নিউজটি শেয়ার করুন

২ কিলোমিটার সড়ক জুড়ে লালদিয়ার চরবাসীর মানব বন্ধন: পুনর্বাসনের দাবী

সিপ্লাস প্রতিবেদক: উচ্চ আদালতের নির্দেশে লালদিয়ার চরে উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়ার পর পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

শনিবার বিকালে পতেঙ্গার লালদিয়ার চর এলাকায় পুনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন করেন তারা। তাদের দাবির প্রতি একাত্মতা জানিয়েছেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও রাজনৈতিক নেতারা।

গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ‘জরিপ অনুযায়ী’ বন্দর এলাকার লালদিয়ার চরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আদালতের নির্দেশনা দুই মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।

চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, র‌্যাব কমান্ডার, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সব বিবাদীদের রায় বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনার পাশাপাশি সেবা সংস্থাগুলোকেও (ওয়াসা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস কর্তৃপক্ষ) এ সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয় আদালত।

এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, হাই কোর্টের আদেশ অনুসারে সহসাই অবৈধ দখলদারদের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে উচ্ছেদ করা হবে।

সব ‘অবৈধ দখলদারদের’ অবিলম্বে ওই জায়গা ছেড়ে দেওয়ারও অনুরোধ করা হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে।

সবশেষ বৃহস্পতিবার রাতে লালদিয়ার চরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বলে জানান সেখানকার বাসিন্দারা।

বিকেলে কর্মসূচিতে লালদিয়ার চর উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলমগীর হাসান বলেন, “এখানকার ২৩০০ পরিবারের ১৪ হাজার বাসিন্দা পুনর্বাসন চায়। বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ না করে আগে আমাদের পুনর্বাসন করা হোক।

“উচ্চ আদালতের নির্দেশ আমাদের জন্য নয়, যারা নদীর ২০ ফুটের মধ্যে দখলকারী তাদের জন্য। আদেশের সুযোগে বন্দর চালাকির আশ্রয় নিয়েছে। আমরা নদী থেকে ৫০০ ফুট দূরে বসবাস করি। ২০১৯ সালে জেটি করবে বলে ২০ একর ভূমি থেকে আমাদের উচ্ছেদ করা হয়। এখন বাকিটাও উচ্ছেদের আয়োজন করা হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ এই জমি ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা করছে।”

সমাবেশেবলেন, “প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন এই মুজিববর্ষে ৫০ হাজার গৃহহীন ঘর পাবে। তাহলে লালদিয়ার চরের মানুষ কেন পাবে না? জননেত্রীর কাছে আবেদন এদের পুনর্বাসন করা হোক। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি।”

কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ চৌধুরী,  ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন, নারী কাউন্সিলর শাহানুর বেগম, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি,  নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর প্রমুখ।

শনিবার ১২ নম্বর ঘাট এলাকা থেকে বিজয় নগর পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধনে হাজার খানেক বাসিন্দা অংশ নেন।