মেননের ওয়ার্কার্স পার্টি ভেঙে মার্কসবাদী নামে নতুন দলের আত্মপ্রকাশ

সিপ্লাস ডেস্ক
  • Update Time : শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৯, ১০:০১ pm
  • ৩৮৬ বার পড়া হয়েছে
ওয়ার্কার্স পার্টি-মেনন। ছবি: সংগৃহীত

আদর্শগত বিরোধের জের ধরে অবশেষে ভেঙ্গে গেল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) নামে এই দলের সভাপতি নুরুল আহসান ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ইকবাল কবির জাহিদ।

নুরুল আহসান ও ইকবাল কবির জাহিদ রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরো সদস্য ছিলেন।

এরপর ২৮ অক্টোবর ১০ম কংগ্রেস বর্জনের ঘোষণা দেন কেন্দ্রীয় আরও ছয় নেতা। তারা হলেন পলিটব্যুরো সদস্য নুরুল হাসান ও ইকবাল কবির জাহিদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জাকির হোসেন হবি, মোফাজ্জেল হোসেন মঞ্জু, অনিল বিশ্বাস ও তুষার কান্তি দাস।

এর আগে, গত ২-৩ নভেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে অনুষ্ঠিত হয় রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টির ১০ম কংগ্রেস। ওই কংগ্রেসে মেনন সভাপতি ও ফজলে হোসেন বাদশা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হন।

ওয়ার্কার্স পার্টির নতুন অংশের নেতারা বলেছেন, ২০ বছর আগে থেকেই পার্টির ভেতরে রাজনৈতিক সুবিধা আদায় নিয়ে নেতাকর্মীদের অবস্থান তৈরি হয়েছিল।

২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মন্ত্রিত্ব, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিষয়ে নাম আসা, বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নাম আসা, সর্বশেষ ক্যাসিনো কারবারিদের সঙ্গে রাশেদ খান মেননের নাম আসার পর দলের ভেতরে বিরোধিতা প্রকাশ্যে আসে।

একই সঙ্গে একটি গ্রুপ এ বিষয়গুলোর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মেননের স্ত্রী লুৎফুন্নেছা বিউটিকে মনোনয়ন দেয়ায় পার্টির একটি অংশ তা মেনে নিতে পারেনি। আর এ সব বিবেচনা করেই দলের নেতৃত্ব মানতে অস্বীকার করেছে একটি অংশ।

১৯৯২ সালে গঠিত হওয়ার পর ওয়ার্কার্স পার্টি এই নিয়ে তৃতীয় দফায় ভাঙল। এর আগে, ১৯৯২ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি, ইউনাইডেট কমিউনিস্ট লীগ ও সাম্যবাদী দল (আলী আব্বাস) এই তিনটি দল নিয়ে গঠিত হয় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

১৯৯৫ সালে পলিটব্যুরোর সদস্য টিপু বিশ্বাস বেরিয়ে নতুন দল করেন গণফ্রন্ট। ২০০৪ সালের ১৪ জুন বেরিয়ে পলিটব্যুরোর আরেক সদস্য সাইফুল হক, বর্তমানে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাশেদ খান মেননের অংশটির পক্ষ থেকে অবশ্য নতুন সম্মেলন করার বিষয়ে প্রতিবাদ করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে দলটির পলিটব্যুরোর সদস্য কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ওয়ার্কার্স পার্টির নাম ব্যবহার করে কথিত জাতীয় সম্মেলন অবৈধ। রাশেদ খান মেননের নেতৃত্ব অস্বীকার করে নতুন অংশের উদ্বোধনী সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন ঢাকার কয়েকটি বাম দলের শীর্ষনেতারা।

তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু, ঐক্য ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য লিয়াকত আলী।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 cplusbd.net