নিউজটি শেয়ার করুন

বেড়ার ঘরে চলছে ১৩৮বছরের পটিয়া আদালত: নথিপত্র উইপোকা আর ইঁদুরের কবলে !

সিপ্লাস প্রতিবেদক:  বৃটিশ আমলে নির্মিত পটিয়া আদালতের মামলার নথিপত্র উইপোকা আর ইঁদুরের কবলে। আদালতের কর্মকর্তারা উইপোকা মারার জন্য নিমপাতা আর ইঁদুর মারার জন্য কল ব্যবহার করছে বলে জানান। তবে আইনজীবীসহ আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন এটা কোন স্থায়ী সমাধান নয়। নতুন আদালত ভবন নির্মিত না হলে মামলার নথিপত্র যেমন নষ্ট হবে, তেমনি যেকোন সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দূর্ঘটনা।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের মহকুমা শহর পটিয়ায় ১৮৮২ সালে চৌকি আদালত চালু করা হয়। বর্তমানে এটি পটিয়া যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত হিসেবে পরিচিত। টিনশেড ছাউনি, বাঁশের বেড়ার ১৩৮ বছরের পুরোনো আদালতটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে।  যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

টিনের ছাউনির ছিদ্র দিয়ে বর্ষায় বৃষ্টির পানি ঢুকে নষ্ট হচ্ছে হচ্ছে নথিপত্র।আদালতের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুত লাইন থেকে ঘটতে পারে বড় দূর্ঘটনা।

পটিয়া আদালতের ছয়টি কোর্টে প্রায় ৩০ হাজারের অধিক মামলা রয়েছে। পটিয়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও  কর্ণফুলী উপজেলার ১৫লাখের অধিক মানুষের জন্য এই আদালতই ভরসা। মূলত জমিসংক্রান্ত মামলা ও মারামরিসহসহ মামলাগুলোর জন্য দক্ষিন চট্টগ্রামের লোকজন পটিয়া আদালতের উপর নির্ভরশীল।

ব্রিটিশ আমলে নির্মিত পটিয়া আদালতটি ৬তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য কয়েক বছর আগে ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও পরবর্তীতে এই বরাদ্দ বাতিল করা হয়। প্রশাসনিক জটিলতা ও বিচার বিভাগের কিছু ভুল ত্রুটির কারণে পটিয়া যুগ্ম জেলা জজ আদালতের ৬তলা ভবনটির বরাদ্দ বাতিল হয় বলে আইনজীবীরা জানান।

১৯৮৫ সালে গণপূর্ত বিভাগ জরাজীর্ণ আদালত ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণাও করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে তৎকালীন আইনমন্ত্রী মির্জা হাফিজ উদ্দিন ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আদালত ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও ওই সময়ের যোগাযোগমন্ত্রী কর্নেল অলি আহমদ (বীরবিক্রম) ওই বরাদ্দ বাতিল করে তাঁর নিজের এলাকায় গাছবাড়িয়া সরকারী কলেজের ভবনের জন্য নিয়ে যান।

জানা গেছে, ব্রিটিশ সরকার ১৮৮২ সালে পটিয়ায় আদালত কার্যক্রম শুরু করে।

পটিয়াসহ মোট ছয়টি আদালতের মধ্যে পটিয়া প্রথম, দ্বিতীয়, অতিরিক্ত আদালত এবং বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী আদালতে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজারের অধিক মামলা বিচারাধীন।  বিচারকের এজলাস, চেম্বার, বাসভবন সমস্যাও দীর্ঘদিনের।

২০১০ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ও পটিয়া পৌর সদরের সুচক্রদন্ডী গ্রামের নিবাসী ফজলুল করিমকে পটিয়া আইনজীবী সমিতির এক সংবর্ধনায় পটিয়া আদালতের বহুতল ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ৬ তলাবিশিষ্ট প্রায় ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও অদৃশ্য কারণে অর্থ মন্ত্রণালয় ফাইল আটকে রাখে। যার কারণে ভবন নির্মাণের কাজ আর শুরু করা যায়নি। তবে পটিয়ার সংসদ সদস্য ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরী বিভিন্ন সময় আইনজীবীদের পটিয়া আদালত ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে আইনজীবীরা জানান।

পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পটিয়ার ঐতিহ্য রক্ষার্থে নতুন আদালত ভবন জরুরী। তিনিও নতুন আদালত ভবন নির্মানে স্থানীয় সাংসদ ও হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

পটিয়া যুগ্ম ও দায়রা জজ আদালত আইনজীবী সমিতির সভাপতি দীপক কুমার শীল জানিয়েছেন, আদালতের টিন শেড ছিদ্র হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ার কারণে মামলার নথি নষ্ট হচ্ছে। বিচারকদের খাসকামরা, চেম্বার, বাসভবন, রাস্তা ও আদালত ভবনসহ বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় বিচারক, আইনজীবি ও আদালতের সংশ্লিষ্টরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাস্তাঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করছেন। ১৩৮ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী পটিয়া আদালতে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য আইনজীবীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়রা বলেন, বর্তমান ভূমিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপ এই এলাকার মানুষ। তারা এই আদালতের উন্নয়নে কাজ করলে শীঘ্রই পটিয়া আদালতের সমস্যাগুলো দূর হবে। এবং এলাকার বিচার প্রার্থীদের কষ্ট লাঘব হবে।