নিউজটি শেয়ার করুন

সরকারি কার্যভবনে নেই জাতীয় পতাকা

শাহরুখ সায়েল: চট্টগ্রামের সচিবালয় খ্যাত গণপূর্ত বিভাগের সরকারি কার্যভবন-১ ও সরকারি কার্যভবন ২। এই কার্যভবনে রয়েছে আয়কর বিভাগ, দুদক, ঔষধ প্রশাসন, গণপূর্ত, পরিসংখ্যান ব্যুরো, সামুদ্রিক মৎস দপ্তরসহ বাংলাদেশ সরকারের ২৯টি সরকারি কার্যালয়। সরকারের বিভিন্ন অধিদপ্তর-পরিদপ্তরের কার্যালয় থাকলেও ভবনটি দেখভালের দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের।
প্রত্যেক সরকারি কার্যালয়ে কর্মদিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিধিবিধান থাকলেও তোয়াক্কা করেনি চট্টগ্রামের গণপূর্ত বিভাগ।
ষিয়টি নিয়ে সিপ্লাস প্রতিবেদকের তৎপরতায় ১৫ মিনিটেই উঠলো জাতীয় পতাকা।
আজ মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে সরকারি কার্যভবনে গিয়ে উড়ন্ত জাতীয় পতাকা দেখার কৌতুহল জাগে। কৌতুহলের বশে খুজতে থাকি জাতীয় পতাকার স্টান্ড। পুরো অফিস প্রাঙ্গণে কোন স্টান্ড না দেখে হন্য হয়ে খুজতে থাকি। খোজাখুজির এক পর্যায়ে চোখ যায় ভবনটির ছাদে। সেখানে দেখা মিললো দুইটি দন্ডায়মান স্টান্ড। কিন্তু ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বিষয় পুরোদমে অফিস সমূহে কার্যক্রম চলছে কিন্তু জাতীয় পতাকার স্টান্ড খালি। উত্তোলন হয়নি জাতীয় পতাকা।
ভবনটির সার্বিক দায়িত্বে আছে গনপূর্ত বিভাগ। ছুটে যাই গনপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশিফ ইমরোজের কাছে। কর্মদিবসে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা কেনো উত্তোলন করা হয়নি তাকে এমন প্রশ্ন করায় সেও হতভাগ। বেলা ২টা, জাতীয় পতাকা এখনো পর্যন্ত উত্তোলন হয়নি বিষয়টি তিনি জানেনই না। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে সাথে সাথে দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে টেলিফোনে কেনো জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয়নি বিষয়টি জানতে চান এবং তাৎক্ষনিক পতাকা উত্তোলনেরও নির্দেশ প্রদান করেন। ভবিৎষতে এমন কর্মকান্ড যেনো না হয় সে বিষয়েও তিনি হুশিয়ারি করেন। এবং এহেন কর্মকান্ডের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রেরণের বিষয়েও তিনি আশ্বস্ত করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় পতাকা বিধিমালা ১৯৭২ এর বিধান অনুযায়ী প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরে প্রতিটি কর্মদিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ঠদের সাথে কথা বলবেন এবং সরকারি নির্দেশ বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি। সিপ্লাসকে এই গুরুত্বপূর্ন্য বিষয়টি তুলে আনার জন্য তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পতাকা বিধিমালা ১৯৭২ এ বলা হয়েছে, ‘জাতীয় ও বিশেষ দিবস ছাড়াও প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন এবং অফিস সমূহে যেমন, রাষ্ট্রপতির বাসভবন, সংসদ ভবন প্রভৃতি, সকল মন্ত্রণালয় এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলদেশ সচিবালয় ভবন সমূহ, হাইকোর্টের অফিস সমূহ,জেলা ও দায়রা জজ আদালত সমূহ, বিভাগীয় কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার/ কালেক্টর, চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ অফিস সমূহ, কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারসমূহ, পুলিশ স্টেশন, শুল্ক পোস্ট অফিস সমূহ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এই রকম অন্যান্য ভবনে সরকার কর্তৃক সময় নির্ধারিত ভবন সমূহে সকল কর্মদিবসে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করতে হবে।’
এ বিষয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করা দেশের অস্তিত্বের প্রতীক জাতীয় পতাকা। অথচ সরকারি অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় নি। এতে দেশের সার্বভৌমত্বকে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। পতাকার সঠিক সম্মান তারা দিতে পারছেন না। প্রতি কর্মদিবসে যথাযথ নিয়মে সকল অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সরকারি কার্যভবন – ১ এর জাতীয় পতাকা উত্তলনের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী সৌরজিত বড়ুয়াকে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নিজের ভুল স্বীকার করে তিনি বলেন, স্টাফদের নিয়মিত পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে বলা আছে এবং প্রতিদিনই পতাকা উত্তোলন করেন।
পতাকা উত্তোলন ছিল না প্রসঙ্গে বলেন, অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। এ কারণে হয়তো উত্তোলন করা হয় নি। তবে আপনি বিষয়টি জানানোর সাথে সাথে পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। আগামীতে এমন ভুল আর হবে না।
কাকতালীয় ভাবে গনপূর্ত বিভাগের সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মক্ষেত্রে সুনাম কুড়ানো নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশিফ ইমরোজের সরকারি কার্যভবনে আজই ছিলো শেষ কর্মদিবস।