নিউজটি শেয়ার করুন

চসিক নির্বাচনে চমক হতে পারেন আমিনুল ইসলাম আমিন

ব্যাপক উৎসবে মেতে উঠেছে ঢাকায় চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা। কারণ শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের নানা জল্পনা-কল্পনা। চলছে বহুমাত্রিক হিসাব-নিকাশ।কাউন্সিলর প্রার্থীরাও এবার ঢাকা থেকে ফর্ম নিতে হচ্ছে বলে এখন আওয়ামী লীগের সব জায়গায় চলছে গুন্জন প্রতিদিন। হিসেব মেলাচ্ছেন বহুমাত্রিক। বিশেষ করে দলীয় গ্রুপিং এবং মেয়র পদে কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তা নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণের শেষ নেই। এখানে নতুন করে আমিনুল ইসলাম আমিনের নাম উঠে আসছে আলোচনায়। টেলিভিশন টক শোতে আমিনের ব্যাপক সমাদর রয়েছে ।গঠনমূলক আলোচনার কারণে ব্যাপক পরিচিতি আর বিতর্কের উর্ধে ক্লিন ইমেজের কারণে আমিনের নামও এখন আলোচনায়।

মেয়র পদে ইতিমধ্যে বর্তমান মেয়র, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছিরসহ ৭ জন দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্ত অন্যদিকে গড়াতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে ১১ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত দলীয় ফর্ম নেননি আলোচিত আমিনুল ইসলাম, এম এ লতিফ এমপি, ফজলে করিম এমপি, আবদুস ছালামসহ ব্যাপক আলোচিত নামগুলো।

ঢাকা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ঘুরে এবং ঢাকায় অবস্থানরত চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে পাওয়া গেছে এমন ইঙ্গিত ।

এ ক্ষেত্রে চমক হিসেবে উচ্চারিত হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং সাবেক তুখোড় ছাত্র নেতা আমিনুল ইসলাম আমিনের নাম।

বিভিন্ন নেতাকর্মীদের অভিমত, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের অবিসংবাদিত নেতা প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী (বর্তমানে তাঁর পুত্র শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল) ও আ.জ.ম নাছির উদ্দিন অনুসারী হিসেবে দুই ধারায় বিভক্ত। নওফেল ফরম নিবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন আগেই। তাই ইতিমধ্যে যারা দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তাঁরা সবাই কারো না কারো অনুসারী। তাই তাঁদের মধ্যে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলে জয় পরাজয়ে নিরবে বিরোধী থাকতে পারে। যে রকম পরিস্থিতির কারণে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুর কাছে পরাজয় বরণ করেছিলেন। অতীতের এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে মনোনয়ন পেতে পারেন আমিনুল ইসলাম আমিন। তাঁর সাথে দু পক্ষেরই ভালো যোগাযোগ আছে। দলীয়ভাবেও ক্লিন ইমেজ আছে আমিনের।

তাছাড়া আমিনুল ইসলাম আমিন অপেক্ষাকৃত তরুণ, মেধাবী ও ক্লিন ইমেজের অধিকারী। মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র হিসেবেও রয়েছে তাঁর বিশেষ কৃতিত্ব। ছাত্র অবস্থাই তিনি অর্জন করেছেন বহুমুখী প্রতিভার খ্যাতি। গ্রাম থেকে শহরে, শহর থেকে জাতীয় পর্যায়ে ছাত্র রাজনীতির পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন অসীম সাহসিকতার মধ্য দিয়ে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি পদ ছাড়াও বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমান কমিটি ছাড়াও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিগত কমিটিতেও তিনি একই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার আগে ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য। জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রনেতা হিসেবে ছিলেন তিনি আপোষহীন। সকলের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গির কারণে জ্যেষ্ট নেতাদের পাশাপাশি তরুণ নেতাকর্মীদের মধ্যে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। অন্য দলের মানুষের কাছেও রয়েছে তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা।

এমন সবকিছুর বিবেচনার ভিত্তিতে চট্টগ্রামের রাজনীতির বিভাজন দূর করে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আওয়ামী লীগের জয় নিশ্চিত করার জন্য শেষ পর্যন্ত আমিনুল ইসলাম আমিনই হতে পারেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদ প্রার্থী।

কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সর্বত্র সমস্বরে শোনা যাচ্ছে এমন গুঞ্জন।

বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় ধানমন্ডিতে নেতা কর্মী পরিবেষ্টিত অবস্থায় থাকা আমিনুল ইসলামের কাছে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, ৪০ বছর রাজনীতি করেছি। চট্টগ্রামে আমার বেড়ে উঠা, ছাত্ররাজনীতি । কিন্তু ঢাকায় এসে চট্টগ্রামের দলীয় গ্রুপিং এর উর্ধে উঠে কাজ করেছি। তবে মেয়র পদে দলীয় ফর্ম আমি এখনো নিইনি। কারণ আমার নেত্রী ও দলীয় হাই কমান্ডের ইশারা ছাড়া হাসির পাত্র হতে চাই না।

উল্লেখ্য বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়, উপরে আল্লাহ নীচে শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ জানে না কে হতে পারে ভবিষ্যত মেয়র প্রার্থী।