নিউজটি শেয়ার করুন

যানজট: ভোগান্তির আরেক নাম অক্সিজেন মোড়

যানজট: ভোগান্তির আরেক নাম অক্সিজেন মোড়

সাইদুল রহমান সাকিব: চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা অক্সিজেন মোড়। শহরের তিনটি প্রবেশপথের মধ্যে এটি একটি।

গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হলেও সড়কের দুই পাশে ফুটপাত দখল করে বসেছে দোকান। সড়কে এলোমেলোভাবে পার্ক করা গণপরিবহনে যাত্রী উঠছে-নামছে আর কোনোটি ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। আর সড়কের একতৃতীয়াংশ জলবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের চলমান কাজের জন্য অক্সিজেনের মূল চত্বরটি সরু হয়ে আসায় মাঝখানের অংশটুকু দিয়ে কচ্ছপ গতিতে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে।

আর সে কারণেই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অক্সিজেন মোড়ে যানজটে নাকাল হচ্ছেন যাত্রীরা।

চট্টগ্রাম নগরী থেকে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, ফটিকছড়ি, রাউজান ও হাটহাজারীর যাতায়াতের একমাত্র সড়ক হওয়ায় প্রত্যেক দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অক্সিজেন মোড়ে যানজট লেগে থাকে।

অক্সি
অক্সিজেন মোড়ে বুধবার রাতের যানজট

পার্বত্য এলাকাসহ উত্তর চট্টগ্রাম থেকে আসা যানবাহনগুলোকে এ পথে নগরে প্রবেশ করতে হয় বলে স্বাভাবিকভাবে যানবাহনের চাপ অনেক বেশি থাকে।

বুধবার(১সেপ্টেম্বর) অক্সিজেন মোড় থেকে ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল, আরেফিন নগর ও বালুছড়া পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজট দেখা গেছে। যানবাহনগুলো দীর্ঘক্ষণ ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল। যানজটের কারণে নগরী থেকে হাটহাজারীমুখী গাড়ি আর হাটহাজারী থেকে নগরীতে আসা গাড়িগুলো দীর্ঘ সময় ধরে আটকা পড়েছিল। এমন পরিস্থিতি নিযন্ত্রণে হিমসিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকেও।

বুধবার সন্ধ্যায় যানজটে আটকা পড়া যাত্রী আরাফাত হোসেন বলেন, ‘রাত আটটা থেকে রাস্তায় গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। কোনো দিকেই যেতে পারছি না। রাস্তায় পাশে জলবদ্ধতার নিরসরে খালের কাজ চলছে এতে অর্ধেক রাস্তা বন্ধ থাকায় সরু হয়ে গেছে মূল সড়কটি। অক্সিজেন থেকে হাটহাজারী পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্ত হলে এমন যানজট সৃষ্টি হতো না।’

চট্টগ্রাম হাটহাজারী থেকে আসা ইমরাজুল হাসনাত বলেন, প্রতিদিন আসা-যাওয়ার সময় অক্সিজেন মোড়ে আধা ঘণ্টারও বেশি যানজটে আটকে থাকতে হয়। সড়কের ওপর এলোমেলো করে গাড়ি রাখার কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে। নগরীর মুরাদপুর থেকে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বাসস্ট্যান্ড সরিয়ে অক্সিজেন মোড়ে স্থানান্তর করা হলেও স্থায়ী কোনো টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়নি। ফলে গাড়িগুলো সড়কের ওপর রাখতে হয়।

তাওরাত তানীজ বলেন,রাস্তায় উভয়পাশে ফুটপাত দখল করে নিয়েছে হকাররা। বাধ্য হয়ে রাস্তায় চালাতে  হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। এই এলাকায় আছে কেডিএস সহ বেশ কিছু শিল্প কারখানা। যাতে ৩৫ হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক কাজ করে। আর ছুটির সময় এই এলাকায় প্রচুর যানজট সৃষ্টি হয় তার মধ্যে ফুটপাত দখল থাকায় পথচারীদের রাস্তায় চলাচল করতে হয়। এতে যানজট আরো বেড়ে যায়। তাই ফুটপাত মুক্ত হলে সাধারণ মানুষ রাস্তায় চলাচল না করে ফুটপাত ব্যবহার করবে এতে যানজট কমবে বলে মনে হয়।

এ প্রসঙ্গে অক্সিজেন এলাকার দায়িত্ব থাকা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ মনজুরুল সিপ্লাসকে বলেন, রাস্তার পাশে ফুটপাত দখল থাকায় আর বাস টার্মিনাল না থাকায় রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে গাড়িগুলো। ট্রাফিক পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে। অন্য দিকে জলাবদ্ধতার কাজ চলছে। এতে রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায়  ট্রাফিক নিযন্ত্রণে আমাদের একটু বেগ পেতে হচ্ছে। তবে আমরা দিনরাত চেষ্টা করছি যানজট নিরসনের জন্য।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের ‘চট্টগ্রাম মহানগরীতে যানজট ও তার বিরূপ প্রভাব’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৬টি কারণে চট্টগ্রাম নগরে যানজট হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাস্তার মোড়ে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা, সড়কে বিভিন্ন গতির ও অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করা, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, আইন প্রয়োগ ও কার্যকরের অভাব, অপর্যাপ্ত ও অপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশের অভাব, সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া, লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালক, রাস্তা ও ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়া।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments