নিউজটি শেয়ার করুন

রাঙামাটির পাহাড়ে পথ হারিয়ে ৯৯৯ কল, ৬ জনকে উদ্ধার

সিপ্লাস প্রতিবেদক: রাঙামাটিতে পাহাড়ে অ্যাডভেঞ্চারে এসে রাতের আঁধারে পথ হারিয়ে ফেলে ৬ পর্যটক। তাদের মধ্যে ৪ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও দু’জন ব্যবসায়ী ছিলেন।

রাতের ফুরোমোন পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা ওই শিক্ষার্থীরা পথ হারিয়ে ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশের সহায়তা চাইলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে।

উদ্ধারকৃতরা হলেন, কুমিল্লার আব্দুল্লাহ হক (২৭) মো. নাজমুল হাসান (২৪), রাজশাহীর নাইমুর রহমান (২৪), ঢাকার সাজ্জাদ ওয়াসিফ খান (২৩) ইজাজ ইবনে ইমম (২১), ও লক্ষ্মীপুরের রেদোয়ান আহমেদ (২৪)। এদের মধ্যে চারজন ঢাকার আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বাকি দুইজন সম্প্রতি পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসা করছেন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী রাঙামাটি ঘুরতে এসে ফুরোমোন পাহাড়ে আরোহণ করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল অ্যাডভেঞ্চার, তাই তারা তাদের সঙ্গে কিছু খাবার নিয়ে পাহাড়ে উঠেন। তাদের ধারণা ছিল, পাহাড়ের উপরে কোথাও তাদের খাওয়ার ও থাকার জায়গা হবে। সারাদিন কাটানোর পর সন্ধ্যার পরও তারা পাহাড়েই অবস্থান করছিল। পরে পাহাড় থেকে ফেরার জন্য তারা আর রাস্তা খুঁজে পাচ্ছিল না। নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় তারা কারও সহযোগিতাও নিতে পারছিল না। পরে তারা নেটওয়ার্কে আসলে ৯৯৯ কল দিয়ে সহযোগিতা চাইলে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে রাঙামাটিতে যোগাযোগ করা হয়। তাদের যে নাম্বার থেকে ৯৯৯ কল দিয়েছিল, রাত ১০ টার দিকে ওই নম্বরে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। এ সময় তাদের কথা শুনে তাদেরকে পাহাড়ের ওপরে বৌদ্ধ বিহারের আশপাশে অবস্থান নেয়ার কথা জানায়। পরে ফুরোমোন পাহাড়ের ওপরে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প থেকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে বিহারের পাশ থেকে রাত ১১টায় তাদের উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে তারা ক্যাম্পে অবস্থানের পর সকালে তাদেরকে ফুরোমোন পাহাড় থেকে রাঙামাটিতে নিয়ে আনা হয়। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তাপস রঞ্জন ঘোষ বলেন, রাতে সদর দপ্তর থেকে কল পাওয়ার পর পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছয় শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে ফুরোমোন পাহাড়ে সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানেই রাত্রিযাপন শেষে সকালে তাদেরকে থানায় নিয়ে আসার পর বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তারা সকলেই সুস্থ আছেন। তবে এ ধরনের অতি উৎসাহ নিয়ে রাতে পাহাড় ট্রেকিং থেকে বিরত থাকতে সবাইকে অনুরোধ জানান তিনি।