নিউজটি শেয়ার করুন

হাজতিকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ: মামলা নেয়নি আদালত

জেল সুপার ও জেলারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রুপম কান্তি নাথ নামে এক হাজতিকে বৈদ্যুতিক শক ও বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগের মামলা গ্রহণ করেনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হোসেন মোহাম্মদ রেজার আদালত।

মঙ্গলবার (২ মার্চ) চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ২ এর বিচারক হোসেন মোহাম্মদ রেজা অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেননি। তবে ২০১ ধারায় নালিশী অভিযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন পেশকার মো: বখতিয়ার।

একই কথার সত্যতা জানিয়ে বাদীর আইনজীবী এডভোকেট ভুলন লাল ভৌমিক সিপ্লাসকে বলেন, অভিযোগটির আদেশ হয়েছে। উপযুক্ত আদালতে ২০১ ধারায় মোতাবেক আমাদেরকে ফেরত দিয়েছে। উপযুক্ত আদালত বলতে ওনাদের এখতিয়ারাধীন উচ্চ আদালতকে বুঝিয়েছেন।

অভিযুক্তরা হলেন, সাতকানিয়া উপজেলা কালিয়াইশ ইউনিয়নের মৃত বিশ্বেশ্বর ভট্টাচার্যের ছেলে রতন ভট্টাচার্য, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার, জেলার ও জেলখানার কর্তব্যরত এক সহকারী সার্জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রুপম কান্তি নাথ নামে এক হাজতিকে বৈদ্যুতিক শক ও বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগের জেল সুপার ও জেলারসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার দ্বিতীয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হোসেন মোহাম্মদ রেজার আদালতে ওই হাজতির স্ত্রী ঝর্ণা রানী দেবনাথ এ অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ১নং সাঙ্গু ভবনে গত ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি বাদীনি ঝর্ণা রানী দেবনাথ এর স্বামী রুপম কান্তি নাথকে গত বছর ১৫ ডিসেম্বর জিআর ৩৩২/১৮ নম্বর মামলায় সুস্থ অবস্থায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এরপর ভিকটিম থেকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে সম্মতি আদায়ের জন্য অভিযুক্ত বিবাদীরা পরস্পরের যোগসাজসে চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় কারাগারে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে পুরুষাঙ্গ পুড়ে রক্তাক্ত জখম ও দুই হাতে দুইটি বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে কারাবন্দি রূপম কান্তি নাথকে হত্যা চেষ্টা করা হয়।

এমন সংবাদ পেয়ে বাদীনির বিজ্ঞ কৌশুলী গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে মহানগর দায়রা জজ আদালতে বাদীনির স্বামীর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত তা মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদি পক্ষের আইনজীবী ভুলন লাল ভৌমিক এবং রাজিব দাশ সিপ্লাসকে বলেন, মামলাটি হচ্ছে মুলত নির্যাতন ও হেফাজত মৃত্যু নিবারণ আইন ২০১৩ এর (১ ও ২) এবং ক, খ , গ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাদীনির স্বামী রুপম কান্তি নাথের সাথে অভিযুক্ত ১ নং আসামী রতন ভট্টচার্য এর সাথে মামলা নিয়ে মতবিরোধ চলছিল। তখন অভিযুক্ত রতন ভুক্তভোগী রুপমকে জেলখানায় হত্যার হুমকিও দেয়। তারই সুত্রে অভিযুক্ত রতন ভট্টচার্য জেল সুপার ও জেলার সহ যোগসাজেশ করে চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় কারাগারে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে পুরুষাঙ্গ পুড়ে রক্তাক্ত জখম ও দুই হাতে দুইটি বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে কারাবন্দি রূপম কান্তি নাথকে হত্যা চেষ্টা করা হয়।