রাঙ্গুনিয়ার গুমাই বিলে সাদা বকের মেলা

নিউজটি শেয়ার করুন

0Shares
0 0

ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ১০ টা। তখনও সূর্যের আলো তেমন একটা মেলেনি। কুয়াশার চাদরে ঢাকা আকাশ। আকাঁ-বাঁকা মেঠো রাস্তা ধরে চলতেই দুই পাশে চোখে পড়ে বিলে কোথাও পানি। কোথাও খালি বিল। কৃষকরা রোপা ধানের চারা লাগাচ্ছেন। কোথাও আবার চাষাবাদের জন্য মাটি খনন করছে। দুই পাশে বিলের মাঝখানে সাদা বকের মেলা। মনে হচ্ছে বকের অভয়াশ্রম। প্রতিদিন সকাল হতে বিলে খাবারের সন্ধানে ছুটে আসে হাজার হাজার বক পাখি। যতদূর দৃষ্টি যায়, চারপাশ ঘিরে ফেলেছে এক ঝাঁক সাদা বক। আবার কখনও চোখের নিমিষে ডানা মেলে উড়ে যাচ্ছে দৃষ্টির সীমানার বাইরে। এই যেন এক অপূর্ব দৃশ্য। চট্টগ্রামের শস্য ভাÐার খ্যাত রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের আধুর পাড়া অংশে গুমাই বিলে গেলে এই দৃশ্য দেখা যায়। কাছে যেতেই উড়ে যাচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে এসব বক। এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য না দেখলে বোঝা যাবেনা। প্রতি বছর ইরি এবং আমন ধানের মৌসুমে চাষাবাদের জন্য বিলে পানি সেচ দেয়ার স্থানে খাবারের জন্য বিচরণ করতে আসে এসব বক।

স্থানীয়দের মতে, গেল বছরও এতো বক পাখির দেখা মেলেনি। কেউ কেউ পাখি শিকারের চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের প্রতিরোধে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। চন্দ্রঘোনা কদমতলী গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আবদুর রহমান (৮৫) বলেন, গুমাই বিলটি এক সময় ঝিল ছিল। এক সময় এই বিল জুড়ে ছিল মাছ আর মাছ। আর নানা প্রজাতির পাখ-পাখালিতে ভরপুর। এখন এগুলো শুধুই স্মৃতি। চন্দ্রঘোনা আধুরপাড়া গ্রামের বেলাল উদ্দিন (৪০) বলেন, চাষাবাদের জন্য বিলে পানি দেয়ার পর সাদা বক পোকা-মাকড় খেতে ছুটে আসে। স্থানীয় ভাষায় এসব বক পাখিকে ‘ধলা বগা’ বলে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশে ১৮ প্রজাতির বক পাখি রয়েছে। এসব পাখি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। মাছ ছাড়াও জলজ পোকামাকড় খেয়ে ফসলের উপকার করে থাকে বক পাখি। ওদের খাদ্যাভাব ও নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। প্রকৃতি রক্ষা করতে এসব পাখিকে রক্ষা করতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে অবৈধভাবে পাখি শিকার করলে সাজার বিধান রয়েছে। যারা আইন অমান্য করে পাখি শিকার করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।