নিউজটি শেয়ার করুন

‘সোনালি আঁশ’ খ্যাত পাট চাষে সুফল পাচ্ছে কৃষকরা

সিপ্লাস ডেস্ক: ‘সোনালি আঁশ’ খ্যাত পাটের পুরোনো ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার যে লড়াইটা এতদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা তার সুফল আসতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় পাট চাষ হয়। তবে গুণগত মান বিবেচনায় রাজশাহী অঞ্চলের পাট এখনও শীর্ষে রয়েছে। এ অঞ্চলের পাটপণ্য দেশের গন্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় বরেন্দ্র অঞ্চলে বেড়েছে পাটের চাষ।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা মণ দরে। এমন দামে পাট বিক্রি করতে পেরে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন চাষিরা। এদিকে ইউরোপ-আমেরিকাসহ পাটের প্রধান বাজারগুলোতে করোনা ভাইরাস মহামারির প্রকোপ কমে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে শুরু করেছে। ফলে রপ্তানিকারকরাও এই খাতটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং গত অর্থবছরের চেয়ে বেশি বিদেশি মুদ্রা আয় করতে নতুন করে তাদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২০২১-২২ মৌসুমে বিভিন্ন ফসল আবাদের অগ্রগতির প্রতিবেদেন থেকে জানা যায়, চলতি বছর রাজশাহীতে মোট ১৮ হাজার ৩৯ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে শতভাগ পাট কাটা হয়ে গেছে। বৃষ্টি হওয়ায় পুকুর, খাল-বিল ও ডোবা ভরে গেছে। কৃষকরা দারুণ পরিবেশে পাট জাগ দিতে পারছেন।

এবছর মোট পাট উৎপাদন হয়েছে ৪৪ হাজার ৬৪৬ মেট্রিক টন। জমিতে হেক্টর প্রতি ফলন বেশি হয়েছে ২ দশমিক ৮০ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছর ২ দশমকি ৭২ শতাংশ পাট বেশি উৎপাদন হয়েছে। এ বছর পাট চাষ বেড়েছে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে।

চাষিদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, পাট চাষে খরচ তুলনামূলক কম। পাটের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত পানি। এবার আষাঢ়ের শুরু থেকেই তা ছিল পর্যাপ্ত। প্রকৃতি থেকে এবার পাট চাষের প্রয়োজনীয় পানির জোগান মিলেছে। খালে-বিলে পর্যাপ্ত পানি থাকায় পাট জাগ দেওয়ায় কোনো সমস্যা হয়নি। ফলে পাটের গুণগত মান অনেক ভালো হয়েছে। এতে বাজারে দামও ভালো পাচ্ছেন তারা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments