নিউজটি শেয়ার করুন

যুবককে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা দাবি রোহিঙ্গাদের

মো. ফারুক

সিপ্লাস প্রতিবেদক:  কক্সবাজারের টেকনাফের এক যুবককে প্রায় একমাস ধরে রোহিঙ্গাদের বন্দিশালায় আটকে রেখেছে। চাহিদামত ২০ লাখ টাকা দেয়া না হলে ওই যুবকের মৃতদেহ পাওয়া যাবে কিনাও সন্দেহ রয়েছে বলে অভিযোগ অপহৃতের পরিবারের।

শনিবার অপহৃত ফারুকের একটি মর্মান্তিক রক্তাক্ত ছবি রোহিঙ্গাদের বন্দিশালা থেকে পরিবারের কাছে প্রেরণ করে। ছবিটি দেখে পরিবারের মাঝে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

অপহৃত যুবকের নাম মো. ফারুক (১৮)। সে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের আমতলী গ্রামের কালু মিয়ার ছেলে।

থানায় অভিযোগ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মার্চ বিকালে তাকে দুই আত্মীয় কাজের কথা বলে বালুখালি ক্যাম্পে নিয়ে যান। পরে রহস্যজনক কারণে ফারুক না ফিরলেও তার আত্মীয়রা ফিরে আসেন। তাদের সঙ্গে ও সম্ভাব্য জায়গায় যোগাযোগ করে ফারুকের কোনো হদিস পায়নি পরিবার।

কিছুদিন পরে রাতে ফারুক রোহিঙ্গাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে। তার একটি চাওয়া রোহিঙ্গাদের মুক্তিপণের দাবিকৃত টাকা দিয়ে বাঁচার আকুতি। এ সময় বার বার রোহিঙ্গারা ৩৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ টাকা দেয়া না হলে ফারুকের মৃতদেহ পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেন রোহিঙ্গা অপহরণকারীরা।

জীবন বাঁচাতে অসহায় ফারুকের পরিবার বাড়িসহ সবকিছু বিক্রি করে ২ লাখ টাকা দিলেও মুক্তি দেয়নি রোহিঙ্গারা। গত কয়েকদিন ধরে ওই মোবাইল ফোন নম্বরসহ আরও নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করে সর্বশেষ ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে অপহরণকারীরা।

অপহৃত ফারুকের বড় ভাই জাকারিয়া জানান, স্থানীয় দুই আত্মীয়ের সহযোগিতায় বালুখালী সম্ভাব্য ১৩ নম্বর শিবিরের রোহিঙ্গা নাগরিক কামাল হোসেন, আনু মোস্তফাসহ অন্যান্যরা মিলে ছোট ভাই মো. ফারুককে অপহরণ করে তাদের বন্দিশালায় প্রায় একমাস ধরে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করে আসছে। পরিবারের যা সম্বল ছিল তা বিক্রি করে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা মুক্তির জন্য দেয়া হয়। তার পরেও রোহিঙ্গারা ২০ লাখ টাকা দাবি করছে। শনিবার একটি রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় ছবি পাঠিয়েছে অপহরণকারীরা।

ছবিটি দেখিয়ে তিনি আরো জানান, টাকা না দিলে এই ভাবে ফারুককে মেরে হবে বলে হুমকি দেন রোহিঙ্গরা।
এ ব্যাপারে টেকনাফ ও উখিয়া থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার অধীনে হোয়াইক্যং ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) নূরে আলম জানান, বিষয়টি মাদক সংক্রান্ত। এরই মধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। যেহেতু ঘটনাস্থল উখিয়া থানার আওতায় হওয়ায় উখিয়া থানায়ও একটি অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।