নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বের সেরা ১০০ বন্দরের তালিকায় ৯ ধাপ পেছাল চট্টগ্রাম

সিপ্লাস প্রতিবেদক: এক বছরের ব্যবধানে বিশ্বের সেরা ১০০ কনটেইনার পোর্টের তালিকায় ৯ ধাপ পিছিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।

লন্ডনভিত্তিক শিপিংবিষয়ক বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো সংবাদমাধ্যম লয়েড’স লিস্টে একটানা সাত বছর বৈশ্বিক ক্রমতালিকায় এগিয়ে যাওয়ার পর এবারই ছন্দপতন ঘটল।

সোমবার (২৩ আগস্ট) রাতে তালিকাটি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

২০২১ সালে সারা বিশ্বের বন্দরগুলোর ব্যস্ততা অর্থাৎ কনটেইনার পরিবহনের সংখ্যা হিসাব করে শীর্ষ ১০০টি বন্দরের তালিকা তৈরি করেছে লয়েডস লিস্ট।  সেখানে বাংলাদেশের গেটওয়ে খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৬৭তম স্থানে।

লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার পরিবহন কমেছে ৮ শতাংশ। গত বছর বিশ্বে ৬৩ কোটি ২০ লাখ একক কনটেইনার পরিবহন হয়েছে। এই সংখ্যা ২০১৯–এর তুলনায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কম।

জার্নালটির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টিইইউএস কনটেইনার পরিচালনা করেছে। তারে আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে ৩০ লাখ ৮৮ হাজার ১৮৭ টিইইউ কনটেইনার পরিচালনা করেছে। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দরে ৮ শতাংশ কনটেইনার পরিচালনা কমে গেছে।

২০২০ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৫৮ তম, ২০১৯ সালে ৬৪ তম, ২০১৮ সালে ৭০ তম, ২০১৭ সালে ৭১ তম, ২০১৬ সালে ৭৬ তম ও ২০১৫ সালে ৮৭ তম স্থান দখল করে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ বন্দর।

লয়েডস লিস্টের তালিকায় বন্দরের সেবার মান বিবেচনা করা হয় না। বন্দরটি দিয়ে কনটেইনারে বৈদেশিক বাণিজ্য কমেছে বলেই তালিকায় পেছিয়ে এ বন্দর। ২০১৩ সালে কনটেইনার পরিবহনে বিশ্বে চট্টগ্রামের অবস্থান ৮৬তম থেকে টানা সাত বছর এগিয়ে গেছে এই বন্দর।

অবশ্য লয়েডস লিস্টের তালিকায় বরাবরের মতো শীর্ষে রয়েছে চীনের সাংহাই। এর পরের অবস্থানে আছে সিঙ্গাপুর বন্দর। এ তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ ১০ বন্দরের মধ্যে ৭টিই চীনের।

১৭৩৪ সালে প্রতিষ্ঠিত লয়েড’স লিস্ট শিপিংবিষয়ক বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো সংবাদমাধ্যম। ১৭৩৪ সালে লন্ডনের কফি শপের পত্রিকা হিসেবে যাত্রা শুরু হয়েছিল লয়েড’স লিস্টের। জাহাজ ও এ সংক্রান্ত ব্যবসায় বাণিজ্যের নানা খবর ও বিশ্লেষণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আধিপত্য ধরে রাখা প্রতিষ্ঠানটি পত্রিকার প্রিন্ট সংস্করণ বন্ধ করে ইন্টারনেটনির্ভর সংস্করণ চালু করে।

এদিকে গত বছরের মত এবারও তালিকার শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে চীনের সাংহাই বন্দর। সেরার তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানটি সিঙ্গাপুর পোর্টের। তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, অষ্টম ও নবম অবস্থান অর্জন করেছে যথাক্রমে চীনের নিংবো-ঝওশান, শেনজেন, গোয়াংজু, হংকং পোর্ট, কুইংদাও, তিয়ানজিন পোর্ট।

অন্যদিকে সপ্তম অবস্থানে আছে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান বন্দর এবং ১০ নম্বরে নেদারল্যান্ডসের রটারডম বন্দর।

এই তালিকায় মোট ২৫টি চীনা বন্দর স্থান পেয়েছে। তালিকায় থাকা ভারতের দুই বন্দর জওহরলাল নেহেরু বন্দর ৩৯তম এবং মুন্ড্রা ২৬ তম অবস্থানে আছে। পাকিস্তানের করাচি বন্দরের থেকে চট্টগ্রাম বন্দর ১৯ ধাপ এগিয়ে আছে। করাচির অবস্থান ৮৬তম।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে যত পণ্য পরিবহন হয়, তার ২৭ শতাংশ কনটেইনারে আনা নেওয়া হয়। বাকি ৭৩ শতাংশই আনা নেওয়া হয় কনটেইনারবিহীন সাধারণ জাহাজে। সাধারণ জাহাজের (বাল্ক, ব্রেক বাল্ক ও ট্যাংকার) খোলে আমদানি হয় মূলত সিমেন্ট, ইস্পাত ও সিরামিক কারখানার কাঁচামাল এবং পাথর, কয়লা, ভোগ্যপণ্য ও জ্বালানি তেল। পরিমাণে এক–চতুর্থাংশ পণ্য পরিবহন হলেও কনটেইনারে বেশির ভাগ শিল্পের কাঁচামাল, বাণিজ্যিক পণ্য ও ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়। আবার সমুদ্রপথে রপ্তানির পুরোটাই যায় কনটেইনারে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের মোট কনটেইনার পরিবহনের ৯৮ শতাংশ পরিচালনা করে। বাকিগুলো পরিচালনা করে মংলা বন্দর।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments