নিউজটি শেয়ার করুন

ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা পেলেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী স্বার্থক হবে- রাশেদ খান মেনন

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে চট্টগ্রাম ওয়ার্কার্স পার্টির সভায়

সিপ্লাস প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ওয়ার্কার্স পার্টি চট্টগ্রাম জেলা কমিটি আয়োজিত ভার্চুয়াল সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, সুবর্ণজয়ন্তী অর্থহীন হয়ে যাবে যদি ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে না পারি। কারণ ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই আমাদের স্বাধীনতা এবং এই স্বাধীনতার পথ ধরেই আজ সুবর্ণজয়ন্তী।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন বলেন, ভাষার অধিকারের প্রশ্ন ছিল সর্বজনীন এবং ভাষা আন্দোলনের চরিত্র ছিল অসাম্প্রদায়িক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজকে এই বাংলাদেশেও- যেখানে আমরা পাকিস্তানে লড়াই করে ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি, যেখানে সংবিধানে রাষ্ট্রভাষা বাংলার বিধানটি সংযোজিত আছে, সেখানে এখন বাংলা ভাষা কেবল উপেক্ষিতই নয় সেসময় ভাষা নিয়ে যে ধর্মবাদী প্রচারণা ছিল তা আজকেও অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখেছি বরিশালের আগৈলঝড়ায় এক ইমাম সাহেব ফতোয়া দিয়ে বলেছেন, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি কোনো মোনাজাত করা যাবে না। এবং সেই ফতোয়ার মাধ্যমে শিশু কিশোররা কলাগাছ দিয়ে যে শহীদ মিনার বানিয়েছিল সেটাকে ভেঙে দেয়া হয়েছে। তার সাথে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় লোকজন। এটা কেবল তার বক্তব্য ধরলেই হবে না। এই সাম্প্রদায়িক প্রচারণা আজকে শুধু বিদ্যমান তাই নয় তাকে বাস্তবায়নের নানা ধরণের চেষ্টাও দেখা যাচ্ছে।

আমরা যদি দেখি মাদ্রাসাগুলোতে জাতীয় সঙ্গীত যেখানে বাজানো হয় সেটাকে ধর্মীয়করণ করা হয়েছে। ভাষার ধর্মীয়করণের বিরুদ্ধে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ থেকে শুরু করে আমাদের সকল বিশেষজ্ঞরাই কেবল নয়, আমাদের সংগ্রাম আন্দোলন আমরা করেছিলাম।

রাশেদ খান মেনন বলেন, দ্বিতীয়ত যে বিষয়টি বলা প্রয়োজন- এই বাংলাদেশে আজ ভাষার প্রশ্নটি কিভাবে উপেক্ষিত। ইংরেজি না জানলে পরে আমরা যদি হীনমন্যতায় ভুগি..। কথা ছিল যে ভাষার প্রশ্নে উন্নয়ন করা হবে। একসময় বাংলা উন্নয়ন একাডেমি করা হয়েছিল। কিন্তু ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও সেই পুরনো পরিভাষার দোহাই দেয়া হয়।

ভাষা দিবসে দাঁড়িয়ে এই প্রশ্ন উত্থাপন করলাম, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছর থেকে বাংলা ভাষাকে নিয়ে যেন হীনমন্যতায় না ভুগি। এবং তথাকথিত আন্তর্জাতিক ভাষার কথা বলে বাংলাকে অপমান না করি। পৃথিবীর কোনো দেশে নিজেদের ভাষা ছাড়া তারা কথা বলে না। আমার দেশের আদালত অফিস কর্তাব্যক্তিরা বাংলার প্রশ্নে এত পিছিয়ে থাকবে তা আশা করা যায় না।

সরকারের উদ্দেশ্যে মেনন বলেন, পরিভাষাগত যে ঘাটতির কথা বলা হচ্ছে তা খুব সহজ করে পরিভাষা করার ব্যবস্থা নেয়। প্রয়োজনে আলাদা প্রতিষ্ঠান করে দেশি বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এসে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তা শেষ করা উচিত। ভাষার বিকৃতি ঘটছে প্রচারমাধ্যমে। এই বিকৃতিও বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করি। পার্টির কার্যালয়ে রবিবার অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌহানের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা কমিটির সভাপতি এডভোকেট আবু হানিফ। সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সদস্য মনসুর মাসুদ, দিদারুল আলম চৌধুরী, মনসুরুল হক বাবুল, ইন্দ্র কুমার নাথ, আবু সৈয়দ বলাই, মোক্তার আহমদ, শামসুল আলম, সুপায়ন বড়ুয়া ও আবদুর রশিদ প্রমুখ।