নিউজটি শেয়ার করুন

মেজর সিনহা হত্যা মামলা: দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে

কক্সবাজার ব্যুরো: সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় দ্বিতীয়দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০ টায় প্রথমদিনে সাক্ষ্য দেয়া মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসকে ৩ আসামীর মূলতবী জেরা দিয়ে এ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদলতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল।

মূলতবী জেরার এসব আসামী হল, টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও এএসআই লিটন মিয়া।

এর আগে সোমবার প্রথমদিনে মামলার ১৫ আসামীর মধ্যে ১২ জনের আইনজীবীরা সাক্ষীকে জেরা সম্পন্ন করেছিলেন। এদিকে সকাল পৌণে ১০ টায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে একটি প্রিজন ভ্যানযোগে ১৫ আসামীকে কড়া পুলিশ পাহারায় আদালতে আনা হয়।

পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম বলেন, সিনহা হত্যা মামলার বিচার শুরুর প্রথমদিনে সাক্ষ্য দেয়া বাদীকে বাকি থাকা ৩ আসামীর মূলতবী জেরা দিয়ে দ্বিতীয়দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। এরপর সমন জারি করা অন্য আসামীদের সাক্ষ্য নেয়া হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, ” প্রথমদিনে শুধু মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসের সাক্ষ্য নেয়া সম্ভব হয়েছে। যদিও আরো দুইজন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত ছিল। প্রথম দফায় তিনদিনের এ সাক্ষ্যগ্রহণ বুধবার পর্যন্ত চলবে। এতে সাক্ষ্যদানের জন্য ১৫ জন আসামীকে আদালত সমন জারি করেছে। ”

গত ৩১ আগস্ট রাতে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামী করা হয় লিয়াকত আলীকে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে র্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। পরে গতবছর ১৩ ডিসেম্বর র্যাবের তদন্তকারি কর্মকর্তা আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এতে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আসামী দেখানো হয়। এরপর গত ২৭ জুন আদালত ১৫ আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করে আদেশ দেন। গত ২৬ থেকে ২৮ জুলাই সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতির কারণে লকডাউন থাকায় তা পিছিয়ে যায়।

পরে গত ১৬ আগস্ট আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করে আদেশ দিয়েছেন।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments