষেপের কারনে ইলিশের পরিমাণ বেড়েছে বলে দাবী মৎস অফিস ও স্থানীয় জেলেদের। সন্দ্বীপে প্রায় ২৫ টি খাল ও ঘাটকে কেন্দ্র করে বঙ্গোপসাগর, সাগরের মোহনা, মেঘনার মোহনার, সন্দ্বীপ চ্যনেলে প্রায় পাচ শতাধিক ছোটবড় নৌকায় নিয়মিত মাছ শিকার করেন সন্দ্বীপের উপকূলীয় এলাকার মৎসজীবীরা। বর্ষায় ইলিশের সিজনে এগুলোর সাথে সন্দ্বীপ উপকূল থেকে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যুক্ত হয় আরো ৫০ থেকে ৬০ টি বড় ফিশিং বোট। সন্দ্বীপে সবচেয়ে বেশী মাছ শিকার করে সারিকাইত ইউনিয়নের বাংলাবাজারের পুরাতন ধুপের খাল, গাছতলীর হাটের দূর্গাচরন খাল, মগধরার ছোয়াখালী, পুরাতন মাইটভাঙ্গা ঘাট, আজিমপুর ঘাট, মুছাপুর ঘাট ও পুরাতন ষ্টীমার ঘাট সংলগ্ন তিনটি ইলিশ ঘাটের জেলেরা। বর্ষাকালের মতো শীতের মৌসুমে এগুলোর কয়েকটি ঘাটে মাঝারি আকারের শতাধিক নৌকায় ইলিশ শিকার করা হচ্ছে। গভীর সাগরে ইলিশ শিকারে যাচ্ছে কয়েকটি বড় ফিশিং বোটগুলো। খুটিতে বাধা বিশের আকারে বাধা খসকি জালসহ নৌকা গুলোতে প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে পাচ টন ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে। অসময়ে পাওয়া এই ইলিশ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন পাইকারী বাজারে সরবরাহ করছে স্থানীয় বেপারীরা। সারিকাইতের বাংলাবাজার এলাকায় মৎসজীবী শংকর জলদাশ বলেন, ৪০ বছর সাগরে মাছ ধরছি কিন্ত কখনো শীতকালে এতবেশী ইলিশমাছ দেখিনি। সরকার সিজনে অবরোধ দেওয়ায় এখন শীতকালে ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এখন কোন ছোট মাছ নাই। বেশীরভাগ মাছের ওজন ৭শ গ্রাম থেকে দেড় কেজি। শিবের হাট বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আনোয়ার হিরন জানান, বাজারে বর্ষা থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিদিন পরিমাণ ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে এবং দামও সস্তা। এক কেজি সাইজের প্রতিটি ইলিশের দাম ৫শ থেকে ৭শ টাকা। উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মো.এমদাদুল হক জানান, বর্ষাকালে প্রজননের সময় ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ইলিশের পরিমাণ বেড়েছে। গত জানুয়ারী মাসে সন্দ্বীপে প্রায় দেড়শ মে.টন ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে।