নিউজটি শেয়ার করুন

নগরীতে বৃষ্টির স্রোতে নালায় ভেসে যাওয়া ব্যক্তির খোঁজ মেলেনি দুদিনেও

মো: মহিন উদ্দীন: নগরীর মুরাদপুরে বুধবার (২৫ আগস্ট) বৃষ্টির পানির স্রোতে নালায় পড়ে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ব্যবসায়ী ছালেহ আহমেদেকে প্রায় দুদিনেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাকে উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিস ও তার স্বজনেরা। খাল,নালা নর্দমা ও সড়কের বেহালদশা নিয়ে চরম উদ্বিগ্নতা দেখা দিয়েছে নগরবাসীর মনে।

বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান মেলেনি বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শফিকুল ইসলাম।

মহানগরীতে গত ২ মাসের জলাবদ্ধতার কারণেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে তিনটি। গত ৩০ জুন ৫ যাত্রী নিয়ে মেয়র গলিতে সিএনজি খালে পড়ে মারা যায় ২ জন। তার ঠিক কিছুদনি আগে ১৯ জুন  নগরীর চান্দগাও আবাসিক এলাকায় আরো একটি সিএনজি  তিন জন নারী যাত্রী নিয়ে খালে পড়ে যায়। সেদিনও মরতে মরতে বেঁচে যান তিন নারী। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন সেদিন পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঐ তিন নারীকে উদ্ধার না করলে সেদিনও বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।  

চসিকের মেগা প্রকল্পে খাল,নালা প্রশস্তকরণের কাজ চললেও কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। যার ধারাবাহিকতা স্বরুপ গতকাল বুধবার নানা অব্যবস্থাপনায় নির্মাণাধীন নালায় পড়ে নিখোঁজ হন সবজি ব্যবসায়ী সালেহ আহমেদ। তার দুর্ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে নগরীর নিরাপত্তাবিহীন উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে নগরবাসীর মনে নতুন করে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে । এ সব দুর্ঘটনা নিয়ে জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বৃষ্টি হলেই নগরীর রাস্তাঘাট, খাল,নালা-নর্দমা্গুলো যেন হয়ে ওঠে মরণফাঁদ। যার ফলে পথচারী, রিকশা, অটোরিকশা, ভ্যান উল্টে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। খাল, নালায় পড়ে পথচারীরা বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছে অহরহ। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে গর্তে উল্টে যাচ্ছে যানবাহন। ঘটছে প্রাণহানির মত দুর্ঘটনাও। এ নিয়ে নগরবাসীর মনে বাড়ছে উদ্বেগ উৎকণ্টা।

নগর পরিকল্পনাবিদ আশিক ইমরান সিপ্লাসকে বলেন, এ ধরনের অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনার দায় সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কেউই এড়াতে পারেনা। নগরীর মেগা প্রকল্পগুলো বিশেষ করে খাল, নালা প্রশস্তকরণ প্রকল্পের পাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা খুবই জরুরি। নগরীর অবকাঠামগত উন্নয়ন যেমন দরকারি তেমনি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি কাজ। 

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট ইফতেখার সাইমুল সিপ্লাসকে বলেন, নগরীতে যে সব দুর্ঘটনা ঘটছে তার বেশিরভাগ কেবল খাল বা নালার পাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকার কারণেই ঘটছে।  বিশ্বের কোথাও এ ধরণের কাজ করার সময় আগে নিরাপত্তার বলয় তৈরি করা হয়। তারপর নির্মাণ কাজ করা শুরু হয়। সাম্প্রতিক সময়ের এসব দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারী, রিকশা ও সিএনজি বা তিন চাকার গাড়ি  ও এসব গাড়ীর যাত্রীরা। উন্নত বিশ্বে সিএনজি বা তিন চাকার গাড়ি চলার সাধারণত অনুমতি নেই কেবল টুরিস্ট স্পট ছাড়া। কিন্তু বাংলাদেশে যত্রতত্র সিএনজি ,টিকটিকি বা এরকমের ত্রিচিক্রযানের কারণে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। শুধু তাই নয়, এ সিএনজির  রমরমা চাহিদার কারণে এসব গাড়ীর দাম বর্তমান বাজারমূল্যে লাইসেন্সসহ ১৫ লাখ বা তার কিছু কমবেশি অংকে গিয়ে ঠেকেছে।আবার যত্রতত্র সিএনজি বেড়ে যাওয়ায়, আত্মমর্যাদা সংকটে পড়ছেন প্রাইভেট গাড়ি চালকরা। যদিও মহাসড়কে সিএনজি অটো রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করেছে সরকার কিন্ত দেশের  বেশিরভাগ  সড়কই এসব সিএনিজি চালিত তিন চাকার গাড়ীর দখলে।         

সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, নালার পাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। এসব কাজ সিডিএ’র নয়।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments