সন্দ্বীপে তৈরি হচ্ছে মানসন্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন

নরোত্তম বনিক, সন্দ্বীপ
  • Update Time : বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

অসচেতনতা ও অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানেটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করতে পারে না বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলের নিম্নবিত্ত নারী ও কিশোরীরা। তাই পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর ন্যাকড়া ব্যবহার করে। এছাড়াও গ্রামীণ পরিবেশে লজ্জায় সে ন্যাকড়া ধুতে ও শুকাতে হয় লোকচক্ষুর আড়ালে গোপন কোন স্যাতস্যতে জায়গায়। ভালোভাবে না শুকিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা ন্যাকড়ায় ফাঙ্গাস জাতীয় বিভিন্ন জীবানু সংক্রমিত হয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তারা। যারমধ্যে জ্বরায়ুতে চুলকানী, জ্বরায়ুতে টিউমার এমন কি বন্ধ্যাত্বের শিকার হতে হয়। ফলে দাম্পত্য জীবনে কলহ সহ বিবাহ বিচ্ছেদ ও চিকিৎসার পিছনে প্রচুর আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়।

এসব বিষয়ের উপর নজর দিয়ে স্যানেটারী ন্যাপকিন সহজলভ্য ও ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার জন্য এসডিআই এর রিকল ২০২১ প্রজেক্ট সন্দ্বীপের নারী উদ্যোক্তা ফাতেমা, রুমা, সেতারা, নিলুফা, কুলছুমা ও রাহেনা বেগমকে সিরাজগন্জের মানব মুক্তি সংস্থা হতে স্যানিটারী ন্যাপকিন তৈরির উপর ৭ দিনের প্রশিক্ষন গ্রহণের ব্যবস্থা করে। একইসাথে তারা প্রশিক্ষণ পরবর্তীতে এগুলো উৎপাদন করার জন্য কারখানা তৈরির জন্য পুঁজি সহায়তাও দিয়েছে। প্রশিক্ষিন শেষে তারা সন্দ্বীপে দুটি ন্যাপকিন তৈরির কারখানা খুলে এখন নিয়মিত স্যানিটারী ন্যাপকিন উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। একটি মুছাপুর ৭ নং ওয়ার্ডের ভেলাকাজির বাড়ির কর্নফুলী হাইজিন সেন্টার অন্যটি রহমতপুর ৫ নং ওয়ার্ডস্থ লালখাঁর পাড়ার চামেলী হাইজিন সেন্টার। তাদের তৈরি ন্যাপকিন বাজারের অর্ধেক মুল্যে পাওয়ায় যায়। এতে গ্রাম্য নারী ও কিশোরীদের মাঝে স্থানীয়ভাবে তৈরী ন্যাপকিন ব্যবহার প্রবনতা বাড়ছে। লজ্জা কাটিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে কিনতে পারায় এগুলো ব্যাবহার হয়ে উঠেছে বেশ জনপ্রিয়। অন্যদিকে উৎপাদনকারীদের আয়ের পথও তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, পরিশোধিত তুলা, নেট ও ব্যান্ডেজের কাপড় দিয়ে ন্যাপকিন তৈরি করা হয়। কিশোরী মেয়ে শিল্পী বেগম বলেন আমাদের কিশোরী দলের মেয়েরা আগে অপরিচ্ছন্ন কাপড় ব্যবহার করতো এখন হাতের নাগালে ও ক্রয় সীমার ভিতরে হওয়ায় প্রায় সকলে এখন ন্যাপকিন ব্যবহার করছে। ফলে কিশোরীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমে এসেছে। মুছাপুর কর্ণফুলী হাইজিন সেন্টারে ৫ জন নারী ও রহমতপুর চামেলী সিবিওর কারখানাটিতে ৫ জন নারী এ কাজ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠার স্বপ্ন দেখছেন তারা। কর্ণফুলী হাইজিন সেন্টারের উদ্যোক্তা ফাতেমা বেগম বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় আমরা বাজার মুল্যের অর্ধেক দামে অথাৎ ৭ টি প্যাডের প্যাকেট বিক্রয় করছি মাত্র ৫০ টাকায়। অথচ একই মানের পন্য ফার্মেসীগুলোতে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কিশোরী ও মহিলার অনুপাতে ন্যাপকিন বিক্রি এখনো জমে উঠেনি। বিক্রি বাড়াতে তারা কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন ফার্মেসী ও কিশোরী দলে এগুলোর প্রচারনা চালাচ্ছে। শিক্ষকরাও তাদের সহযোগিতা করছেন। রিকল প্রজেক্টের এফ এফ কবি ও সংবাদকর্মী বাদল রায় স্বাধীন জানান, কারখানাগুলোতে দারিদ্র্যতার শিকার নারী উদ্যোক্তাদের আশার আলো হয়ে এসেছে। একইসাথে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে তাদের সচেতন করে তুলছে।তবে এগুলো বাজার জাত করার জন্য বড় কোন পৃষ্ঠপোষক পেলে সন্দ্বীপের বাইরেও তারা এই পন্য পৌঁছে দিতে পারবে।

স্বানীয় স্বাস্থ্যকর্মী রহিমা আক্তার বলেন ‘কিশোরীরা পিরিয়ডের সময় অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসম্মত ন্যাপকিন ব্যবহার করতে পারে না। তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এটি কমিয়ে আনতে স্যানেটারি ন্যাপকিনের ব্যবহার বাড়াতে আমরাও সচেতনতা বাড়াচ্ছি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 cplusbd.net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com