নিউজটি শেয়ার করুন

২৭নম্বর বিয়ের আগে ধরা খেলেন বাবু!

সিপ্লাস ডেস্ক: বিয়ে করা যার নেশা! তিনি হলেন ৩৭ বছর বয়সের বাবু শেখ। দামি মোবাইল ফোন চুরি করেতেই বিয়ে করেন নিয়মিত ভাবে। অবাক করার বিষয় চুরির টাকায় একে একে ২৬টি বিয়ে করেছেন। আরেক বিয়ের করার আগেই ধরা পড়েছেন তিনি। তার সাথে ধরা পড়েন আরও একজন ব্যক্তি।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাবু শেখের বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর গ্রামে। তার বাবার নাম দলিল উদ্দিন শেখ। গ্রেপ্তার অপরজনের নাম আবুল খায়ের। তিনি জেলার ভাঙ্গা উপজেলার জান্দী গ্রামের আবু বক্করের ছেলে। তারা সম্পর্কে ভায়রা ভাই।

পুলিশ জানায়, ৩ জানুয়ারি ভাঙ্গা উপজেলায় পর পর কয়েকটি চুরির ঘটনায় মামলা হয়। মামলার সূত্র ধরে প্রথমে জান্দী গ্রাম থেকে আবুল খায়েরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যমতে পুলিশ চোরের সরদার বাবুকে গ্রেপ্তার করে।

বাবুর দেয়া স্বীকারোক্তির বরাতে ভাঙ্গা থানার এসআই মো. আজাদ জানান, অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়ে করাই ছিল বাবুর টার্গেট। তার দুটি নেশা। বিয়ে করা আর দামি মোবাইল ফোন চুরি করা। দামি মোবাইল ফোন চুরি করে আইইএমই নম্বর পরিবর্তন করে ফেলতেন তিনি। এরপর তা বিক্রি করতেন। সেই চুরির টাকাতেই বিয়ে করে বেড়াতেন। গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলোর অভাবের সুযোগ নিতেন বাবু। পরিবারগুলোকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েদের বিয়ে করতেন। বিয়ের পর ওই এলাকায় খুঁজে খুঁজে চুরি করতেন। এরপর দিতেন গা ঢাকা।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি দিন-দুপুরে চুরির ঘটনা ছিল ভাঙ্গা উপজেলার ছিলাধরচর গ্রামের পৌরসভায় মিজানুরের বাড়িতে। সেখান থেকে একটি মোটরসাইকেল, কয়েকটি দামি মোবাইল, ল্যাপটপসহ বেশ কিছু মালামাল চুরি করেন বাবু। এছাড়া আরো বেশ কয়েকটি বড় চুরির ঘটনা ঘটান তিনি।

ঘটনার ১০ দিন পর বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) ভাঙ্গার জান্দী গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ের সঙ্গে বাবুর বিয়ের দিন ঠিক হয়। এর আগে তিনি ২৬টি বিয়ে করেছেন। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবু জানান, তিনি বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণা করে এ পর্যন্ত ২৬টি বিয়ে করেছেন।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে তিনদিনের রিমান্ড চেয়ে ফরিদপুর আদালতের মাধ্যমে দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।