নিউজটি শেয়ার করুন

সীতাকুন্ড উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ২০ লাখ টাকা, বাকিগুলোর কি অবস্থা!

সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি ভেঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে। অন্যান্য কমিটির ক্ষেত্রে কি হয়েছে তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে এখন নানা প্রশ্ন।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি তানভীর হোসেন চৌধুরী তপু ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক স্ট্যাটাসেও এই অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগের সপক্ষে তিনি তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরার পর এ নিয়ে সর্বত্র চলছে আলোচনার ঝড়।

মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) সকালে শিহাব উদ্দীনকে সভাপতি ও এসএম রিয়াদ জিলানীকে সাধারণ সম্পাদক করে সীতাকুণ্ড উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও আগের আহ্বায়ক কমিটি বহাল রাখতে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সীতাকুণ্ড ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শায়েস্তা খানের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ৮ লাখ টাকা আদায় করেন। পরে অন্যদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা পাওয়ায় শায়েস্তার কাছ থেকে নেওয়া ৮ লাখ টাকার ৭ লাখ টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে তার ফেইসবুকে স্ক্রিনশট পোস্ট দিয়ে নিশ্চিত করেছেন।

আবার স্থানীয় সংসদ সদস্যের মনোনীত ব্যক্তিকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ঘোষণার জন্য একটি কলেজের ভবন নির্মাণের ৮৬ লাখ টাকার টেন্ডার নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী সীতাকুণ্ডের নতুন এই কমিটির ক্ষেত্রে টাকা লেনদেনের অভিযোগ প্রকাশ্যে ‍তুলে ধরেছেন। এই কমিটিকে ‘প্রেস কমিটি’ অভিহিত করে ২০ লাখ টাকা লেনদেনের বিনিময়ে অছাত্র, হত্যা ও অপহরণ মামলার আসামি ও সাবেক শিবির কর্মীকে দিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘নবনির্বাচিত সভাপতি বয়স উত্তীর্ণ এবং অছাত্র। সাধারণ সম্পাদক অছাত্র, হত্যা ও অপহরণ মামলার আসামি (চট্টগ্রাম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মামলা নং ৩৩৯/১৮)। ছাত্রলীগের কোথাও (তার) প্রাথমিক সদস্যপদও নাই, ইতিপূর্বে স্থানীয়ভাবে শিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলো। বাবা ওয়ার্ড জামায়াত নেতা, বড় ভাই ওয়ালিদ রনি উপজেলা বিএনপির সক্রিয় নেতা!’

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের কমিটিও মেয়াদউত্তীর্ণ উল্লেখ করে গোলাম রাব্বানী আরও লিখেন, ‘চট্টগ্রাম উত্তর জেলা এক বছর মেয়াদি কমিটি আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও আজ অবধি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি। আমাদের সময়ে বারবার তাগিদ দেয়ার পরও তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তখন চট্টগ্রামের শ্রদ্ধাভাজন বর্ষীয়ান নেতা, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ ভাইয়ের কথায় তাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছিলো।’

মেয়াদউত্তীর্ণ বলে সীতাকুণ্ড ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি ভাঙ্গার কথা বলা হলেও সেটি ‘অযৌক্তিক’ দাবি করে গোলাম রাব্বানী লিখেছেন, ‘তাদের আওতাধীন সাতটি উপজেলার সবকটিই মেয়াদউত্তীর্ণ। গত বছর একযুগ পুরোনো সীতাকুণ্ডের কমিটি করেছে। আর কিছুদিন পূর্বে মিরসরাই। অবশিষ্ট ৫টি কমিটি রিপন-রোটন ভাই ও সোহাগ-নাজমুল ভাইয়ের সময়কার অর্থাৎ গড়ে ৬-৮ বছর আগের পুরনো কমিটি বাদ দিয়ে। কাউকে কিছু না জানিয়ে ২০ লাখ টাকা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সীতাকুন্ডের কমিটি (গত বছর করা) ভেঙ্গে আজ নতুন প্রেস কমিটি করা হয়েছে!’

কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে লেনদেনের দুটি কল রেকর্ডও পাওয়া গেছে। যেখানে প্রথম কল রেকর্ডে জাবের নামে একজনকে বলতে শোনা যায়— ‘এখানে সেভেন কেন? এইট ছিল না, এইট?’ উত্তরে রেজাউল করিমকে বলতে শোনা যায়, ‘তাহলে একটা তোমাকে আমি পরে দিচ্ছি। অসুবিধা হবে?’ তখন জাবের বলেন, ‘না ভাই অসুবিধা নাই। আমি মাত্র দেখলাম, তাই বললাম।’

অন্য কলটি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউলের সাথে সীতাকুণ্ড ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শায়েস্তা খানের। যেখানে রেজাউলকে উদ্দেশ্য করে শায়েস্তা খানকে বলতে শোনা যায়, ‘আমারে ইরান ভাই (জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি) তোমারে ফোন দিতে বললো। আমি আসলে এসব দুই নম্বরী পছন্দ করি না। আমাকে তোমার ঘনিষ্ঠ অনেকে বলছে টাকা পয়সার লেনদেন ভিডিও করে রাখতে। কারণ পরে তুমি পল্টি নিতে পারো। আমি গাড়িতে বসে সেটা ভিডিও করে রাখছি।’ তখন রেজাউল বলেন, ‘ভাই আপনার সাথে আমার এগুলো লেনদেন নিয়ে কোন কথা হইছে?’ এর উত্তরে শায়েস্তা বলেন, ‘জাবেরের সাথে হইছে।’ তখন রেজাউল বলেন, ‘তাহলে জাবেরকে ফোন দিতে বলেন।’

অন্যদিকে শায়েস্তা খানকে ‘মেধাবী ছাত্রনেতা’ হিসেবে অভিহিত করে গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আজ টাকার কাছে হেরে যাওয়া শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের মেধাবী শিক্ষার্থী। যোগ্যতম হিসেবেই ১০ বছর বছর যাবত একটা উপজেলার প্রার্থী। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসিস্টেন্ট ডিরেক্টর পদে চাকরি পেয়েও যোগদান করেনি কেবল ছাত্রলীগকে ভালোবেসে। সুযোগ পেয়ে এই করোনা দুর্যোগে ছাত্রলীগের পক্ষে সর্বোচ্চ ইতিবাচক মানবিক কাজ করেছে— যার পুরস্কার আজকে পেয়েছে!’

শায়েস্তা খানের অভিযোগ, ‘আমাদের আহ্বায়ক কমিটি টিকিয়ে রাখতে ২০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল রেজাউল। বাধ্য হয়ে পৈতৃক জায়গা বিক্রি করে তাকে ৮ লক্ষ টাকা দিই বহু কষ্টে। কিন্তু বর্তমান দুইজন ২০ লাখ টাকা দেয়াতে ৭ লাখ ফেরত দেয়। ১ লাখ টাকা এখনও রয়ে গেছে জেলা সেক্রেটারির কাছে।’

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন চৌধুরী তপু মতামত জানতে বার বার ফোন করলেও তার মোবাইল ব্যস্ত পাওয়া যায়।

অন্যদিকে রেজাউল করিম পুরো বিষয়টি বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর পছন্দের মানুষকে নেতৃত্বে না রাখায় এমন বিতর্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।