প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণের পর হত্যা, নারীসহ আটক ২ প্রবাসী সজীব হত্যার রহস্যের জট খোলা শুরু

সিপ্লাস প্রতিবেদক
  • Update Time : বুধবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২০, ১২:১১ am
  • ২৩৩৫ বার পড়া হয়েছে

বিয়ের অনুষ্ঠানের ৭দিন আগে রহস্যজনক ভাবে প্রবাসী যুবক সজিব হত্যার রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। এই ঘটনার গ্রেফতার করা হয়েছে খুনের সঙ্গে জড়িত এক নারীসহ দুজনকে।

কর্ণফুলী থানা পুলিশ জানিয়েছে, আবুধাবি ফেরত যুবক সজীবকে গ্রেফতারকৃত নারী সুমি আক্তার শারমিন (২৭) প্রেমের ফাঁদে ফেলে কৌশলে অন্য সাতজন সহযোগী মিলে নির্জন জায়গায় নিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ দিতে রাজী না হওয়ার নিহত সজীবকে শারীরিক নির্যাতন চালানোর সময় সে চিৎকার করে উঠলে অপহরণ কারিরা নিহতের গলার মাফলার টেনে ধরে । এতে করেই শ্বাসরোধ হয়ে সজীবের মৃত্যু হয়।

মৃতদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলের পাশে বেশ কিছু চিপস ও খাবারের খালি প্যাকেট দেখে প্রাথমিক ভাবে হত্যাকান্ডে একাধিকজন জড়িত থাকার আলামত মেলে। আর সেই স্থানে পড়ে থাকা একটি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে এই মামলার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র সিপ্লাসকে জানিয়েছে৷

থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় রায়হানের বাবার দায়ের করা মামলায় সোমবার রাতে কর্ণফুলী থানার মইজ্যারটেক এলাকা থেকে বাদশা ও সুমিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার সুমি আক্তার শারমিন (২৭) ও বাদশা মিয়া (৩১) হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে এবং বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে মঙ্গলবার (গতকাল ২১ জানুয়ারি) পৃথক পৃথক ভাবে আদালতে জবানবন্দি প্রধান করেছে বলে আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে৷ বাদশার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার কাছ থেকে রায়হানের একটি ঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। যেটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশ৷

উল্লেখ্য গত শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা সাইন্যার টেক এলাকা থেকে মো. রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী সজীব (২৭) নামে এক প্রবাসীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রায়হান চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার খরনা গ্রামের আতাউর রহমান চৌধুরীর ছেলে। গত বছর ১৯ ডিসেম্বর নগরীর কদমতলী এলাকার এক মেয়ের সাথে নিহতের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। আগামী ২৫ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার সব কাজ পুরোদমে চলছিলো।

প্রবাসে থাকা অবস্থায় গত একবছর যাবৎ দেশে বিবাহীত নারী সুমির সাথে ফেসবুকে ও মোবাইলের মাধ্যমে রায়হানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সুমির স্বামী সেলিমের পরিকল্পনায় সুমি সজিবকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে৷ কিন্তু ডিসেম্বরে পারিবারিক ভাবে সজিব বিয়ের করায় সেলিম ও সুমিসহ তাদের আরো পাঁচজনসহ মোট সাতজন মিলে তাকে সজিবকে ব্লেক মেইল করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করে৷ সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে তাকে অপহরণ করে টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করে।

সুমির ডাকে সাড়া দিয়ে সজীব মইজ্যারটেক গিয়েছিলো৷ তবে সাইন্যার টেক এলাকায় পৌঁছার পর সজিবকে অপহরণকারীরা কয়েকজন মিলে ঝাপটে ধরে মারধর করে টেনেহিঁচড়ে পাশের কবরস্থানের নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত-পা এবং মুখ বেঁধে প্রথমে ২০ লাখ, পরে ১৫ লাখ এবং এরপর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ১০ লাখ টাকায় রাজি হওয়ার সজিবের মুখের বাঁধন খুলে দিতেই সজীব চিৎকার করে ওঠেন। তখন তার গলায় থাকা মাফলার দুদিক থেকে টান দেন দুজন। শ্বাসরোধে মৃত্যু হয় রায়হানের। এরপর রায়হানের মানিব্যাগ, ৯ হাজার ৮০০ টাকা, হাতঘড়ি ও দুটি মোবাইল নিয়ে তারা চলে যায়। লাশের পাশে পড়ে থাকা মোবাইল থেকে প্রযুক্তির সহায়তায়  সুমি ও সেলিমের সন্ধান পাওয়া পর তদন্তে একে একে আরও পাঁচজনের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে৷

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 cplusbd.net