নিউজটি শেয়ার করুন

রমজানের ঐতিহ্য এখন শুধুই স্মৃতি

খোরশেদুল আলম শামীম: রমজান আসার আগেই টানানো হতো রং-বেরঙের সামিয়ানা। অভিজাত রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ফুটপাথ। সর্বত্রই বসতো ইফতারের বাজার। সকাল থেকেই জ্বলতো চুলা। নানা ধরনের মুখরোচক খাবারের সৌরভ বাতাসে মৌ মৌ করতো। দুপুর গড়াতেই বাহারি সব ইফতারের পসরায় সেজে বসত বাজার। বিকেল হলেই ধুম পড়ে যেত ইফতার সামগ্রী কেনাবেচার।

কিন্তু সেই চিরচেনা দৃশ্যপট এবার নেই। এখন যেন কেবলই ফেলে আসা রমজানের স্মৃতি! কোথাও কেউ নেই। এক গভীর শূন্যতায় যেন চারিদিক খা খা করছে। ফাঁকা, সুনসান সড়কগুলো যেন নিষ্প্রাণ হয়ে আছে। খুব সম্ভবত এবারই প্রথম পবিত্র রমজান মাস শুরু হলো এমন এক সময়ে, যখন মহামারী করোনায় সমগ্র বিশ্বের পাশাপাশি আক্রান্ত  বাংলাদেশও।

মসজিদে নেই মুসল্লিদের আনাগোনা
করোনা মহামারির কারণে অন্যান্য বছর থেকে এবছরের রমজান মাস অনেকটা অন্যরকম কাটাচ্ছে মুসলিম উম্মাহ। এবার মসজিদগুলোতে দেখা যাচ্ছে না আগের মতো তারাবি নামাজ, জমজমাট আয়োজন করে ইফতার ও ইবাদাতের দৃশ্য।

মাসটিতে বড়দের সঙ্গে মসজিদে ছোটদের ব্যাপক উপস্থিতি বেড়ে যায়। ফজরসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজই তারা মসজিদে এসে জামাতের সঙ্গে আদায় করে। কিন্তু এবার মসজিদগুলোতে আর জমজমাট বা জাঁকজমকপূর্ণ ইবাদাতের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে না। শাব্দিক অর্থেই মসজিদগুলোতে দেখা যাচ্ছে নির্জীব একটি পরিবেশ।

প্রতিটি ঘরই এক একটি মসজিদ
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তারাবি নামাজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন মাত্র ১২ জন মুসল্লি। মসজিদে নামাজ আদায়, সম্মিলিত ইফতার ও কোরআন তেলাওয়াতের মতো ইবাদগুলো একসাথে করতে পারবেন না দেখে মন খারাপ করছেন কেউ কেউ। কিন্তু এজন্য মন খারাপ করে বসে থাকলে কি আর চলে। ঘরেই কোরআন পাঠ, তারাবি আদায়, তাসবিহ আদায়সহ সব ইবাদাত চালিয়ে যাচ্ছেন সবাই। বলতে গেলে এবার এক ভিন্ন রকম রমজান মাস পেয়েছে মানুষ। যা বিগত সময়ে দেখেনি মানুষ।

হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ
প্রতিবছর প্রথম রমজান থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা জমে উঠতো ইফতারের জমজমাট হাট। বাহারী খাবার কিনতে  দেখা যেতো মানুষের ভিড়। কিন্তু এবারের চিত্র পুরোই ভিন্ন। পাড়া-মহল্লার হোটেল-রেস্তোরাঁও এখন বন্ধ। মরণ ভাইরাস করোনায় থমকে গেছে ইফতারি আয়োজনের সেই ব্যস্ততা। নিরাপদে থাকতে ঘরে থাকা মানুষরা পার করছে ভিন্ন রকমের এক রমজান।

ফুটপাত ফাঁকা
এ বছর সরকারি নির্দেশনা মেনে ইফতারির বাজার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বসছে। কোন অবস্থায় নির্দিষ্ট দোকান ছাড়া ফুটপাতে ইফতারির বাজার বসতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ফুটপাতগুলো পুরোই ফাঁকা। সেই সঙ্গে প্রতিবছর এ সময় থেকেই বিক্রি শুরু হয় ফুটপাতের ঈদের কেনাকাটা। অথচ সবই যেনো এবার বন্ধ হয়ে গেছে।

নেই যানযট
পবিত্র রমজান মাসে নগরজীবনে ঘরে-বাইরে সবার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। সিয়াম সাধনার এই মাসে রোজাদাররা ঘরে বসে করতে চান ইফতার। প্রতিদিন কর্মব্যস্ততা কাটিয়ে ইফতারের সময় হওয়ার আগেই বাড়ি ফেরার তাগিদ থাকে তাদের। কিন্তু পূর্বের রমজানগুলোতে বড় বাধা ছিল যানজট। এতে নাকাল হতে হয়েছে নগরবাসীকে। কিন্তু এবার রমজান মাসে যানজট নেই। ঘরে ফেরার তাগিদ নেই। ফলে সড়কগুলো সেই চিরোচেনা রুপে আর নেই।

নেই ইফতার রাজনীতি
করোনা পরিস্থিতির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ইফতার রাজনীতিও। অনেকবছর ধরেই ইফতার পার্টি রাজনীতির আরেক অনুসঙ্গ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এ বছর সব আয়োজন বন্ধ।

শপিং মলে ভিড় নেই
প্রতিবছর রমজানের শুরুতেই ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে গণজমায়েত বন্ধে  সব দোকান, বাণিজ্য বিতান ও শপিং মল বন্ধ রয়েছে। তাই সেই সমাগমও নেই।