স্বাধীনতার মহানায়কের ভাষণ শুনে রক্ত নেচেছিল জিতেন্দ্র প্রসাদের

নিউজটি শেয়ার করুন

0Shares
0 0

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জিতেন্দ্র প্রসাদ নাথ মন্টু। বয়স এখন ৭৮ ছুঁই ছুঁই। একাত্তরের উত্তাল দিনগুলোতে পরাধীনতা থেকে মুক্তি পেতে বাঙালি জাতি যখন স্বাধীনতা লাভের জন্য অধীর অপেক্ষায়, তখন শুধু প্রয়োজন একটি ঘোষণার, একটি আহ্বানের। অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণও এলো। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে ডাক এলো মুক্তি সংগ্রামের। স্বাধীনতার মহানায়কের ভাষণ শুনে সেদিন রক্ত নেচেছিল জিতেন্দ্র প্রসাদের শরীরেও। মিরসরাইয়ের পূর্ব মায়ানী গ্রামে নিবারন চন্দ্র নাথ ও সখীবালা নাথের ঘরে জন্ম তাঁর। ছাত্রজীবনে ১৯৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৬ সালের ২ জুন মুক্তিসনদ ৬ দফা আন্দোলনের প্রচারপত্র সংগ্রহ করে নগরের আন্দরকিল্লায় আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে আসার পথে আটক ও পরে কারাবরণ করেন। ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ মিরসরাই থানার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ওই বছর ইয়াহিয়া খান কর্তৃক জারিকৃত ক্রোক ও সার্টিফিকেট প্রথা বাতিলের বিরুদ্ধে রেভিনিউ অফিস ঘেরাও মামলায় গঠিত সামরিক ট্রাইব্যুনালে তাঁকে দেওয়া হয় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ১৯৭১ সালের ২৮ ফেব্র“য়ারি বেলা আড়াইটায় বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে পাকিস্তানের ‘এমভি সোয়াত’ জাহাজ আসে চট্টগ্রাম বন্দরে। পাকিস্তানি সেনারা সেই জাহাজের অস্ত্র খালাসের উদ্যোগ নিলে বন্দরের শ্রমিকরা বুঝে যান, সেগুলো চালানো হবে বাঙালির বুকে। শ্রমিকরা অস্ত্র খালাসে অপারগতা জানালে পাক সেনারা তাদের বুকেই গুলি চালিয়ে দেয়। সোয়াত জাহাজে অস্ত্র আসার খবর ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রামের সর্বস্তরে। দাবানলের মতো জ্বলে উঠে মুক্তিকামী বাঙালি। অস্ত্র খালাস প্রতিরোধের ডাক আসে। তৎকালীন সময়ে চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম আর সিদ্দিকী ও মিরসরাই থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি জিতেন্দ্র প্রসাদও ছাত্র শ্রমিক জনতাকে একত্রিত করে ছুটে যান প্রতিরোধ যুদ্ধে। এসময় পাক সেনাদের গুলির মুখে পড়েন জনতা। অকাতরে বিলিয়ে দেন প্রাণ। সে যাত্রায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি। মুক্তিযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর আগেই ২৪ মার্চ সোয়াত জাহাজের অস্ত্র খালাস প্রতিরোধের দিনটি ‘বাঙালির জনযুদ্ধ’ হিসেবে স্থান পেয়েছে ইতিহাসের পাতায়। চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা সংগ্রাম পরিষদের তৎকালীন আহ্বায়ক এম আর সিদ্দিকী সেদিন হাজারী লেইনে পার্টির কার্যালয়ে তাঁকে বলেছিলেন, কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে আসছে পাক সেনাদের কনভয়। যেভাবেই হোক-প্রতিরোধ করতে হবে তাদের। ১ নম্বর সেক্টরের অন্তর্গত হরিণা যুব শিবিরের সহকারি শিবির প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে পার্টি অফিসে পরামর্শ করা হলো, নেওয়া হলো প্রতিরোধের প্রস্তুতি।

জিতেন্দ্র প্রসাদের বর্ণনায়, ‘২৬ মার্চ সকালে চট্টগ্রামে প্রবেশ করতে পারে পাকবাহিনী। তাই চট্টগ্রামে একমাত্র প্রবেশপথ শুভপুর ব্রিজ উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টায় আমরা। বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পাঠিয়ে সংগঠিত করা হলো ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। মোহাম্মদীয়া বোর্ডিংয়ের মালিক মনির আহমদ কন্ট্রাক্টরকে নিয়ে মিরসরাই যাওয়ার পথে ছোট কমলদহ থেকে আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়াকেও সঙ্গে নিই। বারইয়ার হাটে হাজী জালাল আহমেদ (জলু হাজী) এর দোকানে গাড়লাম আস্তানা। সেখান থেকে করেরহাট যাত্রা। সহযোদ্ধা এটিএম ইসমাইল, মিন্টু মিয়া, সুবেদার মাইনুদ্দিন, প্রয়াত আলতাফ হোসেনসহ অনেক মুক্তিকামীকে নিয়ে ২৫ মার্চ রাতে শুভপুর ব্রিজের কাছে যাই আমরা। পেট্রোল ঢেলে ব্রিজের গোড়ায় দেওয়া হলো আগুন। সেখানে যোগ দেন বিএসএফ’র ক্যাপ্টেন সেনাপতি সহ কয়েকজন যোদ্ধা। তাদের সঙ্গে ছিল বিস্ফোরক। ব্রিজে রাখা তাদের বিস্ফোরকের বিস্ফোরণে ব্রিজটির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে পাক সেনারা অস্থায়ী সেতু বানিয়ে অগ্রসর হতে থাকে। আমরা এর আগে শুভপুর থেকে সীতাকু-ের দারোগাহাট পর্যন্ত এলাকায় গাছ কেটে সড়কে সৃষ্টি করি প্রতিবন্ধকতা। পরবর্তীতে পাকবাহিনী মীরসরাই সদর হতে অগ্রসর হয় উত্তর দিকে। তাদের লক্ষ্য, পুরো মীরসরাইয়ের দখল নেয়া। বিশাল বাহিনী ও বহর সজ্জিত হানাদাররা যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে মস্তাননগরে দুর্গ গড়ে তোলেন মুক্তিযোদ্ধারা। শুরু হয় আক্রমণ। সেখানে পাকবাহিনী এলাকার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়, নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। এরমধ্যে মুক্তিযোদ্ধারা নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট থেকে বাঙালি সৈনিকরা চলে আসছিলেন। তাদের সঙ্গে নিয়ে আসা অস্ত্র চলে যাচ্ছিল মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের হাতে। মুক্তিসেনাদের খাবার-দাবারের জন্য তখন ফান্ডের দরকার ছিল। শুভপুর ব্রিজ নির্মাণে কন্ট্রাক্টর ছিলেন এস কে দত্ত। তার কাছে রড, সিমেন্ট মজুদ ছিল। তিনি সহযোগিতা করতেন। মুসলিম লীগের এক কর্মীর পেট্রোল পাম্প আমরা দখল করে নিই। সহযোগিদের নিয়ে গোডাউন থেকে কিছু রসদ সংগ্রহ করেছিলেন জিতেন্দ্র প্রসাদ নাথ। যুদ্ধকালীন কুমিরায় ক্যাপ্টেন সুবিদ আলী ভুইয়ার নেতৃত্বে অবস্থান নেয় মুক্তিসেনারা। বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিক ইপিআরদের সঙ্গে শুভপুর ব্রিজ মুক্তকরণ যুদ্ধে ৬-৭ জন পাক সেনা নিহত হয়। কিছুসংখ্যক সেনা ব্রিজ সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী করেরহাটে পালিয়ে যায়। ওইসময় পাকবাহিনীর অবস্থান ছিল মিরসরাই পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, মিরসরাই থানা, মিরসরাই সিও অফিস এলাকায়। মুক্তিযুদ্ধকালীন ১ নম্বর সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন জিতেন্দ্র প্রসাদ নাথ মন্টু। বারইয়ারহাটের একটি ব্যাংক থেকে বস্তাভর্তি টাকা নিয়ে পৌঁছে দিয়েছিলাম রামগড় থানায় অবস্থানরত ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ সাহেবকে। তখন মোশারফ সাহেবের সাথে ছিল জিয়াউর রহমান। এর আগে ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরায় হরিণা যুব শিবির প্রতিষ্ঠায় তিনি ভূমিকা রাখেন। এম এ হান্নান ছিলেন যুব শিবির প্রধান, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ডেপুটি ক্যাম্প প্রধান এবং তিনি ক্যাম্প সুপারভাইজার হিসেবে গেরিলা যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ নিতে আসা মুক্তিকামী তরুণ-যুবাদের সবকিছু দেখভাল করেছেন। প্রত্যেক ব্যারাক দেখাশোনার জন্য কোয়ার্টার মাস্টার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ফটিকছড়ির জয়নাল আবেদীন, জহুরুল হক, মিরসরাইয়ের ডা. হামিদুল্লাহ, চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, পটিয়ার প্রফেসর নুরুল আবছার চৌধুরী, নুরুল ইসলাম ভুঁইয়া, সুনীল কান্তি নাথ, ক্যাম্প স্টোর ইনচার্জ মিরসরাইয়ের প্রথম নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান তাহের আহমদ সহ অনেকে। যুব শিবির কার্যালয় পরিচালনা করতেন মিরসরাই থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি এড. আবুল হাসেম। স্টুডেন্ট পলিটিক্যাল মোটিভেটর ছিল কুমিরার শিক্ষক মামুন চৌধুরী, নুরুল হক মিয়া, ডা. এখলাস, অ্যাড. আজিজুল হক, প্রফেসর নুরুল আবছার প্রমুখ। জিতেন্দ্র প্রসাদ ওই সময়কালের স্মৃতিচারণ করে বলেন, যুব শিবিরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে ছেলেরা আসতো, আমরা তাদের নাম তালিকাভুক্ত করতাম। এরপর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে পাঠানো প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী তাদের সেখানে পাঠাতাম। এসব ছেলেরা গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে পরে আর্মি ক্যাম্পে যেতো। সেখানে দুয়েকদিন রেখে নিজ নিজ এলাকায় যুদ্ধের জন্য অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। আমাদের সংগ্রহে ছিল পিক-আপ ভ্যান। সেটি নিয়ে বাজার করে নিয়ে আসতাম ক্যাম্পগুলোতে। তখন ছিল ‘চোখ ওঠা’ রোগের প্রকোপ। এই অসুখের জন্য যে ড্রপ কিনে আনতাম, সেটিকে বলা হতো-জয় বাংলা। গেরিলা যুদ্ধে আরও নেতৃত্ব দেন ফজলুল হক বিএসসি, এটিএম ইসমাইল, এবায়দুর রহমান, তাহের আহামদ, নুরুল হক, মির্জা ফিরোজ আহমেদ, এনায়েত উল্লাহ, আবদুল খালেক, কেপায়েত উল্লাহ, ডা. হামিদুল্লাহ, এবাদত উল্লাহ, জাফর আহমেদ, আবু জাফর ছায়েদ, মোশারফ হোসেন, আলী আকবর চৌধুরী, আবদুল হাই চৌধুরী, অহিদুর রহমান, খোরশেদ আলম, নুরুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম সোলেমান, শেখ আবুল কাশেম, খোরশেদ আলম, আলতাফ হোসেন প্রমুখ। যুদ্ধকালীন সময়ে মিরসরাইয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকবাহিনীর যুদ্ধ হয়। ১০ জুন সুফিয়া এলাকায়, ১৪ জুলাই আবুতোরাব বাজারে গ্রেনেড চার্জ, ১৮ ও ২৩ জুলাই বড়তাকিয়াতে, ১১ জুলাই ফেনাপুনী ব্রীজ এলাকায় সম্মুখযুদ্ধ হয়। আবুরহাট, মিঠাছড়া, বামনসুন্দর দারোগারহাট, সাহেরখালী, খেওয়ারহাট বাজার, সোনাপুর বাজার, বাংলাবাজার, মিরসরাই সদর, মস্তাননগর-চৈতন্যের হাট, পান্থপুকুর পাড়ে পাক পেট্রোল ধ্বংস, দুর্গাপুর, করেরহাট যুদ্ধসহ মিরসরাইয়ের ছোট-বড় অনেক যুদ্ধই আছে স্মৃতি হয়ে। দীর্ঘ আট মাস ১৩ দিনের যুদ্ধে এ জনপদে প্রাণ হারান ৪২জন মুক্তিযোদ্ধা। মিরসরাইয়ের অসংখ্য মানুষ প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। এদের মধ্যে মিরসরাইয়ে দুই হাজার ৬২৭ জন অংশ নেন। এই উপজেলার দুই বোন মধুমিতা বৈদ্য ও আলো রানী বৈদ্য মুক্তিযুদ্ধের দুই নম্বর সেক্টরে কাজ করেন। চিকিৎসা সেবা দেন বিশ্রামগঞ্জ হাসপাতালে। মিরসরাই শত্র“মুক্ত হয় ৮ ডিসেম্বর। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত মিরসরাই পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সেদিন হাজারো জনতার ঢল নামে। জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধারা মিলে সেদিন উত্তোলন করেছিলেন স্বাধীন বাংলার পতাকা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চট্টগ্রাম উত্তর জেলার ১ম কার্যকরী কমিটির কৃষি সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছিলেন জিতেন্দ্র প্রসাদ নাথ মন্টু। স্বাধীনতা পরবর্তী মিরসরাই থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন সভাপতি পদে। ২০০৫ সালে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য হন। ছিলেন উত্তর জেলা সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি। ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তাঁকে সরকার হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টির দায়িত্ব দেয়। বর্তমানে তিনি উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহচর মিরসরাইয়ের মরহুম সৈয়দ ফজলুল হক বিএসসি ৭০ সালের নির্বাচনে গণপরিষদ ও জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পূর্বে নানা কারণে বঙ্গবন্ধুকে ১৪ বার কারাগারে যেতে হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সেই দুঃসময়ে তিনি ছায়ার মত পাশে থাকতেন। একবার কারাগার থেকে বের হয়ে সৈয়দ ফজলুল হক বিএসসি’র সাথে ধানমণ্ডির ‘৩২ নম্বর’ বাড়িতে গিয়েছিলেন জিতেন্দ্র প্রসাদ। সেখানে শিশু শেখ রাসেলকে কোলে নিয়েছেন জিতেন্দ্র প্রসাদ। বঙ্গবন্ধু যখন চট্টগ্রাম সফরে আসতেন, রেলস্টেশনে উপস্থিত থাকতেন এমএ আজিজ, জহুর আহমেদ চৌধুরী, মহিউদ্দিন চৌধুরী, জিতেন্দ্র প্রসাদ নাথ মন্টু। ট্রেন থেকে নেমে তাদের কপালে চুমু খেয়ে জড়িয়ে ধরতেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন জিতেন্দ্র প্রসাদ নাথ। প্রতিশোধের স্পৃহা জাগে তাঁর মনে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, মৌলভী সৈয়দ, শিশির দত্ত, কাজল দেবনাথ ও তিনিসহ অনেককে গোপনে তথ্য সরবরাহ করতেন বর্তমান উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান। মুজিব হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের কাজ করেন তারা। ১৯৮৫ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত থাকার দায়ে দীর্ঘদিন তাঁকে কারাভোগ করতে হয়। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন, তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তা যদি বাস্তবায়ন হয়-তবে সেটাই হবে আমার পরম তৃপ্তি। তবে দুঃখ পাই, যখন দেখি প্রকৃত অনেক মুক্তিযোদ্ধার অন্তরালে আর ভুয়ারা প্রকাশ্যে। এই ভুয়ারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার স্বপক্ষে যেসব প্রমাণাদি যোগাড় করেছে তা অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার কাছেও নেই। তিন সন্তানের জনক জিতেন্দ্র প্রসাদ নাথ মন্টু ব্যক্তিজীবনে গড়তে পারেননি বিত্ত-বৈভব। কোনও লোভ ছুঁতে পারেনি এই মুক্তিযোদ্ধাকে। স্বাধীন বাংলার বুকে যারা রাজাকারদের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছিল, যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বাইরে রেখে সুবিধাভোগীদের সাজিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা-তাদের প্রতি একরাশ ঘৃণা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ স্বাধীন দেশ তাদের নয়। শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকা তাদের নয়, এটা আমার-আমাদের।