নিউজটি শেয়ার করুন

রাঙ্গুনিয়ায় গৃহবধুকে পেট্টোলে ঝলসে দিয়েছে স্বামী

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড গোয়ালপুরা গ্রামের সন্ধীপপাড়া এলাকায় ইয়াছমিন আকতার (৩০) নামের এক গৃহবধুকে গায়ে পেট্টোল ঢেলে আগুনে ঝলসে দিয়েছে স্বামী মো. রাসেল (৩৫)।

শুক্রবার ভোররাতে যৌতুকের দাবী মেঠাতে নাপারার জেরে এই ঘটনা ঘটায় বলে ইয়াছমিনের পরিবার জানিয়েছে। তার শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। আগুনে ঝলসে যাওয়া ইয়াছমিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার (২০ নভেম্বর) সকালে স্থানীয়রা পাষন্ড স্বামী মো. রাসেল (৩৫) কে আটক করে পুলিশের হাত তুলে দিয়েছেন বলে জানান। তবে পুলিশ বলছে রাসেল তাদের নজরদারিতে রয়েছে। রাসেল সন্ধীপপাড়ার মৃত মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে। তাদের সংসারে ৫ বছরের একটা ছেলে সন্তান রয়েছে। ইয়াছমিন আকতার উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলি ইউনিয়নের নবগ্রাম এলাকার হারুনুর রশিদের মেয়ে। প্রায় আটবছর আগে তাদের বিয়ে হয়।

গৃহবধু ইয়াছমিনের চাচা চন্দ্রঘোনা কদমতলি ইউপি সদস্য আবদুল মালেক জানান, যৌতুকের দাবীতে ইয়াছমিনকে প্রায়ই নির্যাতন করতো স্বামী রাসেল। শনিবার দিবাগত রাতে স্বাভাবিক ঘুমাতে যান তারা। তাদের মাঝে এদিনও পারিবারিক কলহে কথা কাটাকাটি হয়। ভোররাতে স্বামী রাসেল পেট্টোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। তার ভাতিজীর শরীরে বুকের নিচের অংশ ঝলসে গেছে। তাকে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন এঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, আমি নিজে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে গেছি। গৃহবধুর শরিরের ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এঘটনায় পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মাহাবুব মিল্কি বলেন, আগুনে ঝলসে দেয়া গৃহবধুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার স্বামী পুলিশের নজরদারীতে রয়েছে। এঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।