নাগরিকদের ফোনে নজরদারি চীনের

সিপ্লাস ডেস্ক
  • Update Time : সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৯, ০১:৪১ pm
  • ১৪৯ বার পড়া হয়েছে

সব নাগরিককে নজরদারিতে রাখতে নতুন নিয়ম চালু করেছে চীন। দেশটির নাগরিকদের এখন থেকে মোবাইল ফোন রেজিস্ট্রেশনের সময় তাদের মুখের ছবি স্ক্যান করতে হবে। দেশটির কোটি কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে, তাদের পরিচয় যাচাই করতেই এটা করা হচ্ছে।

প্রায় ১৪০ কোটি জনগণের দেশটিতে ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন’ বা মুখের ছবি দেখে পরিচয় শনাক্তকরণ প্রযুক্তি আগে থেকেই ব্যবহৃত হচ্ছে। সব নাগরিকের চোখে চোখে রাখতেই নতুন এ নিয়ম চালু করেছে বেইজিং।

বিবিসি বলছে, এ ধরনের প্রযুক্তিতে চীন এখন বিশ্বসেরা। কিন্তু যেভাবে চীন এখন ব্যাপকভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে তা নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। চীনে যখন কেউ মোবাইল ফোনের সেবা নিতে চুক্তিবদ্ধ হন, তখন তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হয় এবং ছবি তুলতে হয়।

যেমন ২০১৭ সালে নিয়ম করা হয়, ইন্টারনেটে কেউ যদি কোনো বিষয়ে পোস্ট দিতে চায়, তার আসল পরিচয় যাচাই করে দেখতে হবে। চীনে সিংহভাগ মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জেফরি ডিং চীনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন।

তিনি বলেন, চীন বেনামি মোবাইল নম্বর এবং বেনামি ইন্টারনেট অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে চাইছে, তার মূল উদ্দেশ্য সাইবার নিরাপত্তা বাড়ানো এবং অনলাইনে প্রতারণা বন্ধ করা। একই সঙ্গে তারা হয়তো জনগণের ওপর আরও বেশি নজরদারি চালাতে চাইছে। চীনে প্রতিটি মানুষের ওপর কীভাবে নজর রাখা যায়, কেন্দ্রীয়ভাবে সেটার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এটাই তাদের লক্ষ্য।’

গত সেপ্টেম্বরে যখন এই নিয়ম ঘোষণা করা হয়, তখন চীন গণমাধ্যমে এটা নিয়ে কোনো হৈচৈ হয়নি। তবে অনলাইনে বহু মানুষ এ নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। মাইক্রোব্লগিং সাইটে একজন বলেছেন, ‘মানুষের ওপর এখন আরও কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।

আরও অনেকে অভিযোগ করছেন যে, চীনে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকছে না। তবে অনেকে সরকারের এসব পদক্ষেপ সমর্থনও করছেন। চীনে ইন্টারনেটে কড়া সেন্সরশিপ জারি আছে এবং এর ওপর কড়া নজরদারি চালানো হয়।

চীনকে একটি ‘নজরদারি রাষ্ট্র’ বলে বর্ণনা করা হয়। ২০১৭ সালে চীনে প্রায় ১৭ কোটি সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। ২০২০ সাল নাগাদ আরও ৪০ কোটি সিসিটিভি বসানোর কথা। সেখানে একটি ‘সোশ্যাল ক্রেডিট’ সিস্টেমও চালু করা হচ্ছে।

যেখানে নাগরিকরা কে কি আচরণ করছেন, জনসমক্ষে কি ধরনের কথাবার্তা বলছেন তার হিসাব রাখার কথা। এর উদ্দেশ্য ২০২০ সাল নাগাদ নাগরিকদের এক বিশাল জাতীয় ডাটাবেজ তৈরি করা। যেখানে নাগরিকদের আর্থিক লেনদেন এবং সামাজিক আচরণের ভিত্তিতে একটি ‘র?্যাংকিং’ তৈরি করা হবে।

উচ্চাভিলাষী এ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

‘ফেসিয়াল রিকগনিশন’ প্রযুক্তি এই নজরদারির ব্যবস্থায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পলাতক আসামিদের ধরতে এটি খুবই সহায়ক। গত বছর একটি কনসার্টে যোগ দিতে আসা ৬০ হাজার মানুষের মধ্যে এক পলাতক আসামিকে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধরা হয়েছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 cplusbd.net