নিউজটি শেয়ার করুন

মহামারির এই সময়ে যা শোনা প্রয়োজন- ড. মাসুম চৌধুরী

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে সাম্প্রতিককালে করোনা সহ নানান দুর্যোগ-দূর্ঘটনা নিয়ে যা লেখালেখি হচ্ছে তা আমাদের নজর এড়ায়নি। কিন্তু তার মধ্যে অনন্য কিছু লেখা আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চেষ্ঠা করি। আজও তার ব্যতিক্রম নয়।

লেখক গবেষক . মাসুম চৌধুরীর ‘পৃথিবী গভীর গভীরতর অসুখ এখনঃ আমাদের করণীয় ‘ শিরোনামে তার ফেসবুকে ওয়ালের লেখাটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

** পৃথিবী গভীর গভীরতর অসুখ এখনঃ আমাদের করণীয়।
……………………………………
যার যা ইচ্ছে লেখছে, গুজব সত্য অর্ধ সত্য মিলে সবই লিখছে আর লিখছে। একুশ শতকে সকলেই সাংবাদিক সকলেই ফটোগ্রাফার (সবাই ছবি তুলে এবং সামাজিক যোগাযোগে লেখে)। একুশ শতকের জনপ্রিয় শ্লোগান ‘গ্লোভেল ভ্যালেজ’। সব কিছু হাতের মুঠোয়। রোগ জীবাণুও এখন বিশ্ব নাগরিক। এমন এক সময় কেউ হাসছে, কেউ দ্বন্দ্ব ব্যঙ্গ করছে। যে ভাবে করোনা আক্রান্ত হওয়ার পূর্বে হাসছিল ইতালি স্পেন মার্কিন ফ্রান্সের মানুষ। সাথে চলছে বিতর্কের চেয়ে কুতর্ক বেশী। আমি এতদিন তাদের কাতারে সামিল হতে চাইনি বলে লিখিনি। যা চলছে সত্যি বিবেক তাড়িত করছে। মনকে হালকা করতে একটু লেখার চেষ্টা মাত্র।
আমাদের বুঝতে হবে কঠিন এক সময় পার করছি আমরা। এখন কোন দ্বন্দ্ব সংঘাত বিভেদ নেই, রাজনীতি নেই, থাকবে শুধু টিকে থাকার সংগ্রাম। ঠিকে থাকতে হলে সবচেয়ে বড় কাজ, সেরা উপকার হলো নিজকে পৃথক রাখা। কারণ করোনায় আক্রান্ত হলে একজন রোগীই ধ্বংস করতে পারে একটি রাষ্ট্র।

এই লেখা পড়ে অনেকেই হাসবে, বলবে, ‘কিছুই হবে না’। আমিও বিশ্বাস করি আল্লাহ রহমতে কোন বড় সমস্যা হবে না। প্রার্থনা করি আমার বিশ্বাস যেন সত্য হয়। কিন্তু আমার বিশ্বাস যদি সত্য না হয়,আক্রান্ত উন্নত বিশ্বের চেয়ে কত খারাপ অবস্থা হবে তা কল্পনাও করতে পারবেন না। অসহায় আত্মসমর্পণ দেখবে সবাই। আগে ভাগে একটু সচেতন হয়ে পাবলিক ডিস্টেন্স বজায় রাখলে সমস্যা কোথায়?

অনেকে লোক জড়ো করে ত্রাণ দিচ্ছে। এ সব লোক দেখানো সহযোগিতা করে বিপদ ডেকে আনা কী দরকার?
নিরাপদে দুস্থদের ঘরে কী সাহায্য পাঠানো যায় না? করোনা আক্রান্ত হলে কী আপনাদেরকে মানুষের কাছে পাওয়া যাবে?
আবার কিছু মুসলমান গর্ব করে বলছে, ‘মুসলমানদের কোন বিপদ ভয় নেই’। ভাই দুনিয়ার সেরা নবী- রাসুল (দ.), আউলিয়া মহামানবদের উপরই তো বড় বড় বিপদ গেছে। কোরান হাদিস এবং ইতিহাসে আছে প্রচুর প্রমাণ। বিপদে আত্মরক্ষা কীভাবে করতে হয় তা জগদ্বাসীকে শিখানোর জন্য মহানবী হযরত মোহাম্মদ (দ.) হিজরতের সময় জবলে ছুরে আত্মগোপন করেননি? আউলিয়া কেরামের অনেক উপরে যাঁদের মর্যাদা সে সাহবায়ে রাসুল কী মহামারীতে ইন্তেকাল করেনি?

এ সব হতে আমরা কী শিক্ষা গ্রহণ করলাম! সমস্ত নবী রাসুলের উপর বিপদ আপদ এসেছে কিন্তু তাঁরা ধৈর্য ধারণ করছে। সে ধৈর্য আত্মস্থ করে কিছু দিন ঘরে বসে ইবাদত করতে পারি না?

মসজিদে জামাতে নামাজ না পড়ে ঘরে নামাজ আদায় করতে বললে যারা আমাকে গালমন্দ করবেন, তাদেরকে জানাতে চাই, মসজিদে জামাত পড়া সুন্নাত আর মানুষের জীবন রক্ষা করা ফরজ। ফরজের জন্য সুন্নাত ত্যাগ করার বিষয়ে জগতের সমস্ত আলেমরা ঐক্যমত পোষণ করেছেন। (পরিবার নিয়ে নামাজের জামাত ঘরে পড়া যায়)।

আপনাদের আরেকটি তথ্য জানাতে চাই, হজ্বে খানায়ে ক্বাবা তাওয়াফকালে ‘হাজরে আসওয়াদ’ চুমু করা সুন্নাত আর মানুষকে কষ্ট দেওয়া হারাম। সুন্নাত আদায় করতে গিয়ে হারাম কাজ করা বৈধ হবে না, এই ফতোয়া দুনিয়ার সেরা আলেম ওলমার।
মসজিদ বাড়ছে আর উন্নত হচ্ছে, বয়ানও এ দেশে কম নয়, বাড়ছে আধুনিক মাদ্রাসা, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু প্রকৃত মানুষের সংখ্যা কী বাড়ছে?

ধর্মের আনুষ্ঠানিকতা বাদ দিয়ে প্রকৃত ধার্মিক হওয়া খুবই প্রয়োজন।