সিটি ভোট সুষ্ঠু হোক, বার্তা শেখ হাসিনার

সিপ্লাস ডেস্ক
  • Update Time : সোমবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২০, ১০:৩৬ pm
  • ৬০ বার পড়া হয়েছে

এটা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ বলে জানিয়েছেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরব আমিরাতে যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে হবে।

“ফেয়ার নির্বাচন হওয়ার জন্য যত সহযোগিতা লাগবে, তা দিয়ে যাবে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না। আমরা নির্বাচনের আচরণ বিধি মেনে নির্বাচন করব। নির্বাচনে কোনো বাড়াবাড়ি হবে না।”

ঢাকা সিটি ভোট নিয়ে সরগরম বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সোমবার সাংবাদিকদের একথা বলেন কাদের।

আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত মেয়র নির্বাচনে নৌকার দুই প্রার্থী আছেন শেখ ফজলে নূর তাপস ও আতিকুল ইসলাম। কাউন্সিলর ভোট দলীয় প্রতীকে না হলেও সেখানেও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রার্থী ঠিক করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি অভিযোগ তোলার পর বিএনপি সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে সংশয় নিয়েই স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও তুলছে তারা।

এর মধ্যেই সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকার প্রধানের কঠোর বার্তার কথা জানালেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় জানিয়ে তিনি বলেন, “জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে। সরকারি দল হিসেবে আমরা জনগণের রায় মাথা পেতে নেব।

“আমরা চাই একটা ভালো নির্বাচন হোক। প্রশ্নবিদ্ধ বা বিতর্কিত নির্বাচন করতে চাই না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনাই দিয়েছেন।”

মন্ত্রী-এমপিদের সিটি নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ গ্রহণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা আওয়ামী লীগের মেনে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

“বিএনপির মহাসচিব যদি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন তাহলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কেন পারবে না, এটা হল আমাদের প্রশ্ন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নটা আমরা এটা করেছি।”

ভারতের উদাহরণ দিয়ে কাদের বলেন, সেখানেই বিধানসভাসহ বিভিন্ন নির্বাচনে দেশের প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীরা প্রচার চালাতে পারেন।

ভোটের আচরণ বিধি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ক্ষুণ্ন করছে দাবি করে কাদের বলেন, “আমরা এটা মেনেও নিয়েছি। আমাদের যুক্তিযুক্ত বিষয়টি আমরা শুধু জানিয়েছি মাত্র। এটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হতে পারে না। বাংলাদেশের জন্য এটা অভিনব একটা কিছু যে মন্ত্রী-সাংসদরা অংশ নিতে পারবে না। এটা হওয়া উচিত নয়।

“নির্বাচন কমিশন আমাদের যুক্তি খণ্ডন করে বলেছেন, তাদের আচরণ বিধিতে যা আছে সেটাই ফলো করার জন্য। আমরা সেটা মেনে চলছি।”

ইভিএম নিয়ে বিরোধীদের আপত্তির বিষয়ে কাদের বলেন, “আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচন পরিচালনা করবেন ইসি। তারা ইলেকশন কন্ডাক্ট করবে, সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ থাকবে না। সরকার কোনো ব্যাপারেই তাদেরকে নির্দেশ দেবে না।

“নীতিগতভাবে আমরা ইভিএমের পক্ষে। আমরা আধুনিক প্রযুক্তিতে বিশ্বাস করি। এজন্য সহজে ভোট প্রদান, ভোট গণনা, আধুনিক পদ্ধতি অনেক সহজ। এটা পরীক্ষিত বিষয়। কাজেই আমরা এটার পক্ষে। যদি ইসি মনে করে ইভিএম সিস্টেম ছাড়া অতীতের মতো করবে এটাও তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপার।”

মন্ত্রী কাদের বলেন, “নির্বাচনে যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়, তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও ভূমিকা থাকবে না। তখন নির্বাচন কমিশনের অধীনেই চলে যাবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তাদের দায়িত্ব পালন করবে।”

বিএনপির প্রার্থীর উপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “এই ধরনের অভিযোগ তো আমাদের প্রার্থীও করেছে যে, নৌকার সমর্থকদের ওপর হামলা হয়েছে। তাদের গাড়ি ভাংচুর হয়েছে, কর্মীকে মারধর করা হয়েছে পুরান ঢাকায়।

“এটা ইসির দায়িত্ব। কাজেই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়ার মালিক হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কোনো পক্ষ যদি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তারা অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে পারে।”

আগামি ৩০ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা হওয়ায় ভোট পিছিয়ে দেওয়ার যে দাবি ইতোমধ্যে উঠেছে, সে বিষয়ে দলের কোনো মত প্রকাশ করেননি কাদের।

তিনি বলেন, ভোট পিছিয়ে নেওয়া না নেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 cplusbd.net