নিউজটি শেয়ার করুন

আ.লীগের দলীয় মনোনয়ন এখনো ডিজিটাল হয়নি

খোরশেদুল আলম শামীম: আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)  নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা নির্বাচন কমিশনের।

এ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এখন থেকে ঢাকা দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম নিতে পারবেন। তা জমা দিতে হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে।

শনিবার দুপুরে নগরীর এস এস খালেদ সড়কের একটি কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়মী লীগের বর্ধিত সভায় দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্ধৃত করে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন এ নির্দেশনা কথা জানান। মেয়র পদের মনোনয়ন ফরমের ফি ২৫ হাজার টাকা, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের মনোনয়ন ফরমের ফি ১০ হাজার টাকা দিয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে।

সদ্য অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের মত এবার চট্টগ্রামেও মেয়র পদের পাশাপাশি কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে দলের সমর্থন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

এদিকে ঢাকায় গিয়ে দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন মহল।

তাদের অভিমত, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য নিরলস কাজে করে যাচ্ছে। বিভিন্ন টেন্ডার, আবেদন, ভর্তি কার্যক্রম থেকে শুরু করে প্রায় সব কিছুই এখন অনলাইলে সম্পন্ন হচ্ছে। জাতীয়সহ বিভিন্ন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ এবং জমার সুযোগ রয়েছে। অনলাইনের কারণে অনেক কিছুর বিকেন্দ্র্রীকরণ হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির এমন ক্রম বিকাশের মধ্যে ঢাকায় গিয়ে দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে অনেকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

কেউ কেউ বলছেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম পরিকল্পনা ঢাকার উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সকল সুযোগ সুবিধা প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে দেয়া। ঢাকায় গিয়ে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করতে যাওয়া-আসা, থাকা, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতার কাছে হাজিরা দেয়া সব কিছু মিলিয়ে বড় ধরনের বিড়ম্বনা। এতে নানা আলোচনা-সমালোচনাও দেখা দেয়। দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহের অর্থ চূড়ান্ত মনোনয়ন নয়। ঢাকায় গিয়ে মনোনয়ন সংগ্রহ অনেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে দরকষাকষির প্রক্রিয়া হিসেবে দেখে থাকেন। অনলাইনে দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ ও জমা এবং নির্ধারিত মূল্য প্রদানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ এ বিড়ম্বনা দূর করে স্বচ্ছ ও আধুনিক নতুন আরেকটি দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, সাংবাদিক আর রাজনৈতিক নেতাদের দৃষ্টি ভঙ্গি আলাদা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের তফসিল। এই নির্বাচনটি হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে)। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা মহানগরের উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়েছিল। ভোটগ্রহণের পর মে মাসেই ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা দায়িত্ব নেন। কিন্তু চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও ৪১ ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা দায়িত্ব নিয়ে প্রথম সভা করেছেন ২০১৫ সালের ৬ আগস্ট।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনে বলা আছে, নির্বাচিত পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সভার পাঁচ বছর মেয়াদ পূরণের দিন থেকে ১৮০ দিন আগে পর্যন্ত যে কোনও দিন নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।