চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন দৌড় ; বর্তমান, সাবেক নাকি নতুন প্রার্থী দেবে আওয়ামী লীগ?

 কামরুজ্জামান রনি
  • Update Time : শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২০, ০২:১৫ pm
  • ৪৮২৬ বার পড়া হয়েছে

ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকারের আমলে একাধিক সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন নির্বাচনের জন্যে মেয়র পদে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে এতো জল্পনা কল্পনার আর কখনো এতোটা ডানা মেলেনি।

পূর্বের সকল নির্বাচনে কে প্রার্থী হচ্ছেন সেই বিষয়টি দলের সভানেত্রীর গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে অনেকেই মোটামুটি আগাম নিশ্চিত হতে পারলেও এবারের চসিক নির্বাচন নিয়ে তেমন সিগন্যাল এখন পর্যন্ত কেউ পায়নি।

মনোনয়ন দৌড়ে এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য তালিকায় যাদের নাম দলের নীতি নির্ধারনী মহলে শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, বর্তমান মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন,নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, সিডিএ সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম ও বন্দর আসনের সাংসদ আব্দুর লতিফ, হেলাল উদ্দিন তুফান।

যদিও আব্দুর লতিফ এখন পর্যন্ত মনোনয়ন ফর্ম কেনেনি বলে আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে।

প্রথমবারের মতন মেয়র নির্বাচিত হয়ে বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন কিছুটা বেকফুটে আছেন বলে মনে করা হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত নির্বাচনে তাঁকে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতন হেভিওয়েট মনোনয়ন প্রত্যাশীর পরিবর্তে শেখ হাসিনাই প্রার্থী করেছিলেন৷ সুতরাং প্রথমবারের ভুল সোধরানোর জন্যে আরেকটিবার তাকে মেয়র হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার জোর লবিং চলছে৷

বলা হচ্ছে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের পছন্দের তালিকায় অন্যান্যদের চেয়ে আ জ ম নাছিরের নামটি সবার ওপরে। তবে সেক্ষেত্রে বড় বাঁধা চট্টগ্রামের অভ্যান্তরিন দলীয় কোন্দল৷

প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর বলয়ের একাংশ বেগম হাসিনা মহিউদ্দিনকে মেয়র পদে মনোনয়ের দাবী তুললেও দলীয় হাইকমান্ড থেকে সেভাবে সাড়া না পেয়ে নাছিরের পরিবর্তে অন্য যে কাউকে মনোনয়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন৷

যদিও মহিউদ্দিন ঘরানার সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন বাচ্চু, একেএম বেলায়েত হোসেন মেয়র পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন কিন্তু সার্বিক বিবেচনায় তাদের আসার জোর সম্ভবনা নেই৷

এদিকে নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন মনোনয়ন দৌড়ে যথেষ্ঠ এগিয়ে আছে৷ বিগত একাধিল সংসদ নির্বাচনে বন্দর আসন থেকে সংসদ সদস্য মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও নাগরিক সমস্যা নিয়ে সারা বছর বেশ তৎপর দেখা যায় সুজনক।৷ এক সময়ের মহিউদ্দিন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহচর সুজনকে প্রছন্ন সমর্থন দেবে সেই বল। কিন্তু “বাকশাল” নিয়ে দলের মধ্যে বিভক্তির দায়ে আজো তিনি দায় বহন করছেন। তবে রাজনৈতিক কর্মের বিবেচনার সুজন ভালো অবস্থানে আছেন সেই সাথে তার ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজ বাড়তি যোগ্যতার দাবী রাখে৷

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম ২০০৯ সাল থেকে টানা দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান পদে দ্বায়িত্ব পালনের রেকর্ড গড়েছিলেন। বলা হয় একাধিক ফ্লাইওভার সহ চট্টগ্রাম উন্নয়নের জন্যে নেয়া প্রায় সব গুলো মেগা প্রজেক্ট সিডিএ’র মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়। শেখ হাসিনার আস্থা ছিলো বলেই হাজার হাজার কোটি টাকার একাধিক মেগা প্রকল্পের বরাদ্ধ এনেছিলো ছালাম। চসিক মেয়র আ জ ম নাছিরের চাইতে বড় প্রকল্পে শেখ হাসিনার পছন্দে আব্দুচ ছালামের নামটিও চসিক মেয়রের নামে শোনা যাচ্ছে।

চসিক মেয়র পদে বন্দর আসনের সাংসদ এম এ লতিফের নামটি সেভাবে শোনা না গেলেও হাইকমান্ড থেকে ভোটের হিসেব নিকেশের ছকে লতিফকে এমপি পদ থেকে মেয়র পদে নিয়ে আসার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সেক্ষেত্রে লতিফ সংসদের আসন ছাড়লে সেই আসনে খোরশেদ আলম সুজনকে উপ নির্বাচনে এমপি করার বিষয়টি ভাবা হচ্ছ।

কারণ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বিকৃত করার অভিযোগে সাংসদ লতিফের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন সুজন৷

জানা গেছে এককালে লতিফের ঘোর বিরোধী প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন পরিবারের সাথে লতিফের সেই বিরোধ এখন নেই৷ সেক্ষেত্রে মহিউদ্দিন পন্থিদের সমর্থন লতিফের পক্ষে থাকায় তাকে মেয়র করলে একাংশের সমর্থন পাবেন লতিফ রাজধানীতে ব্যবসায়ী নেতাকে মেয়র করে শেখ হাসিনা যে চমক দেখিয়েছিলেন সেই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামেও তেমন কোন ব্যবসায়ি নেতাকে মেয়র করার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।

অনেক আগে থেকেই চেম্বারের একাধিকবারের সভাপতি মাহবুব আলমকে মেয়র পদে প্রার্থী করা হতে পারে বলে ব্যবসায়ী মহলে জোর গুঞ্জন ছিলো।

শুক্রবার(১৪ ফেব্রুয়ারি) শেষ দিনে তিনি মনোনয়ন ফরম জমা দিয়ে সেই গুঞ্জন খানিকটা বাড়িয়ে দিয়েছেন৷ একই ভাবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বিক্রির শেষ সময়ে আগের দিন আকষ্মিক মনোনয়ন কিনে আলোচনায় আসেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের ঘনিষ্ঠ ও প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য জহুর আহমদ চৌধুরীর সন্তান ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন চৌধুরী তুফান।

যদিও বিভিন্ন মহল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শোনা যাচ্ছে ব্যাংক ইস্যুতে বাদ পড়তে পারেন তিনি।

সাবেক বিএনপি দলীয় মেয়র মনজুর আলম নৌকার মাঝি হতে ফরম নিয়েছেন৷ যদিও তিনি এখন আর বিএনপি’র রাজনীতিতে জড়িত নেই কিন্তু দলপাল্টে মেয়র হওয়ায় তাকে নিয়ে নগর আওয়ামী নেতাদের ঘোর আপত্তি দেখা দিয়েছে৷ যদিও তার ভাইয়ের ছেলে দিদারুল আলম একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন৷

শেখ ফজলে নুর তাপসের মধুমতি ব্যাংকের অন্যতম অর্থ জোগানদাতা মনজুর আলমের পরিবার। গতকাল (১৪ ফেব্রুয়ারী) শুক্রবার মেয়র পদে ফরম নেয়ার শেষ দিনের ৪টি সহ সর্বমোট ১৯ টি ফরম নেয়া হয়।

শেষদিনে মেয়র পদে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম-এর চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন, চিটাগং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আফছারুল আমীনের ছোট ভাই এরশাদুল আমীন ও দীপক কুমার পালিত।

আজকালের মধ্যেই জানা যাবে আসন্ন চসিক নির্বাচনে কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী৷

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 cplusbd.net