নিউজটি শেয়ার করুন

‘লাশ কাটা ঘরে’ নারীর মরদেহে থাকা স্বর্ণালংকার চুরি, ৩ ডোম আটক

সিপ্লাস ডেস্ক: সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মিরপুর মহল্লার কালাচাঁন মোড়ে বাস ও ট্রাকের মাঝখানে চাপা পড়ে রিকশা আরোহী বনবাড়ীয়া সরকরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ইফরাত সুলতানা রুনী (৪০), তার ছেলে মাশবুবুর রহমান আদী (১২) ও মেয়ে ছোয়েবা রহমান (৭) নিহত হয়।

পরে ঘটনাস্থল থেকে সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশ নিহত শিক্ষিকা ও ছেলের লাশ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেচ্ছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠান।

জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বরাবর পরিবার থেকে ময়নাতদন্ত না করার পরিপ্রেক্ষিতে আবেদন করে। এরপর লাশ দাফন করার জন্য রোববার (০৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মর্গে থেকে লাশ বাসায় নিয়ে যায়।

পরিবারের অভিযোগ, নিহত শিক্ষিকার সঙ্গে সোনার একটি চেইন, দুইটি অ্যাংটি, দুইটি হাতের বালা, একজোড়া কানের দুল ও নাকফুল ছিল। মর্গে থেকে লাশ পাওয়ার পর শিক্ষিকার সঙ্গে থাকা স্বর্ণালঙ্কার পায়নি মর্মে সিরাজগঞ্জ সদর থানাকে অবগত করেন নিহতের স্বজনেরা।

পরে পুলিশ সোমবার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেচ্ছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের ডোম রানা, শাহ আলম, সুমনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে তারা গলার চেইন, দুইটি অ্যাংটি, দুইটি হাতের বালা, একজোড়া কানের দুল ও নাকফুল চুরির কথা স্বীকার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্য মতে, বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, নিহত শিক্ষিকার স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে ৩ ডোমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করেছি। পরিবারের কাছে হস্তান্তর করব।

এদিকে, শেখ ফজিলাতুন্নেচ্ছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ফরিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত না। যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটে অবশ্যই ডোমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

উল্লেখ্য, রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) স্কুল শিক্ষিকা রুনী তার ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশাযোগে শহরে যাচ্ছিলেন। রিকশাটি কালাচাঁন মোড় এলাকায় পৌঁছালে বেলকুচি থেকে সিরাজগঞ্জ গামী জাহাঙ্গীর পরিবহনের একটি বাস সামনের একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে রিকশাটিকে সজোরে চাপা দেয়। এতে রিকশাটি ট্রাকের পেছনে ধুমড়ে মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই স্কুল শিক্ষিকার রুনী ও তার ছেলে আদী নিহত হয়।

এসময় গুরুতর আহত হয় রিকশাচালক চাঁন মিয়া ও শিশু ছোয়েবা। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসক শিশু ছোয়েবাকে মৃত ঘোষণা করে।