নিউজটি শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যে পানি ফুরিয়ে যাচ্ছে, ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে পানি ফুরিয়ে যাচ্ছে, ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা
ছবি: (সংগৃহীত) ইরানের উর্মিয়া লেক।

সিপ্লাস ডেস্ক:  ইরানের উর্মিয়া হ্রদের ছোট দ্বীপগুলো একসময় পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত ছিল। মাত্র দুই দশক আগেও উর্মিয়া ছিল মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম হ্রদ এবং এখানে অবস্থিত পর্যটন কেন্দ্রের হোটেল ও রেস্তোরাঁয় প্রচুর মানুষের আনাগোনায় স্থানীয় অর্থনীতিও বেশ ভাল অবস্থায় ছিল।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএনের একটি প্রতিবেদনে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হ্রদটি শুকিয়ে লবণাক্ত সমতলভূমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে এবং ফেরিগুলো চলতে পারছে না।

উর্মিয়া হ্রদ পাঁচ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার (দুই হাজার ৮৫ বর্গমাইল) থেকে ছোট হয়ে মাত্র দুই হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার (৯৬৫ বর্গ মাইল) হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান অঞ্চলের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা বিভাগ। কর্মকর্তারা আশংকা করছেন, হৃদটি পুরোপুরি শুকিয়ে যেতে পারে।

ইরানের মতো মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। বস্তুত দেশগুলোতে পানির সরবরাহ শেষ হয়ে যাচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের (ডব্লিউআরআই) এর পানি বিষয়ক পরিচালক চার্লস আইসল্যান্ড সিএনএনকে জানান, ইরান, ইরাক ও জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ সেচের মাধ্যমে নিচ থেকে প্রচুর পানি উত্তোলন করছে। তার কারণ হলো সেখানে বৃষ্টিপাত কম হওয়া।

তিনি বলেন, “তারা বৃষ্টির মাধ্যমে নিয়মিতভাবে যতটুকু পাওয়া যায় তার চেয়ে বেশি পানি ব্যবহার করছে। আর তাই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস পাচ্ছে কারণ আপনি বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে তা পুনরায় পূরণ করার চেয়ে দ্রুত পানি বের করছেন।”

ইরানেও তেমনটা ঘটছে। দেশটিতে মোট ব্যবহৃত পানির ৯০ শতাংশ ব্যবহার হয় কৃষি খাতে। আইসল্যান্ড বলেছে, “এই দেশগুলিতে বৃষ্টিপাত এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে অনেক নদী, হ্রদ এবং জলাভূমি শুকিয়ে যাচ্ছে।”

পানি এভাবে ফুরিয়ে যাওয়ার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। এলাকাগুলি বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে; নদী ও হ্রদের মতো পানিসম্পদ কীভাবে ভাগ এবং পরিচালনা করা যায় তা নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং আরও রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

জেরুজালেমের দ্য হিব্রু ইউনিভার্সিটির বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞানের প্রোগ্রামের অধ্যাপক ড্যানিয়েল রোজেনফেল্ড বলেন, জর্ডানের অনেক বাড়িতে প্রতিদিন পানি পাওয়া যায় না। এমনকি রাজধানীতেও এমন সমস্যা আছে।

জর্ডানের কিছু অংশে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বছরে এক মিটারেরও নিচে নেমে যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই অঞ্চলে অনেক দেশ থেকে আসা শরণার্থীদের কারণে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

জর্ডানের পানি কর্তৃপক্ষের মহাসচিব বাশার বাতায়েনেহ সিএনএনকে বলেন, পানির এই বর্ধিত চাহিদা মোকাবেলার জন্য দেশকে বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে আরও অর্থ সহায়তা প্রয়োজন।

বাগদাদের উত্তর-পূর্বে দিয়ালা প্রদেশে বসবাসকারী পাঁচ সন্তানের জনক ৫৪ বছর বয়সী রাদ আল-তামামি পানির জন্য টাইগ্রিস নদীর উপনদী ‘দিয়াল’ এর নির্ভর করেন। দিয়াল বহু বছর ধরে শুকিয়ে যাচ্ছে এবং আল-তামামীকে তার তিনটি খামার জুড়ে ফল উৎপাদন অর্ধেক করতে বাধ্য করেছে। তাদেরকে অনেক সময় পানি পেতে এক মাসও অপেক্ষা করতে হয়।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরো পানির উপর এই নির্ভরতা বিড়ম্বনার সাথে খাদ্যের প্রাপ্যতাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। বিষয়টি সব সময় আল-তামামিকে ভাবিয়ে তোলে।

এই অঞ্চলটি বেশ কিছুদিন ধরে বিরামহীন খরা ও উচ্চ পর্যায়ের তাপমাত্রার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের বৈরি পরিবেশে জীবনধারণ করা প্রায় অসম্ভব। সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, পানির অব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত ব্যবহার যোগ হওয়াতে ভবিষ্যতে আশংকাজনক পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments